Darul Ifta, Rahmania Madrasah Sirajganj

ভাষা নির্বাচন করুন বাংলা বাংলা English English
ফাতাওয়া খুঁজুন

পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে অসিয়ত পালনে নতুন করে চিন্তা করার সুযোগ আছে কি?

ফতওয়া কোডঃ 163-ওও-13-12-1443

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম, আম্মা মারা যাওয়ার আগে বলে গেছিলেন যে, আমাদের বাড়ির পাশের দেড় কাঠা জমি আম্মা পাশের প্রতিবেশী রফিক ভাইদের কাছে বিক্রি করবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। এর শর্ত ছিলো, তারা যখন বাড়ি করবে এবং সমসাময়িক বাজার দর অনুযায়ি ন্যায্য মুল্য দিবে।

২০১১ সালে আম্মার ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং সেই বছর ২ নভেম্বর আম্মা ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকাল করার আগে আম্মা একাধিকবার ওনার একাধিক আত্মীয়কে এই জমি বিক্রি করার কথা বলে যান। উনি আমার আব্বা, ও আমার ভাইবোনদেরও এই কথা বলে যান যে, “রফিক ভাইদের এই জমিটা ওদের দিয়ে দিস যদি ওরা বাড়ি করে এবং ন্যায্য দাম দিতে চায়।” এই অবস্থায় ওরা বাড়ি করতে চাচ্ছেন এবং জমির ন্যায্য দামও দিতে চাচ্ছেন। এমতাবস্থায়, এই জমি বিক্রয় করার ব্যাপারটি কি ওয়াসিওতের পর্যায়ে পড়ে?

জমির বর্তমান ওয়ারিশদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকিরা বিক্রিতে রাজি। রাজি না হওয়ার কারন হিসাবে তাঁর মতামত নিম্নরুপ যে, আমাদের মায়ের অসিয়ত ছিলঃ “জমিটা তাদের বিক্রির সময়ের বাজার দর অনুযায়ি ন্যায্য মূল্যে দিবি যখন তারা সেখানে বাড়ি করবে।” (আল্লাহ যেন আমার অনিচ্ছাকৃত ভুল ক্ষমা করেন)। মা বেচে থাকাকালিন তাদের ব্যবহার যেমন ছিলো এখন তেমন নাই। বর্তমানে তারা প্রতিবেশি হিসাবে খারাপ ব্যবহার করে। এছাড়াও আরো কিছু বিষয় হলঃ এখন তাদের কাছে সেই পরিমান টাকা আছে বলে প্রতীয়মান হয় নাই যা দিয়ে তারা ‘নগদ’ ২১ লাখ টাকা দিয়ে জমি কিনে আবার বাড়িও করবে। এতে যা বোঝা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে জমির মূল্য বেড়ে যাবার যে নিশ্চিত সম্ভবনা, সেই জন্য এখন তারা জমিটা কিনে রেখে দিতে চায়। যা কিনা আমাদের মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ছিল। কোন সন্তান যদি সম্পদটি রাখতে চায়, তারপরও কি দিয়ে দিতে হবে?

এখানে উল্লেখ্য যে, আম্মা যখন সম্পদটি দিয়ে দিতে বললেন তখন আমাদের মধ্যে কেউ এটা রাখার ইচ্ছা পোষণ করার মত ছিল না। কিন্ত রাখার ইচ্ছা পোষণ করলে কি তারপরও আম্মা না করতেন সেটা আমরা কেউ জানি না। কিন্তু আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হচ্ছে, এমন গঠনমূলক পরিকল্পনা আম্মার মত মানুষ কখনও না করতেন না। মা যে সময় অসিয়ত করে গেছেন, সেই সময়ে তাদের আচরণ যেমন ছিল, এখন তা বিদ্যমান না থাকলেও কি অসিয়ত বাধ্যতামূলক পূরণ করতে হবে?

জমির বর্তমান ওয়ারিশের মধ্যে আরেকজন উপরের বক্তব্যের উপর আপত্তি জানিয়েছেন যে, “উপরের কথায় আমার আপত্তি আছে। যেমন, জমি কিনে তারা রেখে দিবে। এইটা ওরা করবেনা। ওরা বাড়ি করার ব্যাপারে দ্রুত করতে চাইছিল, সেজন্য পাইলিং এর কাজও করতে চাইছিল তাড়াতাড়ি। এইটার তথ্যসূত্র দেলোয়ার কাকা। আমি ওদের এই প্রস্তাব নাকচ করে দিই। আমি জানিয়ে দেই যে, যা করার সব রেজিস্ট্রি করার পর। আগেনা। ফাইনাল প্রশ্নের ব্যাপারে আমার আপত্তি নাই। আর ইসলামী শরিয়া মোতাবেক ফয়সালা যা হবে সেইটা আমি মেনে নেবো।

উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে মুফতী সাহেবের প্রতি প্রশ্নঃ পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে অসিয়ত পালনে নতুন করে চিন্তা করার সুযোগ কতটুকু? অর্থাৎ, অসিয়ত পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ কি আছে? যদি থাকে তাহলে কখন তা করা যায়? এই অসিয়ত এবং জমি নিয়ে শরিয়ত সম্মত বিধান কি?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

প্ৰশ্নের বিবরন দ্ধারা বোঝা যাচ্ছে উক্ত মহিলাটি যখন মারা গেছে তখন তার স্বামী জীবিত ছিলো, আর স্বামী বেচে থাকাকালীন মহিলা (স্ত্ৰী) কোন সম্পদের মালিক হয়না, সুতরাং উপরক্ত বিবরন অনুযায়ী মহিলা (আপনাদের আম্মা) কৰ্তৃক উক্ত জমিটি বিক্ৰি করার অসিয়ত করাটা শরিয়ত সম্মত নয়। এবং তা অসিয়তের অন্তৰ্ভুক্তও হয়নি।

কেননা অসিয়ত হলো নিজস্ব সম্পত্তিতে সাওয়াবের আশায় মৃত্যুর পরে কারো জন্য মালিকানা সাব্যস্থ করা। আর মহিলাটি উক্ত জমির মালিক‌ই নয়। সুতরাং তার অসিয়ত‌ই শুদ্ধ হয়নি।

আর যদি উক্ত জমিটি মহিলা তার পৈত্ৰিক সূত্ৰে ওরাছাত হিসেবে বা ক্রয় সুত্রে মালিক হয় তথাপিও মহিলার উক্ত কথা টি “সমসাময়িক নায্য মূল্যে বাড়ি করার জন্য রফিক সাহেবের কাছে বিক্ৰি করার অসিয়ত করাটা” অসিয়ত এর অন্তৰ্ভুক্ত হয়নি। কেননা অসিয়তের অর্থ হলো تبرعا বা পরকালীন সাওয়াবের আশায় নিজের সমপত্তিতে কাওকে মালিক বানিয়ে দেওয়া। এখানে মালিক বানানো হয়নি। বরং তার কাছে বিক্ৰি করার কথা বলা হয়েছে, সুতরাং তা অসিয়তের অন্তৰ্ভুক্ত হয়নি।

তবে البيع بالوعدة এর পৰ্যায়ে পরে। অৰ্থাৎ কেমন যেন রফিক সাহেব এর কাছে উক্ত জমিটি বিক্ৰিটি করার ওয়াদা করেছেন। আর মৃত ব্যক্তির ওয়াদা পূরন করাটা তার ওয়ারিশদের জন্য আবশ্যকীয় নয়। সুতরাং উক্ত জমিটি বিক্ৰি করা বা না করা ওয়ারিশদের ইচ্ছাধীন।

আর যদি মহিলার কথাটি অসিয়ত হিসাবে গন্য করা হয় তথাপিও উক্ত জমিটি সম্পূৰ্ন বিক্ৰি করা আবশ্যক নয়। কেননা অসিয়ত সম্পদের এক তৃতীয়াংশে পালন করা মুস্তাহাব। নামাজ, রোজা, হজ এগুলোর অসিয়ত পুরন করা আবশ্যকীয়, সুতরাং বেশীর থেকে বেশী উক্ত জমিটির তিন ভাগের এক ভাগ রফিক সাহেবের কাছে বিক্ৰি করা মুস্তাহাব।

সুত্রসমূহ

بدائع الصنائع: فالوصية اسم لما اوجبه الموصي في ماله بعد موته

الموسوعة الفقهية: باب حروف الواو, تعريف الوصية

الدر المختار والحاشية ابن عابدين: كتاب الوصايا

الفتاوي الهندية: كتاب الوصايا, الباب الاول

الفتاوي الهندية: كتاب الوصايا, الباب الاول

فتاوي محمودية: 30/330

الدر المختار مع الشامي: 6/60

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 303 জন।