Darul Ifta, Rahmania Madrasah Sirajganj

Darul Ifta, Rahmania Madrasah Sirajganj, Bangladesh.

মোরগ কুরবানী করা বৈধ নয়!

ফতওয়া কোডঃ 42-যকু-11-11-1442

প্রশ্নঃ আমাদের এলাকায় মোরগ কুরবানী করা হয়, এটা শরীয়ত সম্মত?

উত্তরঃ بسم الله الرحمن الرحيم

কোনো কোনো এলাকায় দরিদ্রদের মাঝে মোরগ কুরবানী করার প্রচলন আছে। এটি না জায়েয। কুরবানীর দিনে মোরগ জবাই করা নিষেধ নয়, তবে কুরবানীর নিয়তে করা যাবে না।

সুত্রঃ খুলাসাতুল ফাতাওয়াঃ ৪/৩১৪, ফাতাওয়া বাযযাযিয়াঃ ৬/২৯০, আদ্দুররুল মুখতারঃ ৬/৩১৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়াঃ ৫/২০০

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 501 জন।

কুরবানির গোশতের সমাজ ভিত্তিক বন্টন বর্জনীয়

ফতওয়া কোডঃ 41-যকু-11-11-1442

প্রশ্নঃ

আমাদের সমাজে একটি নিয়ম আছে যে, কুরবানী দাতা নিজ কুরবানীর গোশত তিন ভাগে বিভক্ত করে থাকেন, একভাগ নিজের জন্য, দ্বিতীয় ভাগ গরীব-দুঃখীদের জন্য এবং তৃতীয় ভাগ সমাজ কর্তৃক বাধ্যতামূলক নিয়ে যাওয়া হয়, এবং সমাজের সকল কুরবানীদাতার তৃতীয় ভাগের গোশত একত্র করে সর্বসাধারণের মাঝে বন্টন করা হয়৷

১ম প্রশ্নঃ উল্লেখিত নিয়মে সমাজে প্রচলিত কুরবানীর গোশতের সমাজভিত্তিক বন্টন পদ্ধতি কুরবানীদাতা সহ সর্বসাধারণের মাঝে ভাগ করা শরীয়ত সম্মত কিনা?

২য় প্রশ্নঃ আমার কুরবানীর গোশত সমাজে যারা কোরবানি দিয়েছে এবং যারা কোরবানি দেয় নাই, তাদের সকলের মাঝে সমাজ প্রচলিত নিয়মের বন্টন পদ্ধতিতে বন্টন করে দিতে পারব কিনা? এবং একই নিয়মে অন্য যারা কোরবানীর গোশত দিতে চায়, তাদের গোশত আমি নিতে পারব কিনা?

৩য় প্রশ্নঃ সকল কুরবানী দাতার গোশত সমাজ ভিত্তিক নিয়মে একত্র করে সর্বসাধারণের মাঝে ভাগ করার কোন শরীয়ত সম্মত নিয়ম আছে কিনা?

সমাধানঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

কুরবানীর গোশতের ব্যাপারে কুরবানি দাতার পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে যে, সে চাইলে পুরোটা নিজের জন্য রেখে দিতে পারে, বা যাকে যতোটুকু ইচ্ছে দিতে পারে৷ তিন ভাগের বিষয়টি ঐচ্ছিক এবং মুস্তাহাব মাত্র৷ সামাজিক ভাবে চাপ সৃষ্টি করে গোশত জমা করা, বা লজ্জায় পড়ে গোশত দেয়ার মতো প্রথা শরীয়ত সমর্থিত নয়৷ উপরন্ত অনেকের মান্নতের কোরবানি হয়ে থাকে, যার গোশত নিজে বা ধনী ব্যক্তি খেতে পারে না, বিধায় প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী সামাজিক ওই প্রথাটি অবশ্যই বর্জনীয় বলে বিবেচিত হবে৷

সুত্রসমূহ

مسند احمد: 15/293

رد المحتار: 6/327

فتاوي الهندية: 5/300

الهداية: 4/449

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 1,098 জন।

হরিণ দ্বারা কুরবানি করা জায়েয?

ফতওয়া কোডঃ 40-যকু-10-11-1442

প্রশ্নঃ হরিণ দ্বারা কুরবানি করা শরীয়ত সম্মত?

উত্তরঃ بسم الله الرحمن الرحيم

যে সকল পশু দ্বারা কুরবানি করা জায়েয সেগুলো শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত। অতএব হরিণ শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত পশুর অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় তা দ্বারা কুরবানি করা শরীয়ত সম্মত নয়।

সুত্রঃ হেদায়া: ৪/৪৩২, আল বাহরুর রায়েক: ৮/১৭৭, বাদায়েউস সানায়ে: ৫/৬৯

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 460 জন।

দুআয়ে কুনুতের আগে বিসমিল্লাহ পরতে হবে কি না?

ফতওয়া কোডঃ 20-সা-05-09-1442

প্রশ্নঃ

দুআয়ে কুনুতের আগে বিসমিল্লাহ পরতে হবে কি না? বিসমিল্লাহ পড়লে সাজদায়ে সাহু দিতে হবে কি না?

সামাধানঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

দুআয়ে কুনুতের আগে বিসমিল্লাহ পরা নাজায়েয নয়, বিসমিল্লাহ পড়লে সাজদায়ে সাহু দিতে হবে না।

সূত্রসমূহ

سنن ابي داود: 2/622

البناية: 2/490

فتاوى فقيه الملت: 4/471-472

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 560 জন।

উযর ছাড়া হাফ হাতা গেঞ্জি/জামা পরে নামাজ আদায় করা মাকরুহ

ফতওয়া কোডঃ 19-সা-05-09-1442

প্রশ্নঃ

হাফ হাতা গেঞ্জি/জামা পরে নামাজ আদায় করলে নামাজ হবে কি না?

সমাধানঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

উযর ছাড়া হাফ হাতা গেঞ্জি/জামা পরে নামাজ আদায় করা মাকরুহ।

সূত্রসমূহ

احسن الفتاوى: 3/408

فتاوى محمودية: 14/200

فتاوى فقيه الملت: 3/517, 3/519

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 508 জন।

হিন্দু বা ভিন্ন ধর্মের ব্যাক্তির দান মসজিদে গ্রহণ করা যাবে কি না?

ফতওয়া কোডঃ 18-আমামা-05-09-1442

প্রশ্নঃ

কোন হিন্দু বা ভিন্ন ধর্মের ব্যাক্তির দান মসজিদে গ্রহণ করা যাবে কি না?

সমাধানঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

ইসলাম ও মুসলমানদের কোন প্রকার ক্ষতির আশংকা না থাকলে এবং অমুসলিম ব্যাক্তি মসজিদকে পবিত্র মনে করে দান করলে তা গ্রহন করা ও মসজিদে ব্যয় করা যাবে।

সূত্রসমূহ

امداد الفتاوى: 2/664

فتح القدير: 5/417

فتاوى فقيه في الملت: 9/106

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 519 জন।

সৌদির সাথে মিল রেখে রোজা-ঈদ উদযাপনের সুযোগ নেই

ফতওয়া কোডঃ 17-সই-27-08-1442

প্রশ্নঃ

সৌদির সাথে মিল রেখে রোজা-ঈদ উদযাপন করা যাবে?

সমাধানঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

রোজা রাখা ও ঈদ উদযাপন চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে, ইসলামে সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশে রোজা রাখা ও ঈদ উদযাপনের সুযোগ নেই। সহীহ মুসলিমের একটি বর্ণনার সারাংশ হলো: ইবনে আব্বাস রাঃ বলেন, সিরিয়ায় চাঁদ দেখা মদীনাবাসীদের জন্য যথেষ্ট নয়। আমরা সিরিয়ার একদিন পর চাঁদ দেখেছি অতএব আমরা আমাদের হিসাব মতে পূর্ণ ৩০ দিন রোজা রেখে যাবো অথবা চাঁদ দেখে রোজা সমাপ্ত করবো। পনেরশত বছর যাবত মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধভাবে এভাবেই রোজা এবং ঈদ উদযাপন করে আসছে। সৌদি আরবের বিন বায, ইবনে উসাইমীন ,সালেহ আল ফাওযান, ইবনে তাইমিয়া এবং হানাফী মাযহাবের শ্রেষ্ঠ হাদীস বিশারদ ইমাম জামাল উদ্দিন যায়লায়ী, আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী, আল্লামা মুফতি তাকি উসমানী সহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বের‌ বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম এবং সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক ইফতা বোর্ড এভাবেই ফাতওয়া দিয়েছেন।

সূত্রসমূহ

صحيح المسلم: 1/384 رقم 1087

سنن النسائي: 1/300 رقم 2110

سنن ابي داود: 1/319 رقم 2332

سنن الترمذي: 3/418 رقم 693

فتاوى اسلامية لابن عثيمين: 2/113

فتاوى علماء البلد الحرام: 285

تبيين الحقائق: 1/321

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 551 জন।

শবে বারাআতে হালুয়া রুটির প্রথা পরিত্যাজ্য

ফতওয়া কোডঃ 15-বি-14-08-1442

প্রশ্নঃ

লাইলাতুল বারাআতে হালুয়া রুটি খাওয়া কি সুন্নত না ওয়াজিব?

সমাধানঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

শবে বরাতে হালুয়া রুটি পাকানো-খাওয়া ওয়াজিব-সুন্নত তো দূরের কথা, শরীয়তে এর কোন প্রমাণ না থাকায় এ ধরনের আয়োজন করা জায়েজ নেই এবং বড় ধরনের বিদআত, উম্মতে মুসলিমার জন্য এধরনের রুসম সম্পুর্ন পরিত্যাজ্য।

সূত্রসমূহ

احسن الفتاوى: 1/385

فتاوى فقيه الملت: 1/462-466

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 482 জন।

স্বামী নিখোজ হলে করনীয়

ফতওয়া কোডঃ 14-তাখু,নামা,বি-14-08-1442

প্রশ্নঃ

১. আমার মেয়ে সুরাইয়া ইয়াসমিন কে ২০১৬ ইং নভেম্বর মাসে আব্দুল আউয়ালের সাথে বিবাহ দেওয়া হয়। গত ১৭ই জুলাই ২০১৮ ইং থেকে আমার মেয়ের জামাই নিখোজ হয়। আমার বিয়াইয়ের সাথে যোগাযোগ করলে বিয়াই বলে যে, তাদের সাথে ছেলের কোন যোগাযোগ নেই, তারা আশংক্ষা করছে তাদের ছেলেকে পাওনাদাররা মেরে ফেলছে ,তাই তারা আমার মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিতে বলছে। এমতাবস্থায় আমার উপর শরিয়তের কি হুকুম, তা জানালে উপকৃত হব।

২. মোসাঃ সুরাইয়া ইয়াসমিন পিতাঃ মোঃ রুহুল আমীন আমার স্বামী আব্দুল আউয়াল (শাওন) গত ১৭ই জুলাই ২০১৮ ইং নিখোজ হয়। আমার শশুর শাশুড়ী আমার পিতাকে জানিয়ে দিয়েছে যে, আপনার মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দিন। একাকী ছবর করা আমার জন্য কষ্ট হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমার উপর শরিয়তের মাসআলা কি? ফায়ছালা জানালে উপকৃত হব।

সমাধানঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

স্বামী নিখোজ হওয়ার পর স্ত্রী কতদিন অপেক্ষা করবে এই ব্যাপারে ইমামদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে। ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর মতে ৯০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। তবে এই মাসআলায় হানাফী মাযহাবের উলামায়ে মুতাআখরীন ইমাম মালেক রহঃ এর মাযহাবের উপর ফতোয়া দিয়েছেন। এর বিস্তারিত বিবরণ হলোঃ স্বামী নিখোজ হওয়ার পর সংবাদটি মুসলিম কাযীর নিকট গিয়ে স্ত্রী পেশ করবে। এবং তার সাধ্যনুযায়ী নিখোজ স্বামীকে তালাশ করার পর যদি না পায়,তাহলে কাযী স্ত্রীকে চার বছর অপেক্ষা করার জন্য নির্দেশ দিবে। যদি এর মধ্যে ফিরে এসে যায় তাহলে ভালো। আর যদি ফিরে না আসে তাহলে কাযী তার স্বামীর মৃত্যুর হুকুম দিবে। কেননা, হযরত ওমর ফারুক রাঃ বলেন, নিখোঁজ স্বামী জন্য স্ত্রী চার বৎসর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। হযরত ওমর, ওছমান, আলী এবং অনেক তাবেয়ী থেকেও অনুরূপ ফতওয়া রয়েছে । অতপর স্ত্রী ইদ্দত পালন করে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবে। স্ত্রী দ্বিতীয় জায়গায় বিবাহ করার পর যদি হঠাৎ প্রথম স্বামী ফিরে আসে, তাহলে উক্ত মহিলা দ্বিতীয় স্বামীর নিকট থাকা জায়েয হবেনা। কেননা প্রথম স্বামী ফিরে আসার কারণে দ্বিতীয় বিবাহ বাতিল হয়ে যায়। অতপর ২য় বিবাহ বাতিল হবার কারণে ইদ্দত পালন করতে হবে। ইদ্দত পালন করার পর উক্ত মহিলা প্রথম স্বামীর স্ত্রী হবে। উল্লেখ্য যে,ইদ্দতের নিয়ম হচ্ছে- স্ত্রী গর্ভবতী না হলে মৃত বা নিখোজ স্বামীর জন্য স্ত্রী চার মাস দশদিন ইদ্দত/ শোক পালন করবে। আর গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে। ইদ্দত পালনের অর্থ হল, স্বামী-স্ত্রী যে ঘরে বসবাস করত, উল্লেখিত সময় অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত ঐ ঘরেই তাকে অবস্থান করতে হবে। চিকিৎসা বা জীবিকার প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বাইরে বের হওয়া জায়েয নয়। সুতরাং ইদ্দত অবস্থায় কোথাও বেড়াতে যাওয়া, রোগী দেখতে যাওয়া বা কোন অনুষ্ঠানে যাওয়া নাজায়েয ও হারাম। তাছাড়া ইদ্দত শেষ হওয়া পর্যন্ত কোনো রকম সাজ-সজ্জা গ্রহণ করাও নিষেধ। কাজেই ইদ্দত শেষ হওয়া পর্যন্ত অলংকার পরা, হাতে মেহেদী লাগানো, আতর বা খুশবু লাগানো, সাজগোজের কাপড় পরা, চিকন দাঁতের চিরুনী দ্বারা চুল আঁচড়ানো বা এ ধরনের যত সাজ-সজ্জা মহিলারা করে থাকে তা সবই নিষেধ। এ অবস্থায় একদম সাদাসিধা থাকা জরুরী। এমনকি পান খাওয়ায় অভ্যস্ত থাকলে তা খেয়ে ঠোট লাল করা যাবে না।

সূত্রসমূহ

سورة البقرة: 234

اللباب في شرح الكتاب: 5-6

سنن البيهقي: رقم 15345-15348

المهلة: 9/316-324

مصنف عبد الرزاق: رفم 12325

احسن الفتاوى: 5/467

فتاوى محمودية: 16/342

رد المحتار: 4/295-296

شرح المنهاج على مختصر الخليل: 2/375

شرح الصغير: 2/694

حاشية الدسوقي: 2/479

منار السبيل: 2/88

الدر المختار: 3/510-511-531

الهداية: 2/423, 3/427

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 972 জন।

জানাযার নামাজের পর, হাত তুলে সম্মিলিত মুনাজাত বিদআত!

ফতওয়া কোডঃ 13-বি-14-08-1442

প্রশ্নঃ

জানাযার নামাযের পর সবাই হাত তুলে দুআ করা কী জায়েয? কুরআন ও হাদিসের দলীলসহ জানতে চাই।

সমাধানঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তে মুহাম্মদিয়ায় যখন কোন মুসলমান মারা যায় তখন তার মাগফিরাতের জন্য বিশেষভাবে কিছু দুআ করা হয়। ঐ বিশেষ প্রক্রিয়ায় দুআ করার নাম জানাযার নামাজ। এই জানাযার নামাজ ফরজে কেফায়া, যদি কিছু লোক আদায় করে তাহলে সবার পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়। অর্থাৎ মহল্লাবাসী সকল লোকের পক্ষ হইতেই ফরয আদায় হইয়া যায়, আর কেউ আদায় না করিলে প্রত্যেকেই গুণাহগার হইতে হইবে। এই জানাযার (দুআর) পর পূনরায় হাত উঠিয়ে দুআ করা সম্পূর্ণ বিদআত। নবী করীম সল্লল্লাহা আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবায়ে কিরাম রাঃ, এমন কি কোন ইমামগণ রহঃ থেকেও এর কোন প্রমান নাই। নবী করীম সল্লল্লাহা আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে তিনটি যুগকে শ্রেষ্ট যুগ হিসাবে ভবিষ্যত বাণী দিয়ে গেছেন, তাদের থেকেও এর কোন প্রমান নাই। আর হাদীসে আছে রাসূল সাঃ বলেন, عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রمَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ অর্থ, হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। নবী করীম সল্লল্লাহা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ধর্মে নেই এমন বিষয় ধর্মীয় বিষয় বলে আবিস্কার করে তা পরিত্যাজ্য।

হযরত ইরবাস বিন সারিয়া রাঃ থেকে বর্ণিত। নবী করীম সল্লল্লাহা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ يَرَى بَعْدِي اخْتِلَافًا كَثِيرًا، فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ، وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ، وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ، فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ অর্থ, তোমাদের মাঝে আমার পর জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখবে। তখন তোমাদের উপর আমার এবং আমার হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নত আঁকড়ে ধরবে। সেটিকে মাড়ির দাত দিয়ে কামড়ে রাখবে। আর সাবধান থাকবে নব উদ্ভাবিত ধর্মীয় বিষয় থেকে। কেননা ধর্ম বিষয়ে প্রতিটি নতুন বিষয়ই বিদআত। আর প্রতিটি বিদআতই গোমরাহী। মিশকাতুল মাসাবিহর প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যা গ্রন্থ মিরকাতুল মাফাতীহ গ্রন্থে আছে, ولا يدعو للميت بعد صلوة الجنازة لانه يشبه الزيادة فى صلوة الجنازة অর্থাতঃ জানাযার নামাজের পর মায়্যিতের জন্য কোন দুআ নাই। কেননা এটা একটা জানাযার নামাযে অতিতিক্ত কাজ করার মত। ফাতওয়ায়ে বাযযাযিয়্যার মধ্যে আছে, لا يقوم بالدعاء بعد صلوة الجنازة لانه دعاء مرة অের্থ, জানাযার পর দুআর জন্য অপেক্ষা করোনা, কেননা জানাযা হল একটা দুআ। কান্নুযদাকায়েক এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ বাহরুর রায়েক আছে, لا يدعو بعد التسليم অর্থ, সালামের পর আর কোন দুআ নাই। আল্লামা তক্বী উসমানী দাঃ বাঃ উনার লিখিত কিতাব ফাতওয়ায়ে উসমানিতে লিখেন জানাযার পরে দুআ করা বিদআত, একাজ তরক করা ওয়াজিব।

সুতরাং উল্লেখিত হাদীস এবং ফিকাহ-ফাতওয়ার কিতাবের আলোচনার আলোকে একথা প্রমানীত হয় যে, প্রশ্নে বর্ণিত সুরতে তথা জানাযার নামাযের পর হাত তুলে দুআ করা সম্পূর্নরূপে না জায়েয ও বিদআত। এসব কাজ থেকে বেচে থাকা চাই।

সূত্রসমূহ

صحیح البخاری: رقم 2697

صحیح المسلم: رقم 1718

مسند احمد: رقم 17144

مرقاۃ المفاتیح: 4/64

فتاوی بزازیة: 5/80

البحر الرائق: 2/183

فتاوى عثماني: 1/122-123

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 588 জন।