ফতওয়া কোডঃ 41-যকু-11-11-1442
প্রশ্নঃ
আমাদের সমাজে একটি নিয়ম আছে যে, কুরবানী দাতা নিজ কুরবানীর গোশত তিন ভাগে বিভক্ত করে থাকেন, একভাগ নিজের জন্য, দ্বিতীয় ভাগ গরীব-দুঃখীদের জন্য এবং তৃতীয় ভাগ সমাজ কর্তৃক বাধ্যতামূলক নিয়ে যাওয়া হয়, এবং সমাজের সকল কুরবানীদাতার তৃতীয় ভাগের গোশত একত্র করে সর্বসাধারণের মাঝে বন্টন করা হয়৷
১ম প্রশ্নঃ উল্লেখিত নিয়মে সমাজে প্রচলিত কুরবানীর গোশতের সমাজভিত্তিক বন্টন পদ্ধতি কুরবানীদাতা সহ সর্বসাধারণের মাঝে ভাগ করা শরীয়ত সম্মত কিনা?
২য় প্রশ্নঃ আমার কুরবানীর গোশত সমাজে যারা কোরবানি দিয়েছে এবং যারা কোরবানি দেয় নাই, তাদের সকলের মাঝে সমাজ প্রচলিত নিয়মের বন্টন পদ্ধতিতে বন্টন করে দিতে পারব কিনা? এবং একই নিয়মে অন্য যারা কোরবানীর গোশত দিতে চায়, তাদের গোশত আমি নিতে পারব কিনা?
৩য় প্রশ্নঃ সকল কুরবানী দাতার গোশত সমাজ ভিত্তিক নিয়মে একত্র করে সর্বসাধারণের মাঝে ভাগ করার কোন শরীয়ত সম্মত নিয়ম আছে কিনা?
সমাধানঃ
بسم الله الرحمن الرحيم
কুরবানীর গোশতের ব্যাপারে কুরবানি দাতার পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে যে, সে চাইলে পুরোটা নিজের জন্য রেখে দিতে পারে, বা যাকে যতোটুকু ইচ্ছে দিতে পারে৷ তিন ভাগের বিষয়টি ঐচ্ছিক এবং মুস্তাহাব মাত্র৷ সামাজিক ভাবে চাপ সৃষ্টি করে গোশত জমা করা, বা লজ্জায় পড়ে গোশত দেয়ার মতো প্রথা শরীয়ত সমর্থিত নয়৷ উপরন্ত অনেকের মান্নতের কোরবানি হয়ে থাকে, যার গোশত নিজে বা ধনী ব্যক্তি খেতে পারে না, বিধায় প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী সামাজিক ওই প্রথাটি অবশ্যই বর্জনীয় বলে বিবেচিত হবে৷
সুত্রসমূহ
مسند احمد: 15/293 قال النبي صلى الله عليه وسلم لا يحمل مال امرئ إلا بطيب نفس منه
رد المحتار: 6/327 قوله ويأكل من لحم الأضحية الخ… هذا في الأضحية الواجبة والسنة سواء، إذا لم تكن واجبة بالنذر، وان وجبت به فلا يأكل منها شيئا ولا يطعم غنياً سواء كان الناذر غنياً أو فقيراً لأن سبيلها التصدق وليس للمتصدق ذلك ولو أكل فعلية قيمة ما أكل
فتاوي الهندية: 5/300 وأما في الأضحية المنذورة سواء كانت من الغنى أو الفقير فليس لصاحبها أن يأكل ولا ان يؤكل الغنى،
الهداية: 4/449 ويأكل من لحم الأضحية ويطعم الأغنياء والفقراء ويدخر لقوله عليه السلام كنت نهيتكم عن اكل لحوم الأضاحي فكلوا منها وادخروا ومتى جاز الأكل وهو غنى جاز أن يؤكل غنياً،
والله اعلم بالصواب
দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।
![]()