Darul Ifta, Rahmania Madrasah Sirajganj

ভাষা নির্বাচন করুন বাংলা বাংলা English English
ফাতাওয়া খুঁজুন

Darul Ifta, Rahmania Madrasah Sirajganj, Bangladesh.

কওমী আলেমরা তাদের উস্তাদদেরকে আকাবির বলছেন, এটা কি ঠিক?

ফতওয়া কোডঃ 172-আআ-09-02-1444

প্রশ্নঃ

এক আলেম প্রশ্ন করেছেন “কওমী আলেমরা তাদের উস্তাদদেরকে আকাবির বলছেন। আরবিতে আকাবির শব্দটি আকবার শব্দের বহুবচন। আকবার শব্দের অর্থ হলো সবচেয়ে বড়। যা শুধুমাত্র মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। আকাবির শব্দটি যেখানে কোন নবী, রাসুল এবং সাহাবিদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলো না সেখানে কওমি আলেমরা তাদের উস্তাদদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করছেন কেন?” আমি এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই!

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

মূলত اكبر শব্দটি الكبر থেকে اسم تفضيل এর সীগা (শব্দ)। যা আধিক্যতা বোঝায়। আর এই শব্দটি আল্লাহ তাআলার সত্ত্বাগত নাম বা গুন বাচক নাম হিসেবে গন্য করা হয়না। শরীয়ত কৰ্তৃক যে ধরনের নাম বা গুনবাচক শব্দ বান্দাদের জন্য রাখা নিষেধ অথবা একমাত্ৰ আল্লাহ তাআলার জন্য বিশেষিত হিসাবে গন্য করা হয়, যা বান্দাদের জন্য রাখা নিষেধ তার অন্তৰ্ভুক্তও নয়।

اكبر শব্দটি যেমন মহান আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্ৰে ব্যবহার হয়, তদ্রুপ অন্য ক্ষেত্ৰেও ব্যবহার হয়ে থাকে। যেমন বুখারী শরীফের এক হাদীসে রসুলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ الا اخبركم باكبر الكباءر,قالوا بلي يا رسول الله. উক্ত হাদীসে রসুলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম اكبر শব্দটি গুনাহ এর একটি প্ৰকার বুঝানোর জন্য ব্যবহার করেছেন। অনুরুপ ভাবে একটি মাসনুন দুআতে বৰ্নিত আছেঃ اللهم لا تجعل الدنيا اكبر همنا উক্ত দুআতে اكبر শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে هم. শব্দ এর সিফাত (গুণ) হিসাবে। তেমনি ভাবে ফিকহের কিতাবাদিতে হদস এৱ ক্ষেত্ৰেও اكبر শব্দটি ব্যবহার হয়ে থাকে যেমন حدث اكبر (বড় নাপাক)।

সুতরাং اكبر শব্দটি শুধুমাত্ৰ মহান আল্লাহ তাআলার জন্য খাস নয়, অন্য ক্ষেত্ৰেও ব্যবহার করা যাবে। আর اكبر শব্দের বহুবচন হলো আকাবির। সুতরাং বড় বড় আলেমদের ক্ষেত্ৰে তাদের মান-মৰ্যদা ও গুরুত্ব বুঝানোর জন্য আকাবির বলা কোন দোষনীয় কাজ নয়।

উল্লেখ্য যে, নবী-রসুলদের মর্যাদা অনেক উপরের হওয়ায় তাদের শানে আকাবির শব্দ ব্যবহারে প্রয়োজন নেই, তবে পুর্ববর্তী যোগ্যদের ও সাহাবায়ে কিরামগনের সম্মানে আকাবির শব্দের ব্যবহার হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

সুত্রসমূহ

صحيح البخاري: 6273 قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ألا أخبركم بأكبر الكبائر . قالوا : بلى يا رسول الله ، قال الإشراك بالله ، وعقوق الوالدين ، وكان متكئا فجلس

السنن الترمذي: 3502 اللهمَّ اقسِمْ لنا مِنْ خشيَتِكَ ما تحولُ بِهِ بينَنَا وبينَ معاصيكَ ، ومِنْ طاعَتِكَ ما تُبَلِّغُنَا بِهِ جنتَكَ ، ومِنَ اليقينِ ما تُهَوِّنُ بِهِ علَيْنَا مصائِبَ الدُّنيا ، اللهمَّ متِّعْنَا بأسماعِنا ، وأبصارِنا ، وقوَّتِنا ما أحْيَيْتَنا ، واجعلْهُ الوارِثَ مِنَّا ، واجعَلْ ثَأْرَنا عَلَى مَنْ ظلَمَنا ، وانصرْنا عَلَى مَنْ عادَانا ، ولا تَجْعَلِ مُصِيبَتَنا في دينِنِا ، ولَا تَجْعَلْ الدنيا أكبرَ هَمِّنَا ، ولَا مَبْلَغَ عِلْمِنا ولَا تُسَلِّطْ عَلَيْنا مَنْ لَا يرْحَمُنا

المعجم الأوسط للطبراني: 8991 البَرَكةُ مع أكابِرِكم

صحيح ابن حبان: 559 البَرَكةُ مع أكابِرِكم

فتاویٰ شامی: 5/532 قال فی الدر ویستحب الترضی للصحابة والترحم للتابعین و من بعدہم من العلماء ․․․․․․․وکذا یجوز عکسہ

الهداية: مكمل

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 204 জন।

অভিভাবক ছাড়াও বিবাহ শুদ্ধ হয়!

ফতওয়া কোডঃ 171-বি-26-01-1444

প্রশ্নঃ

যদি বিয়ের জন্য ছেলের ফ্যামিলি রাজি থাকে, কিন্তু মেয়ের ফ্যামিলি রাজি না থাকে, তবে বিয়ের জন্য যদি ছেলে মেয়ে উভয় জনই রাজি থাকে এবং মেয়ের ফ্যামিলির যদি বাবা মা বা বড় ভাই কেহ রাজী যদি না থাকে, তারা যদি উভয় জনই নিজেরা নিজেরা বিয়ে করে নেয় তাহলে কি বিয়েটা হালাল হবে?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

যদি দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক বুঝদার সাক্ষীর সামনে প্রাপ্ত বয়স্ক পাত্র ও পাত্রি যদি প্রস্তাব দেয় এবং অপরপক্ষ তা গ্রহণ করে নেয়, তাহলে ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যায়। অভিভাবকের সম্মতি থাকুক বা না থাকুক। অভিভাবক জানুক বা না জানুক। তবে যদি কুফু ছাড়া বিবাহ করে, তথা এমন পাত্রকে বিবাহ করে, যার কারণে মেয়ের পারিবারিক সম্মান বিনষ্ট হয়, তাহলে পিতা সে বিয়ে আদালতের মাধ্যমে ভেঙ্গে দিতে পারবে। যদি কুফুতে বিবাহ করে, তাহলে পিতা এ অধিকারও পাবে না।

হযরত আয়শা রা. থেকে বর্ণিতঃ রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে মহিলাকে তার অভিভাবক বিয়ে দেয়নি, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল। অভিভাবক ছাড়া মহিলা কর্তৃক বিয়ে সম্পন্ন না হওয়ার হাদীসটি হযরত আয়শা সিদ্দিকা রাঃ এর। অথচ খোদ আয়শা রাঃ তার ভাই আব্দুর রহমানের মেয়ে হাফসাকে তার অভিভাবক আব্দুর রহমানকে ছাড়াই নিজে বিয়ে দিয়েছিলেন মুনজির বিন যুবায়েরের সাথে।

সুতরাং বুঝা গেল যে, উক্ত হাদীস দ্বারা খোদ বর্ণনাকারী হযরত আয়শা রাঃ নিজেই বিবাহ শুদ্ধ হয় না একথা বুঝাননি। বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, বিয়ে অসম্পূর্ণ হয় অভিভাবক ছাড়া। কারণ, যে অভিভাবক মেয়েকে লালন পালন করল, তাকে না জানিয়ে বিয়ে করাটাতো অসম্পূর্ণই। তাই বলা হয়েছে তা বাতিল। বাতিল মানে অসম্পূর্ণ।

সুতরাং উপরে প্রশ্নের বর্ননা মতে তারা যদি প্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ের প্রস্তাব ও প্রস্তাব গ্রহণ সম্পন্ন করে থাকেন, তাহলে তাদের বিয়ে ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক শুদ্ধ হয়ে গেছে। যদিও তাদের পরিবার কিছুই জানে না। কিংবা যদি তারা অনুমতি নাও দিয়ে থাকে।

সুত্রসমূহ

صحيح مسلم: 1421 عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ؛ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «الْأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا.

المصنف لابن أبي شيبة: 15953 عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: ” جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أَبِي وَنِعْمَ الْأَبُ هُوَ، خَطَبَنِي إِلَيْهِ عَمُّ وَلَدِي فَرَدَّهُ، وَأَنْكَحَنِي رَجُلًا وَأَنَا كَارِهَةٌ. فَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أَبِيهَا، فَسَأَلَهُ عَنْ قَوْلِهَا، فَقَالَ: صَدَقَتْ، أَنْكَحْتُهَا وَلَمْ آلُهَا خَيْرًا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا نِكَاحَ لَكِ، اذْهَبِي فَانْكِحِي مَنْ شِئْتِ

سنن ابن ماجه: 1874 عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: جَاءَتْ فَتَاةٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: ” إِنَّ أَبِي زَوَّجَنِي ابْنَ أَخِيهِ، لِيَرْفَعَ بِي خَسِيسَتَهُ، قَالَ: فَجَعَلَ الْأَمْرَ إِلَيْهَا، فَقَالَتْ: قَدْ أَجَزْتُ مَا صَنَعَ أَبِي، وَلَكِنْ أَرَدْتُ أَنْ تَعْلَمَ النِّسَاءُ أَنْ لَيْسَ إِلَى الْآبَاءِ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ “

سنن أبي داود: 2096 حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: ” أَنَّ جَارِيَةً بِكْرًا أَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَذَكَرَتْ أَنَّ أَبَاهَا زَوَّجَهَا وَهِيَ كَارِهَةٌ فَخَيَّرَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ”

سنن أبي داود: 1879 عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا، فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ»، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ «فَإِنْ دَخَلَ بِهَا فَالْمَهْرُ لَهَا بِمَا أَصَابَ مِنْهَا، فَإِنْ تَشَاجَرُوا فَالسُّلْطَانُ وَلِيُّ مَنْ لَا وَلِيَّ لَهُ»

المصنف لابن أبي شيبة: 15955 أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، زَوَّجَتْ حَفْصَةَ بِنْتَ عَبْدِ الرَّحْمنِ، الْمُنْذِرَ بْنَ الزُّبَيْرِ. وَعَبْدُ الرَّحْمنِ غَائِبٌ بِالشَّأْمِ.

إعلاء السنن: 11/65-70

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 211 জন।

যে জাতী যেমন আল্লাহ তাআলা সেই জাতীর উপর তেমন শাসক চাপিয়ে দেন?

ফতওয়া কোডঃ 170-হাসু-22-01-1444

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, মুহতারম! আমাদের সমাজে একটি কথা হাদিস হিসেবে প্রসিদ্ধ আছে যে, “যে জাতি যেমন আমল করে আল্লাহ তাআলা সেই জাতির উপর সেই রকম শাসক চাপিয়ে দেন”। তো আমার জানার বিষয় হল হুবাহু এই শব্দে বা কাছাকাছি অর্থে এরকম কোন কথা হাদিসে আছে কিনা৷ থাকলে তাহকিক সহ বিষয়টি জানিয়ে বাধিত করবেন। যদি জালও হয় সেটিরও তাহকিক জানালে ভাল হয়।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

আমাদের সমাজে একটি কথা হাদিস হিসেবে প্রসিদ্ধ আছে যে, “যে জাতি যেমন আমল করে আল্লাহ তাআলা সেই জাতির উপর সেই রকম শাসক চাপিয়ে দেন”। হুবাহু এই শব্দে বা কাছাকাছি অর্থে এরকম অনেক হাদিসে আছে। তবে হাদীসগুলো দূর্বল।

সুত্রসমূহ

سورة الروم: 41 ظَهر الْفَسَادُ فِی الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا کَسَبَتْ أَیْدِیْ النَّاسِ لِیُذِیْقَهم بَعْضَ الَّذِیْ عَمِلُوْا لَعَلَّهم یَرْجِعُوْنَ

سورة الشوریٰ: 30 وَمَآ أَصَابَکُمْ مِّنْ مُّصِیْبَةٍ فَبِمَا کَسَبَتْ أَیْدِیْکُمْ وَیَعْفُوْا عَنْ کَثِیْرٍ

مشكاة المصابيح: وعن أبي الدرداء قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : ” إن الله تعالى يقول : أنا الله لا إله إلا أنا مالك الملوك وملك الملوك، قلوب الملوك في يدي، وإن العباد إذا أطاعوني حولت قلوب ملوكهم عليهم بالرحمة والرأفة، وإن العباد إذا عصوني حولت قلوبهم بالسخطة والنقمة، فساموهم سوء العذاب فلا تشغلوا أنفسكم بالدعاء على الملوك، ولكن اشغلوا أنفسكم بالذكر والتضرع كي أكفيكم ملوككم ” . رواه أبو نعيم في ” الحلية

كشف الخفاءت هنداوي: 2/149 حضرت حسن بصری رح سے منقول ہے : “أعمالكم عمالكم، وكما تكونوا يولى عليكم”. یعنی تمہارے حکم راں تمہارے اعمال کا عکس ہیں ۔ اگر تمہارے اعمال درست ہوں گے تو تمہارے حکم راں بھی درست ہوں گے ، اگر تمہارے اعمال خراب ہوں گے تو تمہارے حکام بھی خراب ہوں گے۔

منصور ابن الاسود رحمہ اللہ کہتے ہیں کہ میں نے امام اعمش رحمہ سے اس آیت ﴿وَكَذَلِكَ نُوَلِّي بَعْضَ الظّٰلِمِينَ بَعْضاً﴾کے بارے میں کیا سنا ہے؟ آپ نے فرمایا کہ میں نے صحابہ رضوان اللہ علیہم سے اس بارے میں سنا کہ : جب لوگ خراب ہوجائیں گے تو ان پر بدترین حکم ران مسلط ہوجائیں گے”۔

امام بیہقی نے حضرت کعب رضی اللہ تعالیٰ سے ایک روایت نقل کی ہے کہ : اللہ تعالیٰ ہر زمانہ کا بادشاہ اس زمانہ والوں کے دلوں کے حالات کے مطابق بھیجتے ہیں۔

خلاصہ یہ ہے کہ رعایا کے ساتھ حکم رانوں کے رویہ کا تعلق باطنی طور پر لوگوں کے اعمال وکردار سے ہوتا ہے کہ اگر رعایا کے لوگ اللہ کی اطاعت و فرمان برداری کرتے ہیں اور ان کے اعمال ومعاملات بالعموم راست بازی ونیک کرداری کے پابند ہوتے ہیں تو ان کا ظالم حکم ران بھی ان کے حق میں عادل نرم خو اور شفیق بن جاتا ہے اور اگر رعایا کے لوگ اللہ کی سرکشی وطغیانی میں مبتلا ہو جاتے ہیں اور ان کے اعمال ومعاملات عام طور پر بد کر داری کے سانچے میں ڈھل جاتے ہیں تو پھر ان کا عادل ونرم خو حکم ران بھی ان کے حق میں غضب ناک اور سخت گیر ہو جاتا ہے؛ لہٰذا حکم ران کے ظلم وستم اور اس کی سخت گیری وانصافی پر اس کو برا بھلا کہنے اور اس کے لیے بدعا کرنے کی بجائے اللہ کی طرف رجوع کرنا چاہیے ، ایسے حالات میں اپنی بداعمالیوں پر ندامت کے ساتھ توبہ استغفار کیا جائے ، اللہ تعالیٰ کے دربار میں عاجزی وزاری کے ساتھ التجا و فریاد کی جائے اور اپنے اعمال و اپنے معاملات کو مکمل طور پر اللہ اور اس کے رسول کے حکم کے تابع کر دیا جائے تاکہ رحمتِ الٰہی متوجہ ہو اور ظالم حکم ران کے دل کو عدل وانصاف اور نرمی وشفقت کی طرف پھیر دے ۔’

“كما تكونوا يولى عليكم، أو يؤمر عليكم. قال في الأصل: رواه الحاكم، ومن طريقه الديلمي عن أبي بكرة مرفوعًا، وأخرجه البيهقي بلفظ “يؤمر عليكم” بدون شك، وبحذف أبي بكرة؛ فهو منقطع. وأخرجه ابن جميع في معجمه، والقضاعي عن أبي بكرة بلفظ: “يولى عليكم” بدون شك، وفي سنده مجاهيل. ورواه الطبراني بمعناه عن الحسن: “أنه سمع رجلًا يدعو على الحجاج؛ فقال له: لا تفعل إنكم من أنفسكم أتيتم، إنا نخاف إن عزل الحجاج أو مات أن يتولى عليكم القردة والخنازير؛ فقد روي أن أعمالكم عمالكم، وكما تكونوا يولى عليكم.

فتاوى ابن حجر: وقال النجم: روى ابن أبي شيبة عن منصور بن أبي الأسود قال: “سألت الأعمش عن قوله تعالى ﴿وَكَذَلِكَ نُوَلِّي بَعْضَ الظّٰلِمِينَ بَعْضاً﴾ ما سمعتهم يقولون فيه؟ قال: سمعتهم: إذا فسد الناس أمر عليهم شرارهم”. وروى البيهقي عن كعب قال: “إن لكل زمان ملكًا يبعثه الله على نحو قلوب أهله؛ فإذا أراد صلاحهم؛ بعث عليهم مصلحًا، وإذا أراد هلاكهم؛ بعث عليهم مترفيهم”.

مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح: 6/198

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 198 জন।

সুন্নতে খাতনার অনুষ্ঠান করা ও এ অনুষ্ঠানে গায়ে হলুদ দেয়া কেমন?

ফতওয়া কোডঃ 169-বিপ্র-12-01-1444

প্রশ্নঃ

সুন্নতে খাতনার অনুষ্ঠান করা হয়, আমাদের এখানে এ অনুষ্ঠানে যার খাতনা হয়েছে তাকে গায়ে হলুদ দেয়া হচ্ছে, আমার জানার বিষয় হল এগুলো কুসংস্কার কিনা বা এটা করা জায়েয আছে কিনা!

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

সুন্নতে খতনা উপলক্ষ্যে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করার প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাছাড়া বর্তমানে যে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করা হয় ও যার খাৎনা করা হয় তার গায়ে হলুদ মাখার যে রেওয়াজ চালু হয়েছে তা অবশ্যই বর্জনীয়। এছাড়া এতে গান-বাদ্য অথবা শরীয়তবিরোধী কোনো কিছু থাকলে তা সম্পূর্ণ নাজায়েয হবে।

সুত্রসমূহ

سنن أبي داود: رقم 3989 عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ

سنن أبي داود: 4/60 عن علي رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كل قرض جر منفعة فهو ربا

سنن أبي داود: رقم 4927 عن عَبْدَ اللَّهِ بن مسعود: قال: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: الْغِنَاءُ يُنْبِتُ النِّفَاقَ فِي الْقَلْبِ

خلاصة الفتاوى: 2/132 عن عَبْدَ اللَّهِ بن مسعود: قال: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: الْغِنَاءُ يُنْبِتُ النِّفَاقَ فِي الْقَلْبِ

সংসদ বাংলা অভিধান: পৃ. ১৬৯, গায়ে হলুদ সম্বন্ধে সংসদ বাংলা অভিধান বলছে: গায়ে-হলুদ, বিবাহের অব্যবহিত পূর্বে পাত্রপাত্রীকে হলুদ মাখাইয়া স্নান করানর হিন্দু সংস্কার বিশেষ।

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 181 জন।

বিকাশ অ্যাপের সেভিংস স্কিমের পদ্ধতিতে টাকা সঞ্চয় ও মুনাফা গ্ৰহণ করা হারাম

ফতওয়া কোডঃ 168-সুই-10-01-1444

প্রশ্নঃ

বিকাশ অ্যাপে বর্তমান একটি অপশন চালু হয়েছে সেভিংস স্কিম নামে, এর মাধ্যমে নির্ধারিত মেয়াদে টাকা সঞ্চয় ও নিরাপদে তা বৃদ্ধি হওয়ার সুবিধা পাওয়া যায়। এখন আমার প্রশ্ন হলো এই পদ্ধতিতে টাকা সঞ্চয় ও মুনাফা গ্ৰহণ অথবা মুনাফার অর্থ নিজে না নেয়ার নিয়তে শুধু সঞ্চয় করণ শরিয়ত কতটুকু সমর্থন করে। দয়া করে সঠিক উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

বিকাশ অ্যাপের একটি অপশন সেভিংস স্কিমের পদ্ধতিতে টাকা সঞ্চয় ও মুনাফা গ্ৰহণ করা সুদ। যা সম্পূর্ণ হারাম। সুতরাং কেউ যদি না জেনে মুনাফা গ্রহণ করে, সে টাকা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া সদকা করে দিতে হবে।

সুত্রসমূহ

سورة البقرة: 275 قال الله تعالى: أحل الله البيع و حرم الربا

مصنف ابن أبي شيبة: رقم 20690 عن علي رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كل قرض جر منفعة فهو ربا

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 321 জন।

হজ্বের ভিসা ব্যতীত অন্য কোন ভিসায় হজ্ব আদায় করার বিধান

ফতওয়া কোডঃ 167-হউ-25-12-1443

প্রশ্নঃ

কোন ব্যাক্তি হজের ভিসা ব্যাতিত অন্য কোন ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে গিয়ে যদি হজ্জ পালন করে, যেমন ভিজিট বা বিজনেস ভিসায়, তাহলে কি তার হজ্জ হবে? জানালে উপকার হবে, জাযাকুমুল্লাহ।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

হজ্ব ইসলামের অন্যতম একটি রুকন ও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এই মৌলিক ইবাদতের সাথে ভিসার কোন সম্পৃক্ততা নেই। ভিসা হচ্ছে আন্তর্জাতিক ভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে গমনের ছাড়পত্র। সুতরাং হজ্বের ভিসা ব্যতীত অন্য কোন ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে হজ্ব আদায় করাতে কোন সমস্যা নেই, হজ্বের সব শর্ত-রুকন‌ যথাযথ আদায় করলে হজ্ব হয়ে যাবে। তবে এমনটা করা অনুত্তম।

সুত্রসমূহ

الفتاوى الهندية: 1/219 وأما ركنه فشيئان) الوقوف بعرفة(لقول النبي صلى الله عليه وسلم: “الحج عرفة، من جاء ليلة جَمْع قبل طلوع الفجر فقد أدرك” رواه أبوداود وغيره،) وطواف الزيارة (لقوله سبحانه: “ثم ليقضوا تفثهم وليوفوا نذورهم وليطوفوا بالبيت العتيق” (الحج: 29) الوقوف أقوى من الطواف كذا في النهاية حتى يفسد الحج بالجماع قبل الوقوف، ولا يفسد بالجماع قبل طواف الزيارة كذا في شرح الجامع الصغير لقاضي خان. (وأما واجباته فخمسة) السعي بين الصفا والمروة والوقوف بمزدلفة ورمي الجمار والحلق أو التقصير، وطواف الصدر كذا في شرح الطحاوي

مراقي الفلاح شرح نور الإيضاح: 729 ويصح أداء فرض الحج بأربعة أشياء للحر الإحرام والإسلام وهما شرطان ثم الإتيان بركنيه وهما الوقوف محرما بعرفات لحظة من زوال يوم التاسع إلى فجر يوم النحر يشرط عدم الجماع قبله محرما والركن الثاني هو أكثر طواف الإفاضة في وقته وهو ما بعد طلوع فجر النحر وواجبات الحج إنشاء الإحرام من الميقات ومد الوقوف بعرفات إلى الغروب والوقوف بالمزدلفة فيما بعد فجر يوم النحر وقبل طلوع الشمس ورمي الجمار وذبح القارن والمتمنع والحلق وتخصيصه بالحرم وأيام النحر وتقديم الرمي على الحلق ونحر القارن والمتمتع بينهما وإيقاع طواف الزيادة في أيام النحر والسعي بين الصفا والمروة في أشهر الحج وحصوله بعد طواف معتد به والمشي فيه لمن لا عذر له وبداءة السعي بين الصفا والمروة في أشهر الحج وحصوله بعد طواف معتد به والمشي فيه لمن لا عذر له وبداءة السعي من الصفا وطواف الوداع وبداءة كل طواف بالبيت من الحجر الأسود والتيامن فيه والمشي فيه لمن لا عذر له والطهارة من الحدثين وستر العورة وأقل الأشواط بعد فعل الأكثر من طواف الزيارة وترك المحظورات كلبس الرجل المخيط وستر رأسه ووجهه وستر المرأة وجهها والرفث والفسوق والجدال وقتل الصيد والإشارة إليه


دارالافتاء جامعہ علوم اسلامیہ علامہ محمد یوسف بنوری ٹاؤن: فتوی نمبر 144107200113 وزٹ ویزا پر حج کرنے میں  شرعی نکتہ نظر  سے مضائقہ نہیں، البتہ چوں کہ  حکومتِ سعودیہ کی جانب سے اس ویزہ پر حج کی  پابندی ہے، اور پکڑے جانے کی صورت میں عزت خطرے میں ہوتی ہے؛ اس وجہ سے وزٹ ویزا  پر حج کرنے سے اجتناب کرنا  چاہیے،  تاہم اگر کوئی اس ویزے پر حج کرلے تو حج ادا ہوجائے گا، باقی عمرہ کرنے میں شرعاً  کوئی مضائقہ نہیں

حاشية الطحطاوي: 729

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 225 জন।

যিলহজ মাসের আইয়ামে বীযের রোজা কত তারিখে রাখতে হবে?

ফতওয়া কোডঃ 166-স-24-12-1443

প্রশ্নঃ

আমি প্রতিমাসেই আইয়ামে বীযের রোজা রাখি, সমস্যা হল যিলহজ মাসের ১৩ তারিখ আইয়ামে তাশরিকের মধ্যে শামিল, আমি জানি আইয়ামে তাশরীকে রোজা রাখা হারাম, এখন তাহলে যিলহজ্ব মাসে আইয়ামে বীযের রোজা কিভাবে রাখব? কোন কোন দিন রাখবো দয়া করে জানালে ভালো হয়।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

যেহেতু যিলহজ মাসের ১৩ তারিখ আইয়ামে তাশরিক এর দিনগুলোর অন্তর্ভুক্ত, সেহেতু যিলহজ মাসের যে সমস্ত দিনগুলোতে রোজা রাখা হারাম ঐ সমস্ত দিনগুলো ছাড়া অন্য যে কোন তিন দিন আইয়ামে বীযের নিয়তে রোজা রাখলে আইয়ামে বীযের রোজার ফজিলত অর্জিত হবে ইনশাআল্লাহ।

সুত্রসমূহ

سنن ابي داؤد: 2/320 حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْهَادِ، عَنْ أَبِي مُرَّةَ، مَوْلَى أُمِّ هَانِئٍ، أَنَّهُ دَخَلَ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَلَى أَبِيهِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، فَقَرَّبَ إِلَيْهِمَا طَعَامًا، فَقَالَ: كُلْ، فَقَالَ: إِنِّي صَائِمٌ، فَقَالَ عَمْرٌو: كُلْ، «فَهَذِهِ الْأَيَّامُ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُنَا بِإِفْطَارِهَا، وَيَنْهَانَا عَنْ صِيَامِهَا»، قَالَ مَالِكٌ: «وَهِيَ أَيَّامُ التَّشْرِيقِ

سنن ابي داؤد: 2/325 حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الْحُرِّ بْنِ الصَّيَّاحِ، عَنْ هُنَيْدَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ امْرَأَتِهِ، عَنْ بَعْضِ، أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ تِسْعَ ذِي الْحِجَّةِ، وَيَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، أَوَّلَ اثْنَيْنِ مِنَ الشَّهْرِ وَالْخَمِيسَ» ( كتاب الصوم، بَابٌ فِي صَوْمِ الْعَشْرِ

مشكاة المصابيح: 1/635 وَعَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةِ أَنَّهَا سَأَلَتْ عَائِشَةَ: أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – يَصُومُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ؟ قَالَتْ: نَعَمْ، فَقُلْتُ لَهَا: مِنْ أَيِّ أَيَّامِ الشَّهْرِ كَانَ يَصُومُ؟ قَالَتْ: لَمْ يَكُنْ يُبَالِي مِنْ أَيِّ أَيَّامِ الشَّهْرِ يَصُومُ

مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح: 4/1416 وَعَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةِ أَنَّهَا سَأَلَتْ عَائِشَةَ: أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – يَصُومُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ؟ قَالَتْ: نَعَمْ» ) أَيْ وَهَذَا أَقَلُّ مَا كَانَ يَقْتَصِرُ عَلَيْهِ (فَقُلْتُ لَهَا: مِنْ أَيِّ أَيَّامِ الشَّهْرِ) احْتِرَازٌ مِنْ أَيَّامِ الْأُسْبُوعِ (كَانَ يَصُومُ؟) أَيْ هَذِهِ الثَّلَاثَةَ مِنْ أَوَّلِهَا أَوْ أَوْسَطِهَا أَوْ آخِرِهَا مُتَّصِلَةً أَوْ مُنْفَصِلَةً (قَالَتْ: لَمْ يَكُنْ يُبَالِي) أَيْ يَهْتَمُّ لِلتَّعْيِينِ (مِنْ أَيِّ أَيَّامِ الشَّهْرِ يَصُومُ) أَيْ كَانَ يَصُومُهَا بِحَسْبِ مَا يَقْتَضِي رَأْيُهُ الشَّرِيفُ

المجموع شرح المهذب للنووي: 6/384 {ويستحب صيام ايام البيض وهي ثلاثة من كل شهر لما روى أبو هريرة قَالَ ” أَوْصَانِي خَلِيلِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بصيام ثلاثة أيام من كل شهر}

حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ وَثَبَتَتْ أَحَادِيثُ فِي الصَّحِيحِ بِصَوْمِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ مِنْ غَيْرِ تَعْيِينٍ لِوَقْتِهَا وَظَاهِرُهَا أَنَّهُ مَتَى صَامَهَا حَصَلَتْ الْفَضِيلَةُ وَثَبَتَ فِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ عَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةِ أَنَّهَا سَأَلَتْ عَائِشَةَ ” أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ قَالَتْ نَعَمْ قَالَتْ قُلْتُ مِنْ أَيِّ أَيَّامِ الشَّهْرِ قَالَتْ مَا كَانَ يُبَالِي مِنْ أَيَّامِ الشَّهْرِ كَانَ يَصُومُ ” وَجَاءَ فِي غَيْرِ مُسْلِمٍ تَخْصِيصُ أَيَّامِ الْبِيضِ فِي أَحَادِيثُ (مِنْهَا) حَدِيثُ أَبِي ذَرٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ ” قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إذَا صُمْتَ مِنْ الشَّهْرِ ثَلَاثًا فَصُمْ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ ” رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ قَالَ التِّرْمِذِيُّ حَدِيثٌ حَسَنٌ

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 242 জন।

নিজ নিজ এলাকার ৯ যিলহজে ইয়াওমে আরাফার রোজা রাখতে হবে

ফতওয়া কোডঃ 165-স-24-12-1443

প্রশ্নঃ

ইয়াওমে আরাফার রোজা সৌদি আরবের সাথে মিলিয়ে রাখা হবে নাকি আমাদের এলাকার হিসেবে আমরা রাখবো? আমাদের এলাকার আহলে হাদিস ভাইয়েরা এগুলো নিয়ে খুব সমস্যা করছে, কুরআন এবং হাদিস থেকে সমাধান দিবেন বলে আশা রাখি।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

ইয়াওমে আরাফার রোজার অনেক ফজিলত, হাদিসে এসেছে এ রোজা রাখলে আগের ও পরের এক বছরের গুনাহ আল্লাহ তাআলা মাফ করে দেন।

ইফতার, সাহরী, মাহে রমাযানের রোজা ও ঈদের মতই ইয়াওমে আরাফার রোজাও নিজ নিজ এলাকার চাঁদ দেখার ভিত্তিতে হবে। আমরা যেরকম চাঁদ দেখে রোজা শুরু করি, চাঁদ দেখে ঈদ করি, এমনিভাবে জিলহজ মাসের চাঁদের হিসাব অনুযায়ী ইয়াওমে আরাফার রোজা রাখতে হবে, ইয়াওমে আরাফার রোজা যে ৯ জিলহজ এটা স্পষ্ট হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, অতএব নিজ নিজ এলাকার ৯ যিলহজে ইয়াওমে আরাফার রোজা রাখতে হবে।

সুত্রসমূহ

صحيح المسلم: رقم 1162 صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ، وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ

سنن ابو داؤد: رقم 2437 کَانَ رَسُولُ اللّٰهِ صلی الله علیه و سلم یَصُومُ تِسْعَ ذِی الحِجَّةِ وَیَومَ عَاشُورَاء

سنن النسائی: رقم 2372، 2417 کَانَ رَسُولُ اللّٰهِ صلی الله علیه و سلم یَصُومُ تِسْعَ ذِی الحِجَّةِ وَیَومَ عَاشُورَاء

مسند احمد: رقم 22334، 27376 کَانَ رَسُولُ اللّٰهِ صلی الله علیه و سلم یَصُومُ تِسْعَ ذِی الحِجَّةِ وَیَومَ عَاشُورَاء

البناية شرح الهداية: 4/211 وإنما سمي يوم عرفة؛ لأن جبريل -صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – علم إبراهيم صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ المناسك كلها يوم عرفة، فقال: أعرفت في أي موضع تطوف؟ وفي أي موضع تسعى؟ وفي أي موضع تقف؟ وفي أي موضع تنحر وترمي؟ فقال: عرفت؛ فسمي يوم عرفة

تبيين الحقائق وحاشية الشلبي: 2/23 قَوْلُهُ: أَيْ تَفَكَّرَ أَنَّ مَا رَآهُ مِنْ اللَّهِ) أَيْ أَمْ مِنْ الشَّيْطَانِ؟ فَمِنْ ذَلِكَ سُمِّيَ يَوْمَ التَّرْوِيَةِ، فَلَمَّا رَأَى اللَّيْلَةَ الثَّانِيَةَ عَرَفَ أَنَّهُ مِنْ اللَّهِ؛ فَمِنْ ثَمَّ سُمِّيَ يَوْمَ عَرَفَةَ، فَلَمَّا رَأَى اللَّيْلَةَ الثَّالِثَةَ هَمَّ بِنَحْرِهِ؛ فَسُمِّيَ يَوْمَ النَّحْرِ، كَذَلِكَ فِي الْكَشَّافِ

العناية شرح الهداية: 3/452 فَلَمَّا أَمْسَى رَأَى مِثْلَ ذَلِكَ ، فَعَرَفَ أَنَّهُ مِنْ اللَّهِ تَعَالَى ؛ فَمِنْ ثَمَّ سُمِّيَ يَوْمَ عَرَفَةَ…. وَإِنَّمَا سُمِّيَ يَوْمُ عَرَفَةَ بِهِ؛ لِأَنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ عَلَّمَ إبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ الْمَنَاسِكَ كُلَّهَا يَوْمَ عَرَفَةَ، فَقَالَ لَهُ : أَعَرَفْت فِي أَيِّ مَوْضِعٍ تَطُوفُ ؟ وَفِي أَيِّ مَوْضِعٍ تَسْعَى ؟ وَفِي أَيِّ مَوْضِعٍ تَقِفُ ؟ وَفِي أَيِّ مَوْضِعٍ تَنْحَرُ وَتَرْمِي ؟ فَقَالَ عَرَفْت ، فَسُمِّيَ يَوْمَ عَرَفَةَ، وَسُمِّيَ يَوْمُ الْأَضْحَى بِهِ؛ لِأَنَّ النَّاسَ يُضَحُّونَ فِيهِ بِقَرَابِينِهِمْ

تفسير البغوي: 7/48 أمر في المنام أن يذبحه، وذلك أنه رأى ليلة التروية كأن قائلاً يقول له: إن الله يأمرك بذبح ابنك هذا، فلما أصبح روی في نفسه أي: فكر من الصباح إلى الرواح أمِنَ الله هذا الحلم أم من الشيطان؟ فمن ثم سمي يوم التروية، فلما أمسى رأى في المنام ثانيًا، فلما أصبح عرف أن ذلك من الله عز وجل؛ فمن ثم سمي يوم عرفة

الإنصاف: 3/244 سمي يوم عرفة؛ للوقوف بعرفة فيه، وقيل: لأن جبريل حج بإبراهيم عليه الصلاة والسلام، فلما أتى عرفة، قال: عرفت، قال: عرفت، وقيل: لتعارف حواء وآدم بها

المغني ابن قدامة: 3/112 فأما يوم عرفة فهو اليوم التاسع من ذي الحجة، سمي بذلك؛ لأن الوقوف بعرفة فيه، وقيل: سمي يوم عرفة؛ لأن إبراهيم عليه السلام أري في المنام ليلة التروية أنه يؤمر بذبح ابنه، فأصبح يومه يتروى هل هذا من الله أو حلم؟ فسمي يوم التروية، فلما كانت الليلة الثانية رآه أيضاً، فأصبح يوم عرفة، فعرف أنه من الله؛ فسمي يوم عرفة، وهو يوم شريف عظيم، وعيد كريم، وفضلة كبير، وقد صح عن النبي صلى الله عليه و سلم أن صيامه يكفر سنتين

تبيين الحقائق وحاشية الشلبي: 1/321 قال – رحمه الله – :(ولا عبرةباختلاف المطالع) وقيل: يعتبر، ومعناه أنه إذا رأى الهلال أهل بلد ولم يره أهل بلدة أخرى يجب أن يصوموا برؤية أولئك كيفما كان على قول من قال: لا عبرة باختلاف المطالع، وعلى قول من اعتبره ينظر فإن كان بينهما تقارب بحيث لا تختلف المطالع يجب، وإن كان بحيث تختلف لا يجب، وأكثر المشايخ على أنه لا يعتبر حتى إذا صام أهل بلدة ثلاثين يوماً وأهل بلدة أخرى تسعة وعشرين يوماً يجب عليهم قضاء يوم، والأشبه أن يعتبر؛ لأن كل قوم مخاطبون بما عندهم، وانفصال الهلال عن شعاع الشمس يختلف باختلاف الأقطار، كما أن دخول الوقت وخروجه يختلف باختلاف الأقطار، حتى إذا زالت الشمس في المشرق لا يلزم منه أن تزول في المغرب

تبدائع الصنائع: 2/83 هذا إذا كانت المسافة بين البلدين قريبة لا تختلف فيها المطالع، فأما إذا كانت بعيدة فلا يلزم أحد البلدين حكم الآخر؛ لأن مطالع البلاد عند المسافة الفاحشة تختلف، فيعتبر في أهل كل بلد مطالع بلدهم دون البلد الآخر

العرف الشذي للعلامةالكشميري: 2/217 وقال الزيلعي شارح الكنز : إن عدم عبرة اختلاف المطالع إنما هو في البلاد المتقاربة لا البلاد النائية ، وقال كذلك في تجريد القدوري ، وقال به الجرجاني ، أقول : لا بد من تسليم قول الزيلعي، وإلا فيلزم وقوع العيد يوم السابع والعشرين أو الثامن والعشرين أو يوم الحادي والثلاثين أو الثاني والثلاثين؛ فإن هلال بلاد قسطنطنية ربما يتقدم على هلالنا بيومين ، فإذا صمنا على هلالنا، ثم بلغنا رؤية هلال بلاد قسطنطنية يلزم تقديم العيد ، أو يلزم تأخير العيد إذا صام رجل من بلاد قسطنطنية ثم جاءنا قبل العيد، ومسألة هذا الرجل لم أجدها في كتبنا ، وظني أنه يمشي على رؤية من يتعيد ذلك الرجل فيهم ، وقست هذه المسألة على ما في كتب الشافعية : من صلى الظهر ثم بلغ في الفور بموضع لم يدخل فيه وقت الظهر إلى الآن أنه يصلي معهم أيضاً، والله أعلم وعلمه أتم ، وكنت قطعت بما قال الزيلعي، ثم رأيت في قواعد ابن رشد إجماعاً على اعتبار اختلاف المطالع في البلدان النائية ، وأما تحديد القرب والنائي فمحمول إلى المبتلى به، ليس له حد معين وذكر الشافعية في التحديد شيئاً

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 213 জন।

আযান ও ইকামতে একই ব্যাক্তি হওয়া জরুরী কি?

ফতওয়া কোডঃ 164-হাসু-17-12-1443

প্রশ্নঃ

মুহতারাম! কোন একটি মাসজিদে দেখা যায় এক ব্যাক্তি আযান দেয় এবং অপর এক ব্যাক্তি ইকামত দেয়। উল্যেখ্য যে মাসজিদে নিয়মতান্ত্রিক কেন মুয়াজ্জিন নেই। মুসল্লিদের মাঝে আজানের পালি করা আছে তারাই আজান দেয়। তো সন্মানিত মুফতি সাহেবের নিকট এখন আমার জানার বিষয় হলঃ

ক. আজান এবং একামত একজনকেই দিতে হবে এর হুকুম কি? অর্থাৎ এটি ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত নাকি মুস্তাহাব? সুন্নাত হলে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা না যায়েদা?

খ. আজান একামত একজনকেই দিতে হবে এই মর্মে কোন হাদিস বর্ণিত আছে কিনা?

গ. একজন আজান এবং ভিন্ন আরেক জন একামত দিলে নামাজের কোন ক্ষতি বা ইকামত দাতার কোন গুনাহ হবে কি?

ঘ. “একজন আজান এবং ভিন্ন আরেক জন একামত দিলে” এটা কোন স্তরের শরয়ী বিরোধী কাজ হবে? এর বিরুদ্ধে কি পরিমান কঠরতা অবলম্বন করা উচিত ?

ঙ. ফরজ ওয়াজিব তরক করলে যেই পরিমান গুরুতের সাথে এর সমালোচনা করা হয় অনুরুপ “একজন আজান এবং ভিন্ন আরেক জন একামত দিলে” এই পরিমান সামালোচনা করা যাবে কি? হাদিস ও সুন্নাহর আলোকে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

যদি মুয়াজ্জিন (যিনি আজান দিয়েছেন) সাহেব উপস্থিত থাকেন, আর অন্য কেউ ইকামাত বললে তিনি অসন্তষ্ট হন, তাহলে অন্য কারো জন্য ইকামত দেওয়া উচিৎ নয়। এমতাবস্থায় ইকামত দেওয়া মাকরুহে তানযিহী হিসাবে গন্য হবে।

আর যদি সন্তষ্ট থাকে, তাহলে ইকামত দিতে কোন সমস্যা নেই। হাদীস শরিফে বৰ্নিত আছে যে, কখনো কখনো হযরত বিলাল রা. আজান দিয়েছেন, হযরত ইবনে উম্মে মাকতুম রা. ইকামত দিয়েছেন, আবার কখনো হযরত ইবনে উম্মে মাকতুম রা. আজান দিয়েছেন, হযরত বিলাল রা. ইকামত দিয়েছেন।

সুত্রসমূহ

بدائع الصنائع: كتاب الصلاة باب الاذان, فصل بيان سنن الاذان

مصنف ابن ابي شيبة: رقم 2257-2260

ردالمحتار: كتاب الصلاة باب الاذان

الفتاوي الهندية: كتاب الصلاة.باب الاذان

سنن ابي داود: رقم 512-514

البحر الرائق: كتاب الصلاة باب الاذان

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 331 জন।

পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে অসিয়ত পালনে নতুন করে চিন্তা করার সুযোগ আছে কি?

ফতওয়া কোডঃ 163-ওও-13-12-1443

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম, আম্মা মারা যাওয়ার আগে বলে গেছিলেন যে, আমাদের বাড়ির পাশের দেড় কাঠা জমি আম্মা পাশের প্রতিবেশী রফিক ভাইদের কাছে বিক্রি করবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। এর শর্ত ছিলো, তারা যখন বাড়ি করবে এবং সমসাময়িক বাজার দর অনুযায়ি ন্যায্য মুল্য দিবে।

২০১১ সালে আম্মার ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং সেই বছর ২ নভেম্বর আম্মা ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকাল করার আগে আম্মা একাধিকবার ওনার একাধিক আত্মীয়কে এই জমি বিক্রি করার কথা বলে যান। উনি আমার আব্বা, ও আমার ভাইবোনদেরও এই কথা বলে যান যে, “রফিক ভাইদের এই জমিটা ওদের দিয়ে দিস যদি ওরা বাড়ি করে এবং ন্যায্য দাম দিতে চায়।” এই অবস্থায় ওরা বাড়ি করতে চাচ্ছেন এবং জমির ন্যায্য দামও দিতে চাচ্ছেন। এমতাবস্থায়, এই জমি বিক্রয় করার ব্যাপারটি কি ওয়াসিওতের পর্যায়ে পড়ে?

জমির বর্তমান ওয়ারিশদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকিরা বিক্রিতে রাজি। রাজি না হওয়ার কারন হিসাবে তাঁর মতামত নিম্নরুপ যে, আমাদের মায়ের অসিয়ত ছিলঃ “জমিটা তাদের বিক্রির সময়ের বাজার দর অনুযায়ি ন্যায্য মূল্যে দিবি যখন তারা সেখানে বাড়ি করবে।” (আল্লাহ যেন আমার অনিচ্ছাকৃত ভুল ক্ষমা করেন)। মা বেচে থাকাকালিন তাদের ব্যবহার যেমন ছিলো এখন তেমন নাই। বর্তমানে তারা প্রতিবেশি হিসাবে খারাপ ব্যবহার করে। এছাড়াও আরো কিছু বিষয় হলঃ এখন তাদের কাছে সেই পরিমান টাকা আছে বলে প্রতীয়মান হয় নাই যা দিয়ে তারা ‘নগদ’ ২১ লাখ টাকা দিয়ে জমি কিনে আবার বাড়িও করবে। এতে যা বোঝা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে জমির মূল্য বেড়ে যাবার যে নিশ্চিত সম্ভবনা, সেই জন্য এখন তারা জমিটা কিনে রেখে দিতে চায়। যা কিনা আমাদের মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ছিল। কোন সন্তান যদি সম্পদটি রাখতে চায়, তারপরও কি দিয়ে দিতে হবে?

এখানে উল্লেখ্য যে, আম্মা যখন সম্পদটি দিয়ে দিতে বললেন তখন আমাদের মধ্যে কেউ এটা রাখার ইচ্ছা পোষণ করার মত ছিল না। কিন্ত রাখার ইচ্ছা পোষণ করলে কি তারপরও আম্মা না করতেন সেটা আমরা কেউ জানি না। কিন্তু আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হচ্ছে, এমন গঠনমূলক পরিকল্পনা আম্মার মত মানুষ কখনও না করতেন না। মা যে সময় অসিয়ত করে গেছেন, সেই সময়ে তাদের আচরণ যেমন ছিল, এখন তা বিদ্যমান না থাকলেও কি অসিয়ত বাধ্যতামূলক পূরণ করতে হবে?

জমির বর্তমান ওয়ারিশের মধ্যে আরেকজন উপরের বক্তব্যের উপর আপত্তি জানিয়েছেন যে, “উপরের কথায় আমার আপত্তি আছে। যেমন, জমি কিনে তারা রেখে দিবে। এইটা ওরা করবেনা। ওরা বাড়ি করার ব্যাপারে দ্রুত করতে চাইছিল, সেজন্য পাইলিং এর কাজও করতে চাইছিল তাড়াতাড়ি। এইটার তথ্যসূত্র দেলোয়ার কাকা। আমি ওদের এই প্রস্তাব নাকচ করে দিই। আমি জানিয়ে দেই যে, যা করার সব রেজিস্ট্রি করার পর। আগেনা। ফাইনাল প্রশ্নের ব্যাপারে আমার আপত্তি নাই। আর ইসলামী শরিয়া মোতাবেক ফয়সালা যা হবে সেইটা আমি মেনে নেবো।

উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে মুফতী সাহেবের প্রতি প্রশ্নঃ পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে অসিয়ত পালনে নতুন করে চিন্তা করার সুযোগ কতটুকু? অর্থাৎ, অসিয়ত পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ কি আছে? যদি থাকে তাহলে কখন তা করা যায়? এই অসিয়ত এবং জমি নিয়ে শরিয়ত সম্মত বিধান কি?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

প্ৰশ্নের বিবরন দ্ধারা বোঝা যাচ্ছে উক্ত মহিলাটি যখন মারা গেছে তখন তার স্বামী জীবিত ছিলো, আর স্বামী বেচে থাকাকালীন মহিলা (স্ত্ৰী) কোন সম্পদের মালিক হয়না, সুতরাং উপরক্ত বিবরন অনুযায়ী মহিলা (আপনাদের আম্মা) কৰ্তৃক উক্ত জমিটি বিক্ৰি করার অসিয়ত করাটা শরিয়ত সম্মত নয়। এবং তা অসিয়তের অন্তৰ্ভুক্তও হয়নি।

কেননা অসিয়ত হলো নিজস্ব সম্পত্তিতে সাওয়াবের আশায় মৃত্যুর পরে কারো জন্য মালিকানা সাব্যস্থ করা। আর মহিলাটি উক্ত জমির মালিক‌ই নয়। সুতরাং তার অসিয়ত‌ই শুদ্ধ হয়নি।

আর যদি উক্ত জমিটি মহিলা তার পৈত্ৰিক সূত্ৰে ওরাছাত হিসেবে বা ক্রয় সুত্রে মালিক হয় তথাপিও মহিলার উক্ত কথা টি “সমসাময়িক নায্য মূল্যে বাড়ি করার জন্য রফিক সাহেবের কাছে বিক্ৰি করার অসিয়ত করাটা” অসিয়ত এর অন্তৰ্ভুক্ত হয়নি। কেননা অসিয়তের অর্থ হলো تبرعا বা পরকালীন সাওয়াবের আশায় নিজের সমপত্তিতে কাওকে মালিক বানিয়ে দেওয়া। এখানে মালিক বানানো হয়নি। বরং তার কাছে বিক্ৰি করার কথা বলা হয়েছে, সুতরাং তা অসিয়তের অন্তৰ্ভুক্ত হয়নি।

তবে البيع بالوعدة এর পৰ্যায়ে পরে। অৰ্থাৎ কেমন যেন রফিক সাহেব এর কাছে উক্ত জমিটি বিক্ৰিটি করার ওয়াদা করেছেন। আর মৃত ব্যক্তির ওয়াদা পূরন করাটা তার ওয়ারিশদের জন্য আবশ্যকীয় নয়। সুতরাং উক্ত জমিটি বিক্ৰি করা বা না করা ওয়ারিশদের ইচ্ছাধীন।

আর যদি মহিলার কথাটি অসিয়ত হিসাবে গন্য করা হয় তথাপিও উক্ত জমিটি সম্পূৰ্ন বিক্ৰি করা আবশ্যক নয়। কেননা অসিয়ত সম্পদের এক তৃতীয়াংশে পালন করা মুস্তাহাব। নামাজ, রোজা, হজ এগুলোর অসিয়ত পুরন করা আবশ্যকীয়, সুতরাং বেশীর থেকে বেশী উক্ত জমিটির তিন ভাগের এক ভাগ রফিক সাহেবের কাছে বিক্ৰি করা মুস্তাহাব।

সুত্রসমূহ

بدائع الصنائع: فالوصية اسم لما اوجبه الموصي في ماله بعد موته

الموسوعة الفقهية: باب حروف الواو, تعريف الوصية

الدر المختار والحاشية ابن عابدين: كتاب الوصايا

الفتاوي الهندية: كتاب الوصايا, الباب الاول

الفتاوي الهندية: كتاب الوصايا, الباب الاول

فتاوي محمودية: 30/330

الدر المختار مع الشامي: 6/60

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 365 জন।