বৈবাহিক পরিসীমার মধ্যে আইভিএফ (IVF) ও পিজিডি (PGD) এর মাধ্যমে শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ বৈধ নয়

ফতওয়া কোডঃ 225-হাহা-06-04-1447

প্রশ্নঃ

বরাবর, প্রধান মুফতী সাহেব দা. বা., রাহমানিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা সিরাজগঞ্জ

বিষয়: ইসলামী শরীয়ার আলোকে বৈবাহিক পরিসীমার মধ্যে আইভিএফ ও পিজিডির মাধ্যমে শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ সংক্রান্ত ফাতওয়া প্রার্থনা।

সম্মানিত মুফতি ও আলিমবৃন্দ,

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।  আপনাদের সুস্বাস্থ্য ও  কল্যাণকামনা শেষে নিবেদন এই যে, আমরা বর্তমানে একটি গবেষণা কর্ম পরিচালনা করছি, যার শিরোনাম: আইভিএফ-এ শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি।  

এই গবেষণার অংশ হিসেবে, বিবাহের সীমার মধ্যে (অর্থাৎ শুধুমাত্র স্বামীর শুক্রাণু ও স্ত্রীর ডিম্বাণু ব্যবহার করে, কোনো তৃতীয় পক্ষের দান/অনুদান ছাড়াই) ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) ও প্রি-ইমপ্লান্টেশন জেনেটিক ডায়াগনোসিস (পিজিডি) এর মতো আধুনিক প্রজনন প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিশুর লিঙ্গ নির্বাচন সম্পর্কে আমি ইসলামী শরীয়ার অবস্থান জানতে চাই । 

এক্ষেত্রে, আমি সসম্মানে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলোর উপর আপনার মহিমান্বিত ফাতওয়া কামনা করছি: 

১. শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বা সামাজিক কারণেই (যেমন: পরিবারে লিঙ্গ ভারসাম্য রক্ষা বা ব্যক্তিগত পছন্দ) আইভিএফ ও পিজিডি (শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রীর জিনগত উপাদান ব্যবহার করে) ব্যবহার করে শিশুর লিঙ্গ নির্বাচন ইসলামে জায়েজ কি?

২. যদি কোনো বৈধ চিকিৎসাগত কারণ থাকে (যেমন: নির্দিষ্ট লিঙ্গের সাথে সম্পর্কিত জটিল জিনগত রোগ এড়ানোর জন্য), তাহলে কি শরীয়াহ এমন ক্ষেত্রে পিজিডি ব্যবহার করে লিঙ্গ নির্বাচনের অনুমতি দেয়?

৩. এ ধরনের পদ্ধতি বিবাহের সীমার মধ্যেই ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়ার কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশিকা, শর্তাবলী বা নৈতিক বিবেচনা রয়েছে কি? 

এই প্রশ্নগুলোর উপর আপনার মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও ফিকহী মতামত শুধু আমাদের গবেষণাকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং ইসলামী আইনশাস্ত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে এই সমকালীন ইস্যুতে সমাজকে সচেতন করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

আল্লাহ তাআলা উম্মাহকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য আপনাদের প্রচেষ্টাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং এই মহৎ কাজে অব্যাহত সাফল্য দান করুন।  জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

বৈবাহিক পরিসীমার মধ্যে আইভিএফ (IVF) ও পিজিডি (PGD) এর মাধ্যমে শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ সম্বন্ধে অধিকতর সঠিক সমাধানের জন্য রহমানিয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা সিরাজগঞ্জ বাংলাদেশ এর ফতওয়া বিভাগ থেকে বিশ্ব বিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দের ফতওয়া বিভাগে উপরোক্ত প্রশ্নটি প্রেরণ করা হয়েছিল, উপরোক্ত প্রশ্নের উত্তরে সমাধান স্বরূপ নিম্নোক্ত সমাধান দারুল উলুম দেওবন্দের ফতওয়া বিভাগ থেকে দেয়া হয়েছে, যা নিচে উল্লেখ করা হলো।

উল্লেখ্য যে, নিম্নক্ত ফতওয়ার সাথে রহমানিয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় ফাতওয়া বিভাগের মুফতি সাহেবগন একাত্বতা পোষন করছেন।

“উপরক্ত প্রশ্ন থেকে প্রথমে এটা বোঝা দরকার যে, সন্তান জন্মদানের জন্য আইভিএফ (IVF) এর পদ্ধতি গ্রহণ করা শরয়ীভাবে জায়েয নয়; কারণ এতে মহিলার সতর অর্থাৎ নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ অচেনা ডাক্তারদের সামনে বরং অনেক সময় ডাক্তার ও তার সহকারীসহ একটি ডাক্তারদের টিমের সামনে খুলে দেখানো প্রায় অনিবার্য হয়ে পরে। অথচ শরীয়ত অনুযায়ী, কোনো কারণ ছাড়া মহিলার জন্য সতরের অংশকে পুরুষের সামনে খোলা অনুমোদিত নয়। এমনকি অন্য কোনো মহিলার সামনেও খোলা চলবে না। এছাড়া এই প্রক্রিয়ায় মহিলার এমন কোনো শারীরিক কষ্টও নেই, যে তা নিষ্ক্রিয় করার জন্য এটি অনুমোদন করা যায়; বরং এটি কেবল সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে করা হয়।

এটি নাজায়েয হওয়ার একটি বড় কারণ হলো, নসব বা বংশধারার মিশ্রণ হওয়ার আশঙ্কা, যেটির বিরুদ্ধে শরীয়ত অত্যধিক গুরুত্ব দিয়েছে। এজন্য উল্লিখিত এই অনিষ্টতা সমূহের ভিত্তিতে প্রজননের উদ্দেশ্যে আইভিএফ পদ্ধতি গ্রহণ শারীয়তসম্মত নয়। যেহেতু আইভিএফ (IVF) পদ্ধতিই জায়েয নয়, তাই পিজিডি (PGD) এর প্রশ্নই ওঠে না।

স্পষ্ট উল্লেখ থাকে যে, যদি এই কাজ সম্পূর্ণভাবে দাম্পত্য সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে; অর্থাৎ কেবল স্বামী-স্ত্রীর নুতফা (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) একত্র করা হয়, তবুও উল্লেখিত অনিষ্টের কারণে এটি শরীয়তসম্মত নয়।”

সুত্রসমূহ

في البدائع: 4/299 تنظر المرأة من المرأة إلى سائر جسدها إلا ما بين السرة والركبة.. ولا يجوز لها أن تنظر ما بين سرتها إلى الركبة إلا عند الضرورة؛ بأن كانت قابلة، فلا بأس لها أن تنظر إلى الفرج عند الولادة.. إن لم توجد امرأة تعلم المداواة ولا امرأة تتعلم، وخيف عليها الهلاك أو بلاء أو وجع لا تحتمله يداويها الرجل؛ لكن لا يكشف منها إلا موضع الجرح، ويغض بصره ما استطاع؛ لأن الحرمات الشرعية جاز أن يسقط اعتبارها شرعا امكان الضرورة

দারুল উলুম দেওবন্দের ফতওয়া PDF

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

Loading

Scroll to Top