Darul Ifta, Rahmania Madrasah Sirajganj

ভাষা নির্বাচন করুন বাংলা বাংলা English English
ফাতাওয়া খুঁজুন

নির্বাচনকে জিহাদ বলা কেমন?

ফতওয়া কোডঃ 177-সিজি-18-03-1444

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম, নির্বাচনকে জিহাদ বলা যাবে কি?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

গণতন্ত্র ইসলাম সম্মত নয়। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কখনোই পরিপূর্ণ ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। কেননা গণতন্ত্র একটি মানব রচিত মতবাদ। এর মানে জনগণ নিজেই নিজেকে শাসন করা। তাই এটি ইসলাম বিরোধী মতবাদ। শাসনের অধিকার সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহর অধিকার। কোন মানুষকে আইন প্রণয়ন করার অধিকার দেয়া জায়েয নেই; সে মানুষ যেই হোক না কেন।

তাই নির্বাচনকে দুই দিক দিয়ে লক্ষ করে জিহাদ বলা নাজায়েয। ১. নির্বাচনকে শ্রেষ্ঠ জিহাদ বলা, ২. হালালকে হারাম মনে করা। যে ব্যক্তি গণতান্ত্রিক সরকার পদ্ধতির প্রকৃত অবস্থা জানে, ইসলামে গণতন্ত্রের হুকুম কি সেটা জানে, তারপরও এ পদ্ধতিকে স্বীকৃতি দিয়ে নিজেকে কিংবা অন্য কাউকে নির্বাচিত করে সে ব্যক্তি ভয়াবহ শংকার মধ্যে আছে।

কারণ, গণতান্ত্রিক পদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে ইসলাম বিরোধী। তবে যে ব্যক্তি এ পদ্ধতির অধীনে নিজেকে কিংবা অন্য কাউকে এ জন্য নির্বাচিত করে যাতে করে এ আইনসভাতে ঢুকে এর বিরোধিতা করা যায়, এ পদ্ধতির বিপক্ষে দলিল প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়, সাধ্যানুযায়ী অকল্যাণ ও দুর্নীতি রোধ করা যায় এবং যেন গোটা ময়দান দুর্নীতিবাজ ও নাস্তিকদের হাতে চলে না যায়, যারা জমিনে দুর্নীতি ছড়িয়ে দেয়, মানুষের দ্বীন ও দুনিয়ার সমূহ কল্যাণ নস্যাৎ করে দেয়।

তবে এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কল্যাণের দিক বিবেচনা করে ইজতিহাদ করার তথা বিবেক-বিবেচনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ রয়েছে। কেননা আমাদের দেশের অবস্থা এমন দাঁড়িয়ে গেছে যে, হুট করেই এ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়, তাই এ ব্যাপারে চেষ্টা ও ফিকির সর্বদা করা উচিত। কিন্তু সেই সাথে গণতন্ত্র ইসলাম সম্মত নয় বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকার দ্বারা যদি ইসলাম বিরোধী শক্তি ক্ষমতায় আসবে, আর ইসলামের আরো বেশি ক্ষতি করতে শুরু করে দিবে, তাই সামর্থবান ব্যক্তি হাত গুটিয়ে বসে থাকা জন্য অনুচিত। যেমন- وَإِنَّا سَمِعْنَا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوُا الظَّالِمَ فَلَمْ يَأْخُذُوا عَلَى يَدَيْهِ، أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابٍ হযরত আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন। যদি লোকেরা জালিম ব্যক্তিকে দেখেও তাকে বাঁধা না দেয়, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাদের সবার উপর আযাব নাজিল করে দিতে পারেন।

নিজের চোখের সামনে জালিম ও ইসলাম বিদ্বেষী নির্বাচিত হয়ে এসে জুলুমের ষ্টীমরোলার মুসলমানদের উপর চালালে, ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে, যে ব্যক্তি নির্বিকার বসে থাকে, মাজলুমের সহায়তা করে জালিমের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ না করে থাকে, উক্ত ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে লাঞ্ছিত হবে। হাদীসে ইরশাদ হচ্ছে- عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ أُذِلَّ عِنْدَهُ مُؤْمِنٌ فَلَمْ يَنْصُرْهُ، وَهُوَ يقَدِرُ عَلَى أَنْ يَنْصُرَهُ أَذَلَّهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ রসূলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তির সামনে কোন মুমিনকে অপমান করা হয়, অথচ তাকে সহায়তা করার ক্ষমতা উক্ত ব্যক্তির থাকা সত্বেও সে তাকে যদি সাহায্য না করে, তাহলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে সবার সামনে লাঞ্ছিত করবেন।

ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো সম্পর্কে যতটুকু জানাশোনা আছে তা থেকে বলছি, কেউই প্রচলিত গণতন্ত্রকে হালাল মনে করেনা, হারাম মনে করেই অপারগতার কারণে অংশগ্রহণ করে মাত্র। আর এতদসংশ্লিষ্ট কাজকে জিহাদ আখ্যা দেন শাব্দিক অর্থে। হাকিকী অর্থে নয়। আর জিহাদের শাব্দিক অর্থ হল, ন্যায়ের জন্য সংগ্রাম, প্রচেষ্টা, সাধনা করা। হাকিকী অর্থে বললে অবশ্যই ভুল ও নাজায়েয হবে।

সুত্রসমূহ

سنن أبي داود: رقم 4338  وإنَّا سمِعنا النَّبيَّ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم يقولُ : إنَّ النَّاسَ إذا رأَوُا الظَّالمَ فلم يأخُذوا على يدَيْه أوشك أن يعُمَّهم اللهُ بعقابٍ وإنِّي سمِعتُ رسولَ اللهِ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم يقولُ : ما من قومٍ يُعمَلُ فيهم بالمعاصي ، ثمَّ يقدِرون على أن يُغيِّروا ، ثمَّ لا يُغيِّروا إلَّا يوشِكُ أن يعُمَّهم اللهُ منه بعقابٍ

واخرجه مسند احمد و سنن الترمذي و الصحيح ابن حبان

مسند أحمد: رقم 15985 عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ أُذِلَّ عِنْدَهُ مُؤْمِنٌ فَلَمْ يَنْصُرْهُ، وَهُوَ يقَدِرُ عَلَى أَنْ يَنْصُرَهُ أَذَلَّهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

المعجم الكبير للطبراني: رقم 5554 عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ أُذِلَّ عِنْدَهُ مُؤْمِنٌ فَلَمْ يَنْصُرْهُ، وَهُوَ يقَدِرُ عَلَى أَنْ يَنْصُرَهُ أَذَلَّهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 166 জন।