কোম্পানির প্রয়োজনে অনিচ্ছাকৃতিক ঘুষ দেয়ার বিধান

ফতওয়া কোডঃ 226-বিলে-17-07-1447

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমি বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় টাইলস কোম্পানির কর্পোরেট সেলস বিভাগে কর্মরত। আমার মূল দায়িত্ব হলো সরকারি-বেসরকারি ঠিকাদার, ইঞ্জিনিয়ার, নির্বাহী প্রকৌশলী এবং প্রজেক্ট ডিরেক্টরের নিকট আমাদের কোম্পানির টাইলস স্যাম্পল উপস্থাপন করে প্রজেক্টে ব্যবহারের অনুমোদন (Approval) গ্রহণ করা। এটি আমাদের নিয়মিত ও বৈধ কাজের অংশ।

তবে একটি বাস্তব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে টাকা, উপঢৌকন বা ব্যক্তিগত সুবিধা দাবি করেন। অনেক সময় কোম্পানির কাজের চাপ, লক্ষ্য অর্জনের প্রয়োজন এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার পরিস্থিতির কারণে অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এসব লেনদেনে জড়িত হতে বাধ্য হতে হয়।
আমাদের কোম্পানির পণ্যের গুণগত মান ভালো হলেও ঘুষ না দিলে অনেক সময় কাজ অন্য কোম্পানিকে দিয়ে দেওয়া হয়। যার কারণে মানসিক অশান্তি ও দ্বিধায় ভুগছি।

এই অবস্থায় ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু বিষয় জানতে চাই—
আমার প্রশ্নসমূহ
১. চাকরির প্রয়োজনে অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ঘুষের মতো অবৈধ লেনদেনে জড়াতে হয়। এ অবস্থায় আমার উপার্জন কি হালাল হবে? এবং এ চাকরিটি আমার জন্য জায়েজ কি না?

২. কখনও আমরা নিজেরাই অফার করি, যা কেউ গ্রহণ করলে—তাদের গুনাহের অংশ কি আমার ওপর বর্তাবে?

৩. কাজের প্রয়োজনের কারণে মাঝে মাঝে অতিরঞ্জিত কথা বা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে হয়। এতে কি আমি গুনাহগার হব? এবং এ ধরনের পরিবেশে চাকরি করা কি ঠিক হবে?

আমি এ বিষয়ে অত্যন্ত চিন্তিত ও মানসিকভাবে কষ্টে আছি। তাই ইসলামি দৃষ্টিতে সঠিক নির্দেশনা, সমাধান ও করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ কামনা করছি।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

ঘুষ দেয়া, নেয়া উভয়ই হারাম। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুষ দাতা ও গ্রহীতার প্রতি অভিসম্পাত করেছেন। আপনার বর্ণনা অনুযায়ী যদি কোম্পানির বায়ারদের সেল কমিশন প্রদানের নিয়ম-নীতি থাকে এবং সে হিসেবে অর্ডার পাওয়ার জন্য ঠিকাদার কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ারকে সেলস্ অফিসারদের মাধ্যমে সে কমিশন প্রদান করে থাকে, তাতে সেলস অফিসারদের কোন গুনাহ হবে না এবং চাকরির বেতন হালাল বলে বিবেচিত হবে। তবে অতিরঞ্জিত কথা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ধোকা ও প্রতারণার শামিল এবং কবীরা গুনাহ। এগুলো অবশ্যই বর্জন করতে হবে এবং তাওবা করতে হবে।

সুত্রসমূহ

سنن ابی داؤد: رقم 3580 عن عبد الله ابن عمرو رضي الله عنهما قال: لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم الراشي والمرتشي

سنن الترمذي: رقم 1337 عبد الله ابن عمرو رضي الله عنهما قال: لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم الراشي والمرتشي

الصحیح المسلم: رقم 147 عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلَاحَ، فَلَيْسَ مِنَّا، وَمَنْ غَشَّنَا، فَلَيْسَ مِنَّا

قرة عين الأخيار لتكلمة رد المحتار: 8/460 والرشوة إذا كانت لدفع الضرر عن نفسه وعن رب المال كانت جائزة للدافع مأذونا فيها عادة من المالك، وإن حرمت على الآخذ

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

Loading

Scroll to Top