ফতওয়া কোডঃ 232-তাখু-21-01-1448
প্রশ্নঃ
সম্মানিত মুফতি সাহেব, একটি তালাক-সংক্রান্ত মাসআলার শরয়ি সমাধান জানতে চাই। পরিচয় গোপন রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য উল্লেখ করছি না।
এক দম্পতির মধ্যে ছোট একটি বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে স্বামী স্ত্রীকে মারধর করেন। এরপর রাগ ও জেদের বশে বাংলা ভাষায় স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
“আমি তোমার সাথে সংসার করব না। ১ তালাক, ২ তালাক, ৩ তালাক।”
ঘটনার সময় স্বামী কী বলছেন তা বুঝতে পারছিলেন এবং জ্ঞান-বুদ্ধি স্বাভাবিক ছিল। তিনি অচেতন বা উন্মাদ অবস্থায় ছিলেন না; তবে প্রচণ্ড রাগান্বিত ছিলেন।
স্বামীর এ কথা শোনার পর স্ত্রী বলেন:
“আমি তো তালাক হয়ে গেছি। আপনি আমার কাছে আসবেন না।”
এর উত্তরে স্বামী বলেন:
“হ্যাঁ, চলে যা। তোর সাথে আমি সংসার করতাম না। তুই তো এটাই চাস। যা, তোর চাওয়া পূরণ করলাম।”
উল্লেখ্য, এর আগে স্বামী কখনো স্ত্রীকে তালাক দেননি।
বিনীতভাবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর শরয়ি সমাধান জানতে চাই:
১. উপরোক্ত ঘটনার আলোকে শরিয়তের দৃষ্টিতে কয়টি তালাক সংঘটিত হয়েছে?
২. স্বামীর “১ তালাক, ২ তালাক, ৩ তালাক” উচ্চারণ এবং পরবর্তী “চলে যা”, “তোর চাওয়া পূরণ করলাম” ইত্যাদি কথাগুলোর শরয়ি প্রভাব কী?
৩. চার মাযহাব (হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি)-এর আলোকে এ মাসআলার হুকুম কী?
৪. কুরআন, সহিহ হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য ফিকহি গ্রন্থের দলিলসহ মাসআলাটি ব্যাখ্যা করে জানালে উপকৃত হব।
৫. যদি তিন তালাক সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে উভয়ের জন্য পরবর্তী শরয়ি করণীয় কী? রুজু বা পুনরায় বৈবাহিক সম্পর্কে ফিরে আসার কোনো সুযোগ আছে কি?
আল্লাহ তাআলা আপনাদের ইলম ও খেদমতে বরকত দান করুন।
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
সমাধানঃ
প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনার আলোকে, যদি স্বামী সুস্থ মস্তিষ্কে ও স্বীয় ইচ্ছায় স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলে থাকেন, “আমি তোমার সাথে সংসার করব না। ১ তালাক, ২ তালাক, ৩ তালাক”, তবে হানাফি মাযহাবসহ জমহুর ফুকাহার (মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত) অনুযায়ী স্ত্রীর উপর তিন তালাকই সংঘটিত হয়েছে। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাকে মুগাল্লাযাহ (চূড়ান্ত বিচ্ছেদ) সংঘটিত হয়েছে।
পরবর্তীতে স্বামীর “চলে যা”, “তোর চাওয়া পূরণ করলাম”, “তোর সাথে আমি সংসার করতাম না” ইত্যাদি বক্তব্যের দ্বারা নতুন কোনো তালাক সংঘটিত হবে না; কারণ পূর্বেই তিন তালাক সম্পূর্ণ হয়ে গেছে।
অতএব, উক্ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে রুজুর সুযোগ নেই এবং নতুন বিবাহের মাধ্যমেও তারা পরস্পরের জন্য হালাল হবেন না। তবে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, স্ত্রী অন্যত্র স্বাভাবিক ও বৈধ বিবাহের পর সে বিবাহ স্বাভাবিকভাবে শেষ হয়ে ইদ্দত অতিবাহিত হলে, তখন পূর্বের স্বামীর সঙ্গে নতুন করে বিবাহের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
সুত্রসমূহ
الفتاوى الشامی: 3/244 قلت: وللحافظ ابن القيم الحنبلي رسالة في طلاق الغضبان، قال فيها: إنه على ثلاثة أقسام : أحدها أن يحصل له مبادي الغضب بحيث لايتغير عقله ويعلم ما يقول ويقصده، وهذا لا إشكال فيه، الثاني : أن يبلغ النهاية فلايعلم ما يقول ولايريده، فهذا لا ريب أنه لاينفذ شيء من أقواله، الثالث : من توسط بين المرتبتين بحيث لم يصر كالمجنون، فهذا محل النظر والأدلة تدل على عدم نفوذ أقواله اهـ ملخصًا من شرح الغاية الحنبلية، لكن أشار في الغاية إلى مخالفته في الثالث حيث قال: ويقع طلاق من غضب خلافًا لابن القيم اهـ وهذا الموافق عندنا لما مر في المدهوش
فتاوى ہندیہ: 1/473 وإن كان الطلاق ثلاثا في الحرة وثنتين في الأمة لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها أو يموت عنها، كذا في الهداية
والله اعلم بالصواب
দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।
![]()