মৃত ব্যক্তি নগদ টাকা রেখে যাননি, প্রচুর জায়গা রেখে গেছেন, তার ঋণ কিভাবে পরিশোধ করবে?

ফতওয়া কোডঃ 237-ওও-15-04-1448

প্রশ্নঃ

আচ্ছালামু আলাইকুম! আমরা তিন ভাই চার বোন। আমাদের পিতা ইন্তেকাল করেছেন এবং উনার প্রায় ৫০০০০০০/- টাকা ঋণ রয়েছে। কিন্তু উনি কোনো নগদ টাকা রেখে যাননি, তবে উনার প্রচুর জায়গা রয়েছে। এখন আমরা উনার জায়গা বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে চাচ্ছি। এখন জায়গা বিক্রি করতে গিয়ে ওয়ারিশদেরকে রেজিস্ট্রি দিতে হয়। রেজিস্ট্রি দেয়ার ক্ষেত্রে কি ছেলে মেয়ে সমান সমান রেজিস্ট্রি দিবে নাকি মেয়ে এক অংশ ছেলে দুই অংশ করে রেজিস্ট্রি দিবে? যেমন, আব্বুর ৩০ গন্ডা জমি আছে। এখান থেকে ৭ গন্ডা বিক্রি করলে ঋণ পরিশোধ হয়ে যাবে। এখন জায়গা বিক্রি করতে গিয়ে রেজিস্ট্রি দেয়ার সময় সবাই সমান ভাবে ১ গন্ডা করে রেজিস্ট্রি দেবে নাকি মেয়ে এক অংশ ছেলে দুই অংশ করে রেজিস্ট্রি দিবে?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদ শরিয়তের বিধান অনুযায়ী বণ্টনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি বিষয় সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমত: মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে তাঁর কাফন-দাফনের প্রয়োজনীয় খরচ সম্পন্ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত: মৃত ব্যক্তির কোনো ঋণ থাকলে, তাঁর সমুদয় পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে সেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তৃতীয়ত: মৃত ব্যক্তি শরিয়তসম্মত কোনো ওসিয়ত করে থাকলে ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে সেই ওসিয়ত বাস্তবায়ন করতে হবে। চতুর্থত: উপরোক্ত বিষয়গুলো সম্পন্ন করার পর অবশিষ্ট স্থাবর-অস্থাবর যাবতীয় সম্পদ জীবিত ওয়ারিশদের মধ্যে শরিয়াহ নির্ধারিত ফারায়েযের বিধান অনুযায়ী বণ্টন করতে হবে।

শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির রেখা যাওয়া সামষ্টিক জমি ৩০ গন্ডা থেকে প্রথমে ঋণ পরিশোধ পরিমাণ (৭ গন্ডা) বিক্রি করে তার ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তারপর অবশিষ্ট ২৩ গন্ডা জমি ১০ ভাগে ভাগ করে তিন ভাই ৬ ভাগ (প্রত্যেকজন ২ ভাগ করে) আর চার মেয়ে ৪ ভাগ (প্রত্যেক জন ১ভাগ করে ) পাবে। এবং রেজিস্ট্রি দেয়ার ক্ষেত্রে ছেলে মেয়ে সবাই মিলে মোট ৭ গন্ডার রেজিস্ট্রি দিবে তারপর যথা নিয়মে বাকি সম্পত্তি বন্টন করে নেবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: مِنۢ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِى بِهَآ أَوْ دَيْنٍ‌ۗ.

কিন্তু প্রশ্নোক্ত সুরতে যেহেতু এই নিয়ম প্রয়োগ সম্ভব না ,তাই নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে জমি বিক্রয় রেজিষ্ট্রি প্রদান করবে। জমি বণ্টন ও বিক্রয় সংক্রান্ত হিসাবের বিবরণ:
মৃত ব্যক্তির রেখা যাওয়া মোট জমির পরিমাণ: ৩০ গণ্ডা = ৬০ শতক।
উক্ত ৩০ গণ্ডা জমি ১০টি সমান অংশে ভাগ করা হলে প্রতি ১ অংশের পরিমাণ ৩ গণ্ডা = ৬ শতক।

বণ্টনের নিয়ম অনুযায়ী ৩ ছেলে পাবেন (মোট ৬ ভাগ): ১৮ গণ্ডা বা ৩৬ শতক জমি।
প্রত্যেক ছেলে পাবেন (২ ভাগ করে): ৬ গণ্ডা বা ১২ শতক জমি।
৪ মেয়ে পাবেন (মোট ৪ ভাগ): ১২ গণ্ডা বা ২৪ শতক জমি।
প্রত্যেক মেয়ে পাবেন (১ ভাগ করে): ৩ গণ্ডা বা ৬ শতক জমি।
সর্বমোট = ১০ অংশ = ৩০ গণ্ডা বা ৬০ শতক

৭ গণ্ডা জমি বিক্রির হিসাব। মোট ৭ গণ্ডা বা ১৪ শতক জমি বিক্রয় করতে হবে। বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ৩ ছেলে প্রত্যেকে ২ অংশ এবং ৪ মেয়ে প্রত্যেকে ১ অংশের অনুপাতে জমি বিক্রির রেজিস্ট্রি দেবে ।

সুতরাং প্রত্যেক ছেলে দেবে: ১.৪ গণ্ডা বা ২.৮ শতক জমি। ৩ ছেলে মোট দেবে ৪.২ গণ্ডা বা ৮.৪ শতক। প্রত্যেক মেয়ে দেবে: ০.৭ গণ্ডা বা ১.৪ শতক। ৪ মেয়ে মোট দেবে: ২.৮ গণ্ডা বা ৫.৬ শতক।
মোট : ৭ গণ্ডা = ১৪ শতক।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরোক্ত হিসাবটি ১ গণ্ডা = ২ শতক হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। রেজিস্ট্রি দলিল প্রস্তুতের সময় সংশ্লিষ্ট খতিয়ান, দাগ, জমির শ্রেণি, অবস্থান এবং সরকারি রেকর্ডে ব্যবহৃত পরিমাপের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য যে, জমি বিক্রি ব্যতীত মৃত ব্যক্তির ছেলে-মেয়েরা মিলে যদি নিজেদের টাকায় বাবার ঋণ পরিশোধ করতে চায়, সেই অবকাশও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সবার সম্মতি ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষনীয়। ছেলে মেয়ের থেকে ডাবল হওয়া জরুরি নয়।

সুত্রসমূহ

سورة النساء: 11 يُوصِيكُمُ ٱللَّهُ فِيٓ أَوۡلَٰدِكُمۡۖ لِلذَّكَرِ مِثۡلُ حَظِّ ٱلۡأُنثَيَيۡنِۚ فَإِن كُنَّ نِسَآءٗ فَوۡقَ ٱثۡنَتَيۡنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَۖ وَإِن كَانَتۡ وَٰحِدَةٗ فَلَهَا ٱلنِّصۡفُۚ وَلِأَبَوَيۡهِ لِكُلِّ وَٰحِدٖ مِّنۡهُمَا ٱلسُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُۥ وَلَدٞۚ فَإِن لَّمۡ يَكُن لَّهُۥ وَلَدٞ وَوَرِثَهُۥٓ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ ٱلثُّلُثُۚ فَإِن كَانَ لَهُۥٓ إِخۡوَةٞ فَلِأُمِّهِ ٱلسُّدُسُۚ مِنۢ بَعۡدِ وَصِيَّةٖ يُوصِي بِهَآ أَوۡ دَيۡنٍۗ ءَابَآؤُكُمۡ وَأَبۡنَآؤُكُمۡ لَا تَدۡرُونَ أَيُّهُمۡ أَقۡرَبُ لَكُمۡ نَفۡعٗاۚ فَرِيضَةٗ مِّنَ ٱللَّهِۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمٗا

الإختيار لتعليل المختار: 579 يبدأ من تركة الميت بتجهيزه ودفنه على قدرها ثم تقضى ديونه ، ثم تنفذ وصاياه من ثلث ماله ، ثم يقسم الباقي بين ورثته ، م تقضى ديونه من جميع ما بقي من ماله لقوله – تعالى – : ( من بعد وصية يوصي بها أو دين ) وأنه يقتضي تأخر القسمة عن الدين والوصية ، ولا يقتضي تقدم أحدهما على الآخر … وقد بلغنا أن النبي – عليه الصلاة والسلام – قدم الدين على الوصية فكان بيانا لحكم الآية ، رواه عنه علي رضي الله عنه ، ولأن الدين مستحق عليه ، والوصية تستحق من جهته ، والمستحق عليه أولى لأنه مطالب به ; لأن فراغ ذمته من أهم حوائجه ، قال – عليه الصلاة والسلام – : ” الدين حائل بينه وبين الجنة ” ، ولأن أداء الفرائض أولى من التبرعات ، ثم تنفذ وصاياه من ثلث ماله بعد قضاء الدين ، فإن كانت الوصية بعين تعتبر من الثلث وتنفذ

السراجي في الميراث: 11 قال عُلَماؤنا رحِمهم الله تعالَى تتعلّق بتَرِكَة الميِّت حُقُوق أربعة مُرتَّبة الأوّل: يُبدَأ بتكفينه وتَجهِيزه مِن غير تبذِير ولا تقتِير، ثمّ تُقضَى دُيُونه مِن جميع ما بَقِيَ مِن ماله، ثمّ تُنفَذ وَصَاياه مِن ثُلُث ما بَقِيَ بعد الدَّين، ثمّ يُقسَم الباقي بين وَرَثَته بالكِتاب والسُنّة وإجماع الأمّة

الفتاوى السراجية: 577 أول ما يبدأ من تركة الميت تجهيزه وتكفينه بما يحتاج إليه ودفنه، ثم قضاء ديونه الأولى فالأولى، ثم تنفيذ وصاياه من ثلث ما بقي بعد الدين والكفن، ثم قسمة الباقي بين ورثته

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

Loading

Scroll to Top