Darul Ifta, Rahmania Madrasah Sirajganj

ভাষা নির্বাচন করুন বাংলা বাংলা English English
ফাতাওয়া খুঁজুন

হালাল ও হারাম

বয়স্ক ভাতা ধনী-সামর্থবান ব্যক্তিরাও কি গ্রহন করতে পারবে?

ফতওয়া কোডঃ 152-হাহা-11-08-1443

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম, সম্মানিত হযরাত, সরকার বয়স্ক ভাতা প্রদান করিতেছে, আমার জানার বিষয় হলোঃ এই ভাতা সবাই গ্রহন করতে পারবে কি না? মানে ধনী সামর্থবান ব্যক্তিও কি গ্রহন করতে পারবে?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

বয়স্ক ভাতা যদি বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত থাকে চাই ধনী হউক বা গরিব, তাহলে সবাই নিতে পারবে৷ আর যদি শুধু গরিবদের জন্য দেয়া হয় তাহলে ধনী ব্যক্তিরা নেয়া জায়েয হবে না৷ কেননা এতে অন্যায় ভাবে অন্যের হক নিজে ভক্ষণ করা হচ্ছে।

সুত্রসমূহ

سورة النساء: 29 يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 102 জন।

ব্যাথার জন্য ব্যাথার জায়গায় ক্যানাবিড অয়েল (canabid oil) ব্যাবহার করা জায়েয

ফতওয়া কোডঃ 146-হাহা-26-07-1443

প্রশ্নঃ

ব্যাথার চিকিৎসার জন্য ব্যাথার জায়গায় ক্যানাবিড অয়েল (canabid oil) ব্যাবহার করা জায়েজ হবে কি না জানতে চাই। নির্ভরযোগ্য তথ্য মতে ক্যানাবিড অয়েল গাজা গাছ থেকে তৈরি।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

মূলত গাজা গাছ একটি ঔষধ জাতীয় উদ্ভিদ, এটি ৬৫ ধরনের রোগের ঔষধ, চীনারা বহু বছর থেকে চিকিৎসা দ্ৰব্য হিসেবে গাজা ব্যবহার করে আসছে, তৎকালীন সময় গাজা গাছের পাতা (যাকে গাজা নামে সবাই চেনে) বেটে দুধের সাথে মিশিয়ে ব্যাথার স্থানে প্ৰলেপ দেওয়া হতো ব্যাথা নিরসনের জন্য।

শুধু তাই নয়, গাজা গাছের আশ দিয়ে সুতা তৈরী করা হতো আর সেই সূতা দিয়ে ডেনিম প্যান্ট, শাৰ্ট, জ্যাকেট ইত্যাদি ব্যাপকভাবে তৈরী করা হতো, এবং গাজার সুতা দ্বারা তৈরীকৃত কাপড় মসলিন কাপড়ের মত‌ই অনেক দামী।

ষাট দশকে গাজা থেকে তেল মলমসহ নিত্য প্ৰয়োজনীয় উপকরন তৈরী করা হতো। এবং বৰ্তমানে পশ্চিমা দেশগুলো এই পন্যগুলো ব্যপকভাবে বিক্ৰি করছে, ২০০৭ সালে californa pacific mediical center in san francisco তে গবেষনা করে দেখা গেছে c.b. d. Cannabid iol ক্যান্সার ছড়ানো প্ৰতিরোধ করতে যতেষ্ঠ সহায়তা করে, কেমো থেরাপী নেয়ার ফলে সৃষ্ট ব্যাথা দুর করে।

গাজা গাছ থেকে যে নেশা দ্ৰব্য তৈরী করা হয় তা কয়েকটিতে সীমাবদ্ধ, যেমন গাজা, ভাং সিদ্ধি, চরস, হাসিস। এইগুলোর মধ্যে ভাং নেশাকর দ্ৰব্য নয়, যদিও তা গাজা পাতা ও তার ফুল থেকে তৈরী করা হয়, পুরান ঢাকায় এখনো ভাং এর শরবত পাওয়া যায়, বাকীগুলো শুধুমাত্ৰ যখন তার সাথে অগ্নি সংযোগ করে ধোয়া নেওয়া হয় তখন তা নেশা তৈরী করে এবং তা مسكر হিসাবে গন্য হয়।

এমনকি গাজা যাকে শোধন করে নেশাকর বানানো হয় তা যদি পানিতে গুলে বা ভিজিয়ে খাওয়া হয় তাহলে তা নেশা সৃষ্টি করেনা, এবং তা مسكر হিসাবে গন্য হয়না, ২য় তো গাজা গাছ নাপাক নয় বা رجس এর অন্তৰ্ভুক্ত নয়।

হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. বলেন যে, সব দ্ৰব্য নেশাজাত তবে তরল নয়, যেমন তামাক, জয়ফল, আফিম ইত্যাদি এ সব দ্ৰব্য যে পরিমান ব্যবহার করলে তা সাথে সাথে নেশা ধরে যায় অথবা শারিরিক ক্ষতি সাধন করে, সে পরিমান সেবন করা হারাম। পক্ষান্তরে তা যদি নেশা সৃষ্টি না করে অথবা শারিরিক ক্ষতিও না করে, তাহলে জায়েয আছে, মালিশ হিসেবেও তা ব্যবহার করা যায়। (বেহেশ্তী জিওর ৩য় খন্ড হালাল হারাম)

সুতরাং উল্লেখিত আলোচনা থেকে আমরা প্ৰশ্নে উল্লেখিত cannabid oil ‌এর হুকুম সম্পৰ্কে জানতে পারলাম যে, cannabid oil ব্যাথার স্থানে পালিশ বা মালিশ হিসাবে ব্যবহার করা জায়েয আছে।

সুত্রসমূহ

ردالمحتار: كتاب الاشربة. وقال محمد الخ اقول الظاهر ان هذا خاص بالاشربة الماؤعة دون الجامد كالبنج والافيون فلا يحرم قليلها بل كثيرها المسكر وبه صرح ابن حجر في التحفة وغيره

وفيه ايضا: بل الصواب مراد صاحب الهداية وغيره اباحة قليله للتداوي

وفيه ايضا: لان حرمتها ليست لعينها بل لضررها

وفي البزازية: والتعليل ينادي بحرمته لا للدواء

هكذا في شرح الهداية في كتاب الاشربة

وفي البحر الرايق في كتاب الاشربة

فتح القدير: في كتاب الاشربة

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 269 জন।

কোম্পানী পক্ষ থেকে ডাক্টারদেরকে দেয়া উপহার ডাক্টার গ্রহন করতে পারবে কি?

ফতওয়া কোডঃ 141-বিলে,হাহা-03-07-1443

প্রশ্নঃ

কোম্পানী ডাক্টারদেরকে নিজ প্রতিষ্ঠানের ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লেখার শর্তে বিভিন্ন গিফ্ট (টাকা, বিভিন্ন পন্য) প্রদান করে থাকে, জানার বিষয় হলোঃ উক্ত গিফ্ট ডাক্টার গ্রহন করতে পারবে কি না? তা ব্যবহার করতে পারবে কি না?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

আমাদের দেশে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ডাক্তারদেরকে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানী যে নানা রকম উপহার সামগ্রী দিয়ে থাকেন, যেমন কাউকে নগদ অর্থ দিয়ে থাকেন আবার কাউকে বিভিন্ন রকমের সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন। অনুসন্ধান করে জানা যায় যে, ঔষধ কোম্পানী ডাক্তারদের যা দেয় তা তিন ধরনের।

১. অনেক সময় ডাক্তারদেরকে ঔষধ কোম্পানী তাদের প্ৰোডাক্ট এর পরিচিতির জন্য কোন ছোট এবং কম দামী উপহার ইত্যাদি দিয়ে থাকেন যেমনঃ কলম, রাইটিং প্যাড, ডায়েরী, মগ, ইত্যাদি; এটা এক ধরনের হাদিয়া।

২. ডাক্তারদের অনেক সময় অনেক মূল্যবান, দামী কিছু দেওয়া হয় অথবা অঘোষিত চুক্তির ভিত্তিতে টাকা-পয়সা, অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি দেওয়া হয়, তাদের মাঝে যদিও কোন লিখিত চুক্তি থাকেনা, কিন্তু এসব মূল্যবান উপহার, নগদ অর্থ এবং অন্যান্য ভালো সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পেছনে বিশেষ কারন থাকে যে, তিনি ঐ কোম্পানীর ঔষধ প্ৰেসক্ৰাইব করবেন।

৩. অনেক সময় ডাক্তারদের চুক্তির আওতায় আসতে হয়, অর্থাৎ আপনি আমাদের প্ৰোডাক্টগুলোই শুধু মাত্ৰ প্ৰেসক্ৰাইব করবেন বা বেশী পরিমানে প্ৰেসক্ৰাইব করবেন অথবা এ পরিমান প্ৰেসক্ৰাইব করবেন। তার বিনিময়ে আপনাকে এটা দেওয়া হবে, বা চুক্তি অনুযায়ী কমিশন (টাকা) দেওয়া হবে।

উল্লেখিত তিন অবস্থার মধ্যে প্রথম অবস্থায় অর্থাত ছোট খাটো কোন উপহার যেমন কলম, রাইটিং প্যাড, ডায়েরী, এ ধরনের সামান্য ছোট উপহার গ্ৰহন করতে কোন অসুবিধা নেই, কারন এ উপহারের মাধ্যমে চিকিৎসকের উপর কোনরুপ চাপ সৃষ্টি হওয়ার কোন সুযোগ নেই। কেননা এ উপহারগুলো ডাক্তারদের ছাড়াও অন্যদেরকেও দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থায় নির্ভরযোগ্য উলামায়ে কিরামগনের গবেষনা অনুযায়ী এটি গ্ৰহন করা কোন চিকিৎসকের জন্য কোন ভাবেই জায়েয নেই। কেননা এটা এক প্রকার ঘুষ। সুতরাং তা গ্ৰহন করা এবং ব্যাবহার করা উভয়টাই নাজায়েয ও হারাম।

এক হাদিসে আছে যে, রসুলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন ব্যাক্তিকে পাঠালেন রাষ্ট্রীয় কোষাগারের (বাইতুল মালের) পক্ষ থেকে যাকাত উসুল করার জন্য, তিনি যাকাত এবং সাদকা উসুল করে নিয়ে আসার পরে রসুলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, ইয়া রসুলুল্লাহ! আমি দাতার পক্ষ থেকে যে যাকাত বা সাদকা উসুল করে নিয়ে এসেছি এর মধ্যে দাতা এই পরিমান সম্পদ দিয়েছেন বাইতুল মাল তথা রাষ্ট্ৰীয় কোষাগারের জন্য, আর এটা আমাকে তিনি ব্যাক্তিগত ভাবে ব্যবহারের জন্য দিয়েছেন, রসুলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই লোকটির আচারন দেখে উপস্থিত লোকদেরকে জমায়েত করে আল্লাহ তাআলার প্ৰশংসা করে সংক্ষিপ্ত এক ভাষন দিলেন, পুরো পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি বললেনঃ তোমাদের কাওকে যখন কোন দায়িত্ত্ব পালন করতে দেওয়া হয় তখন অন্য পক্ষের পক্ষ থেকে তিনি যে উপহার নিচ্ছেন, তিনি যদি এই দায়িত্ত্বে নিয়োজিত না থাকতেন তাহলে কি তাকে এই উপহার দেয়া হতো? বা তিনি যদি নিজ বাড়ীতে বসে থাকতেন তাহলে কি তাকে কেউেএই উপহার দিত? এই হাদীসে রসুলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ধরনের উপহার নেওয়াকে নাজায়েয ও হারাম আখ্যয়িত করেছেন।

সুতরাং একজন চিকিৎসক নির্দিষ্ট ফি (সরকারি/বেসরকারি বেতন) এর বিনিময়ে রোগীকে সময় দিচ্ছেন, তাই এ ক্ষেত্রে ডাক্টার সাহেবের জন্য কোন কোম্পানী বা অন্য কারো পক্ষ থেকে হাদিয়া নেওয়া, তথাকথিত উপঢৌকন নেওয়া বা সুযোগ-সুবিধা গ্রহন করা শরীয়ত সম্মত নয়, এবং তা ব্যাবহার করাও জায়েয নাই।

সুত্রসমূহ

المصباح المنير: الرشوة ما يعطيه الشخص للحاكم او غيره ليحكم له اويحمله علي ما يريد

سنن الترمذي: 3/614 عن عبد الله بن عمرو رض…قال لعن رسول الله صلي الله عليه وسلم الراشي والمرتسي

مسند احمد: رقم 6778

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 361 জন।

ঔষধ কোম্পানির MRO ব্যক্তিরা ডাক্টারদের স্যাম্পল তাদেরকে না দেয়া খিয়ানত

ফতওয়া কোডঃ 134-হাহা-15-06-1443

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম। হযরত, আমার জানার বিষয় হলো ঔষধ কোম্পানিতে যারা MRO পোস্টে থাকেন, তাদেরকে স্যাম্পল দেয়া হয় ডাক্তারদেরকে দেয়ার জন্য, তো তারা কিছু দেয় আর কিছু রেখে দেয়। স্যাম্পলটি ঔষধও হতে পারে বা অন্য কিছুও হতে পারে। এখন এই রেখে দেয়া স্যাম্পল এর হুকুম কি? জাযাকাল্লাহু খাইরান।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

ইসলামের বিধান সমূহের মধ্যে অন্যতম বিধান হল আমানত রক্ষা করা৷ আর আমানতের খিয়ানত করা মুনাফিকের অন্যতম চরিত্র। কোনো ব্যক্তি যদি কারো আমানতের খিয়ানত করে তবে সে একটি মারাত্বক কবিরাহ গুনাহ করলো। তাই আমানতের খিয়ানত করা ইসলামে কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। সুতরাং প্রশ্নে বর্ণিত MRO ব্যক্তিকে কোম্পানির পক্ষ থেকে যে স্যাম্পল ডাক্তারদেরকে দেয়ার জন্য দেয়া হয় তা তাদের কাছে আমানত৷ তাদের জন্য আবশ্যক হল তা কোম্পানির পক্ষ যাদেরকে দেয়ার জন্য বলা হয়েছে তাদেরকে পৌছে দেয়া৷ যদি পৌছে না দিয়ে নিজের কাছে রাখে তবে তা খিয়ানত হবে৷ যা তাদের জন্য ব্যবহার জায়েয নেই৷

সুত্রসমূহ

سورة النساء: 85 ان الله يامركم ان تؤدوا الامنات الي اهلها

رواه البخاري و مسلم: آيَةُ المُنافِقِ ثَلاثٌ: إذا حَدَّثَ كَذَبَ، وإذا وعَدَ أخْلَفَ، وإذا اؤْتُمِنَ خانَ

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 454 জন।

ডিজিটাল ছবি ও ভিডিও ধারন করা বা দেখা শরিয়ত সম্মত নয়!

ফতওয়া কোডঃ 124-হাহা-20-05-1443

প্রশ্নঃ

ডিজিটাল ছবি ও ভিডিও ধারন করা এবং দেখা কেমন? যেমন ওয়াজ? বিভিন্ন দ্বীনি প্রোগ্রাম, ইত্যাদি।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

কোন জীবের (জানদারের) ছবি ধারন করা ও বানানো শরীয়তে যেমন হারাম, তেমনি দেখাও হারাম। তবে ভিডিওটি যদি অডিওতে রূপান্তরিত করা যায় এবং এটি কোনো স্বনামধন্য-হক্কানী ও গ্রহনযোগ্য আলেমের বক্তব্য হয়, তাহলে এই অডিও শোনাতে কোনো ক্ষতি নেই।

সুত্রসমূহ

مشکاة المصابیح: 385 عن عبد الله بن مسعود رضی الله عنه قال: سمعت رسول الله صلی الله علیه وسلم یقول: ”أشد الناس عذاباً عند الله المصورون“ ، متفق علیه

سنن الترمذي: 2574 عن ابی ہریرة رضی الله عنه قال:قال رسول الله صلی الله علیه وسلم: یخرج عنق من النار یوم القیامة لها عینان تبصران وأذنان تسمعان ولسان ینطق، یقول: إنی وکلت بثلاثة: بکل جبار عنید وکل من دعا مع الله إلها آخر و بالمصورین

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 574 জন।

ফ্লেক্সিলোড বা রিচার্জ এর পরিবর্তে দেয়া ক্যাশব্যাক হালাল

ফতওয়া কোডঃ 113-বিলে,হাহা-06-05-1443

প্রশ্নঃ

ফ্লেক্সিলোড বা রিচার্জ এর পরিবর্তে দেয়া ক্যাশব্যাক কি হারাম? আওয়ার ইসলামে হারাম হওয়ার ফতওয়া দেখলাম!

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

ফ্লেক্সিলোড বা রিচার্জ এর পরিবর্তে দেয়া ক্যাশব্যাক কোম্পানির পক্ষ থেকে করয বা আমানত নয়, বরং এটা ইনআম তথা পুরস্কার ও উপহারের অন্তর্ভুক্ত, যা গ্রহণ করা শরিয়ত সম্মত। তাই এই ক্যাশব্যাক সম্পূর্ন হালাল।

আওয়ার ইসলাম কোন ফতওয়ার কিতাব নয়, তাই তাদের প্রকাশিত “ক্যাশব্যাক হারাম” বিষয়ক ফতওয়া সঠিক নয়। এ ব্যাপারে তাদের আরো তাহকিক করা উচিত।

সুত্রসমূহ

فتاوی شامی: 5/166 وفي الأشباه: كل قرض جر نفعاًحرام، فكره للمرتهن سكنى المرهونة بإذن الراهن

اعلاء السنن: 14/513 قال ابن المنذر: أجمعوا علی أن المسلف إذا شرط علی المستسلف زیادة أو هدیة فأسلف علی ذلک، إن أخذ الزیادة علی ذلک ربا

الفتاوٰی الهندیة: 3/117 وھو فی الشرع عبارۃ عن فضل مال لایقابله عوض فی معاوضۃ مال بمال وھو محرم فی کل مکیل وموزون بیع جنسه وعلته القدروالجنس وان وجدالقدر والجنس حرم الفضل والنساء وان وجداحدھماوعدم الاٰخر حل الفضل وحرم النساء

البحر الرائق: 6/198 ویجوز للمشتري أن یزید للبائع في الثمن ویجوز للبائع أن یزید للمشتري في المبیع ، ویجوز أن یحط من الثمن

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 815 জন।

তাজা কেঁচো দিয়ে মাছ শিকার করা জায়েয নয়!

ফতওয়া কোডঃ 102-হাহা-18-04-1443

প্রশ্নঃ কেঁচো দিয়ে মাছ শিকার করা বৈধ কি?

উত্তর : بسم اللہ الرحمن الرحیم

তাজা (জীবিত) কেঁচো দিয়ে মাছ শিকার করা জায়েয নয়, তবে মরা কেঁচো দিয়ে মাছ শিকার করা জায়েয।

সুত্রঃ সহিহ বুখারি শরীফঃ হাদিস নং ৫৫১৩, আদ্দুররুল মুখতারঃ ৬/৪৭৪, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াঃ ৫/৩৬২, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়াঃ ১২/৩৯৭, তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিমঃ ৩/৫৪০

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 215 জন।

মাথা মুন্ডানোকে হারাম এবং খারেজীদের আলামত বলা ‍শুধুই মূর্খতা!

ফতওয়া কোডঃ 87-প,হাহা-11-02-1443

প্রশ্নঃ মাথা মুন্ডানো শরীয়তের দৃর্ষ্টিতে কতটুকো বৈধ? এটাকে কি কোন ভাবেই সুন্নতের পর্যায়ে নেয়া যাবে? কেউ কেউ এটাকে হারাম বলে সাবেত করেন, সে ক্ষেত্রে আপনাদের মতামত কি? পরিপূর্ন ব্যাখ্যাসহ জানতে চাই।

উত্তরঃ بسم الله الرحمن الرحيم

চুল কাটার তিনটি পদ্ধতি রয়েছে, ১. বাবরি রাখা, ২. মাথা মুন্ডন করা, ৩. পুরো মাথার চুলগুলো সমানভাবে কাটা। ১ম পদ্ধতিটি সর্বসম্মতিক্রমে সুন্নত, ২য় পদ্ধতিটি গ্রহণযোগ্য মতামত অনুযায়ী সুন্নত তবে প্রথম পদ্ধতিটির মতো নয়, ৩য় পদ্ধতিটি জায়েজ তবে সুন্নত নয়।

সমাজের কিছু মূর্খ লোক যারা হাদিস না বুঝে মন্তব্য করে, এমন লোকেরাই মাথা মুন্ডানোকে হারাম এবং খারেজীদের আলামত বলে উল্লেখ করে। মূলত এমন মূর্খ ব্যক্তিদের কথা সঠিক নয়। তবে বিনা প্র্রয়োজনে নারীদের মাথা মুন্ডানো হরাম।

এ বিষয়গুলো সামাধান করা হয়েছে আরো ১ হাজার বছর পূর্বে, তাই এ বিষয় নিয়ে নতুন করে ফিৎনা সৃষ্টি করা ফিতনাবাজদের আলামত। যদি মাথা মুন্ডানোকে হারাম এবং খারেজীদের আলামত বলা হয় তাহলে আমিরুল মুমিনিনি হযরত আলী রা. কখনই তা করতেন না।

সূত্রঃ আবু দাউদ শরীফঃ হাদিস নং ২৪৯, ৩৫৬, ৪১৮৩-৪১৮৭, ৪১৯২, ৪১৯৫, আল মুজামুল আওসাতঃ ৪/১৮৭, আল ইসতিযকারঃ ৮/৪৩৫, রদ্দুল মুহতারঃ ৬/৪০৭, আহসানুল ফাতাওয়াঃ ৮/৮৬, শরহুত তিবী আলাল মিশকাতঃ ২/৮৭, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াঃ ৫/৩৫৭, ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাতঃ ১২/৪২-৪৭

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 393 জন।

নির্বাচনি পোস্টারে পরিচয়ের জন্যে ছবি ব্যাবহার করা কি জায়েয?

ফতওয়া কোডঃ 69-বিপ্র,হাহা-4-2-1443

প্রশ্নঃ নির্বাচনি পোস্টারে কি পরিচয়ের জন্যে ছবি ব্যাবহার করা জায়েয?

উত্তরঃ بسم الله الرحمن الرحيم

নির্বাচনি পোস্টারে পরিচয়ের জন্যে ছবি ব্যাবহার করা শরয়ী উজরের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় তা পরিত্যাজ্য।

সুত্রঃ বুখারী শরিফঃ হাদিস নং ৫৯৫০, উমদাতুল কারীঃ ১০/৩০৯, রদ্দুল মুহতারঃ ২/৪০২, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াঃ ৫/৩৭৯, জাওয়াহিরুল ফিকাহঃ ৭/১৭৭-২৮৬

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 205 জন।

যে ঘরে পশু-পাখি ও জীব-জন্তুর ছবি থাকে, সে ঘরে নামাজ পরলে নামাজ হবে কি?

ফতওয়া কোডঃ 10-সা,হাহা-09-08-1442

প্রশ্নঃ

আসসালামুআলাইকুম, হুজুর আমার প্রশ্ন হলো, যে ঘরে পশু-পাখি ও জীব-জন্তুর ছবি থাকে, সে ঘরে নামাজ পরলে নামাজ হবে কি?

সমাধানঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

ঘরে প্রাণীর ছবি, কার্টুন, প্রতিকৃতি, মূর্তি ইত্যাদি সংরক্ষণ করা হারাম। যে ঘরে এসব থাকে সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। এ মর্মে একাধিক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। যেমন: আবু তালহা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: لَا تَدْخُلُ الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ، وَلَا صُورَةٌ “ফেরেশতাগণ ঐ ঘরে প্রবেশ করে না, যে ঘরে কুকুর অথবা ছবি থাকে। হযরত ইবনে ‘আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রী মাইমূনাহ রা. আমার নিকট বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: জিবরাঈল আলাহিস সালাম আমার সাথে রাতে সাক্ষাত করার ওয়াদা করেছিলেন কিন্তু সাক্ষাত করেননি। অতঃপর তাঁর মনে পড়লো যে, আমাদের খাটের নীচে একটি কুকুর ছানা আছে। তিনি এটাকে বের করে দিতে আদেশ দিলে তা বের করা হলো। অতঃপর তিনি নিজেই পানি দিয়ে সে স্থানটা ধুয়ে ফেলেন। এরপর জিবরাঈল আ. তাঁর সাথে সাক্ষাতের সময় বললেন: “যে ঘরে কুকুর এবং ছবি থাকে সে ঘরে আমরা কখনো প্রবেশ করি না।” সকাল বেলা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুকুর মারতে আদেশ দিলেন। এমনকি ছোট বাগান পাহারার কুকুর হত্যা করারও আদেশ দেন, বড় বাগানের পাহারাদার কুকুর ছাড়া। তিনি আরও বলেছেন: أَنْ لاَ تَدَعَ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلاَّ سَوَّيْتَهُ وَلاَ تِمْثَالاً إِلاَّ طَمَسْتَهُ ‏ “কোন উঁচু কবরকে (মাটি) সমান করা ব্যতীত ছাড়বে না, আর কোন প্রতিকৃতি বিধ্বংস করা ব্যতীত ছাড়বে না।” সহিহ মুসলিমের অন্য বর্ণনায় রয়েছে: وَلاَ صُورَةً إِلاَّ طَمَسْتَهَا ”আর কোনো ছবি পেলে তা মুছে দিবে।” এ মর্মে বহু হাদিস বিদ্যমান রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, মুহাদ্দিসগণ বলেন: উল্লেখিত হাদিসগুলোতে যে সকল ফেরেশতা প্রবেশ করবে না বলা হয়েছে সেগুলো দ্বারা উদ্দেশ্য হল, রহমত ও বরকতের ফেরেশতাগণ। অর্থাৎ কোনো ঘরে প্রাণীর ছবি, মূর্তি, প্রতিকৃতি ও কুকুর থাকলে ঐ সকল প্রবেশরতাগণ তাতে প্রবেশ করে না যারা রহমত ও বরকত নিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে আগমন করে থাকেন। কিন্তু বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতাগণ তাদের দায়িত্ব পালনার্থে অবশ্যই প্রবেশ করে- ঘরে যতই ছবি, মূর্তি ও কুকুর থাকুক না কেন। যেমন: প্রাণ সংহারের দায়িত্বে নিয়োজিত মালাকুল মওত বা মৃত্যু দূত, তাঁর সঙ্গে আগত ফেরেশত মন্ডলী, মানুষের কার্যবিবরণী লেখার দায়িত্ব প্রাপ্ত কিরামান কাতিবীন বা সম্মানিত লেখক ফেরেশতাবৃন্দ ইত্যাদি।

মোটকথা, এ সকল ছবিকে ঘর থেকে সরানো জরুরি অথবা আসবাব-পত্রে যে সকল প্রাণীর ছবি বা প্রাণীর কার্টুনের ছবি আছে কমপক্ষে সেগুলোর মুখমন্ড কালি দিয়ে বা যে কোনভাবে মুছে দেয়া জরুরি। মুখ মন্ডল তথা চোখ, মুখ, নাক, কান ইত্যাদি মুখাবয়বের চিহ্ন অবশিষ্ট না থাকলে তার উপর ছবির বিধান প্রযোজ্য হবে না। সম্ভব হলে ছবি-কার্টুন ও প্রতিকৃতি মুক্ত ঘরে সালাত আদায় করা উত্তম। কিন্তু এ সব প্রাণীর ছবি, কার্টুন ইত্যাদি থাকা স্বত্বেও যদি সালাতের সঠিক নিয়ম-পদ্ধতি অনুসরণ করে সালাত আদায় করা হয় তাহলে তা সহিহ হবে ইনশাআল্লাহ। তবে যথাসম্ভব এমনটি করা উচিৎ নয়।

সুত্রসমূহ

سنن النسائي: 5347

سنن ابی داؤد: 4157

صحیح المسلم: 969

سنن الترمذی: 1049

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 356 জন।