Darul Ifta, Rahmania Madrasah Sirajganj

ভাষা নির্বাচন করুন বাংলা বাংলা English English
ফাতাওয়া খুঁজুন

ওরাসত ও ওসিয়ত

পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে অসিয়ত পালনে নতুন করে চিন্তা করার সুযোগ আছে কি?

ফতওয়া কোডঃ 163-ওও-13-12-1443

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম, আম্মা মারা যাওয়ার আগে বলে গেছিলেন যে, আমাদের বাড়ির পাশের দেড় কাঠা জমি আম্মা পাশের প্রতিবেশী রফিক ভাইদের কাছে বিক্রি করবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। এর শর্ত ছিলো, তারা যখন বাড়ি করবে এবং সমসাময়িক বাজার দর অনুযায়ি ন্যায্য মুল্য দিবে।

২০১১ সালে আম্মার ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং সেই বছর ২ নভেম্বর আম্মা ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকাল করার আগে আম্মা একাধিকবার ওনার একাধিক আত্মীয়কে এই জমি বিক্রি করার কথা বলে যান। উনি আমার আব্বা, ও আমার ভাইবোনদেরও এই কথা বলে যান যে, “রফিক ভাইদের এই জমিটা ওদের দিয়ে দিস যদি ওরা বাড়ি করে এবং ন্যায্য দাম দিতে চায়।” এই অবস্থায় ওরা বাড়ি করতে চাচ্ছেন এবং জমির ন্যায্য দামও দিতে চাচ্ছেন। এমতাবস্থায়, এই জমি বিক্রয় করার ব্যাপারটি কি ওয়াসিওতের পর্যায়ে পড়ে?

জমির বর্তমান ওয়ারিশদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকিরা বিক্রিতে রাজি। রাজি না হওয়ার কারন হিসাবে তাঁর মতামত নিম্নরুপ যে, আমাদের মায়ের অসিয়ত ছিলঃ “জমিটা তাদের বিক্রির সময়ের বাজার দর অনুযায়ি ন্যায্য মূল্যে দিবি যখন তারা সেখানে বাড়ি করবে।” (আল্লাহ যেন আমার অনিচ্ছাকৃত ভুল ক্ষমা করেন)। মা বেচে থাকাকালিন তাদের ব্যবহার যেমন ছিলো এখন তেমন নাই। বর্তমানে তারা প্রতিবেশি হিসাবে খারাপ ব্যবহার করে। এছাড়াও আরো কিছু বিষয় হলঃ এখন তাদের কাছে সেই পরিমান টাকা আছে বলে প্রতীয়মান হয় নাই যা দিয়ে তারা ‘নগদ’ ২১ লাখ টাকা দিয়ে জমি কিনে আবার বাড়িও করবে। এতে যা বোঝা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে জমির মূল্য বেড়ে যাবার যে নিশ্চিত সম্ভবনা, সেই জন্য এখন তারা জমিটা কিনে রেখে দিতে চায়। যা কিনা আমাদের মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ছিল। কোন সন্তান যদি সম্পদটি রাখতে চায়, তারপরও কি দিয়ে দিতে হবে?

এখানে উল্লেখ্য যে, আম্মা যখন সম্পদটি দিয়ে দিতে বললেন তখন আমাদের মধ্যে কেউ এটা রাখার ইচ্ছা পোষণ করার মত ছিল না। কিন্ত রাখার ইচ্ছা পোষণ করলে কি তারপরও আম্মা না করতেন সেটা আমরা কেউ জানি না। কিন্তু আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হচ্ছে, এমন গঠনমূলক পরিকল্পনা আম্মার মত মানুষ কখনও না করতেন না। মা যে সময় অসিয়ত করে গেছেন, সেই সময়ে তাদের আচরণ যেমন ছিল, এখন তা বিদ্যমান না থাকলেও কি অসিয়ত বাধ্যতামূলক পূরণ করতে হবে?

জমির বর্তমান ওয়ারিশের মধ্যে আরেকজন উপরের বক্তব্যের উপর আপত্তি জানিয়েছেন যে, “উপরের কথায় আমার আপত্তি আছে। যেমন, জমি কিনে তারা রেখে দিবে। এইটা ওরা করবেনা। ওরা বাড়ি করার ব্যাপারে দ্রুত করতে চাইছিল, সেজন্য পাইলিং এর কাজও করতে চাইছিল তাড়াতাড়ি। এইটার তথ্যসূত্র দেলোয়ার কাকা। আমি ওদের এই প্রস্তাব নাকচ করে দিই। আমি জানিয়ে দেই যে, যা করার সব রেজিস্ট্রি করার পর। আগেনা। ফাইনাল প্রশ্নের ব্যাপারে আমার আপত্তি নাই। আর ইসলামী শরিয়া মোতাবেক ফয়সালা যা হবে সেইটা আমি মেনে নেবো।

উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে মুফতী সাহেবের প্রতি প্রশ্নঃ পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে অসিয়ত পালনে নতুন করে চিন্তা করার সুযোগ কতটুকু? অর্থাৎ, অসিয়ত পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ কি আছে? যদি থাকে তাহলে কখন তা করা যায়? এই অসিয়ত এবং জমি নিয়ে শরিয়ত সম্মত বিধান কি?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

প্ৰশ্নের বিবরন দ্ধারা বোঝা যাচ্ছে উক্ত মহিলাটি যখন মারা গেছে তখন তার স্বামী জীবিত ছিলো, আর স্বামী বেচে থাকাকালীন মহিলা (স্ত্ৰী) কোন সম্পদের মালিক হয়না, সুতরাং উপরক্ত বিবরন অনুযায়ী মহিলা (আপনাদের আম্মা) কৰ্তৃক উক্ত জমিটি বিক্ৰি করার অসিয়ত করাটা শরিয়ত সম্মত নয়। এবং তা অসিয়তের অন্তৰ্ভুক্তও হয়নি।

কেননা অসিয়ত হলো নিজস্ব সম্পত্তিতে সাওয়াবের আশায় মৃত্যুর পরে কারো জন্য মালিকানা সাব্যস্থ করা। আর মহিলাটি উক্ত জমির মালিক‌ই নয়। সুতরাং তার অসিয়ত‌ই শুদ্ধ হয়নি।

আর যদি উক্ত জমিটি মহিলা তার পৈত্ৰিক সূত্ৰে ওরাছাত হিসেবে বা ক্রয় সুত্রে মালিক হয় তথাপিও মহিলার উক্ত কথা টি “সমসাময়িক নায্য মূল্যে বাড়ি করার জন্য রফিক সাহেবের কাছে বিক্ৰি করার অসিয়ত করাটা” অসিয়ত এর অন্তৰ্ভুক্ত হয়নি। কেননা অসিয়তের অর্থ হলো تبرعا বা পরকালীন সাওয়াবের আশায় নিজের সমপত্তিতে কাওকে মালিক বানিয়ে দেওয়া। এখানে মালিক বানানো হয়নি। বরং তার কাছে বিক্ৰি করার কথা বলা হয়েছে, সুতরাং তা অসিয়তের অন্তৰ্ভুক্ত হয়নি।

তবে البيع بالوعدة এর পৰ্যায়ে পরে। অৰ্থাৎ কেমন যেন রফিক সাহেব এর কাছে উক্ত জমিটি বিক্ৰিটি করার ওয়াদা করেছেন। আর মৃত ব্যক্তির ওয়াদা পূরন করাটা তার ওয়ারিশদের জন্য আবশ্যকীয় নয়। সুতরাং উক্ত জমিটি বিক্ৰি করা বা না করা ওয়ারিশদের ইচ্ছাধীন।

আর যদি মহিলার কথাটি অসিয়ত হিসাবে গন্য করা হয় তথাপিও উক্ত জমিটি সম্পূৰ্ন বিক্ৰি করা আবশ্যক নয়। কেননা অসিয়ত সম্পদের এক তৃতীয়াংশে পালন করা মুস্তাহাব। নামাজ, রোজা, হজ এগুলোর অসিয়ত পুরন করা আবশ্যকীয়, সুতরাং বেশীর থেকে বেশী উক্ত জমিটির তিন ভাগের এক ভাগ রফিক সাহেবের কাছে বিক্ৰি করা মুস্তাহাব।

সুত্রসমূহ

بدائع الصنائع: فالوصية اسم لما اوجبه الموصي في ماله بعد موته

الموسوعة الفقهية: باب حروف الواو, تعريف الوصية

الدر المختار والحاشية ابن عابدين: كتاب الوصايا

الفتاوي الهندية: كتاب الوصايا, الباب الاول

الفتاوي الهندية: كتاب الوصايا, الباب الاول

فتاوي محمودية: 30/330

الدر المختار مع الشامي: 6/60

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 230 জন।

গ্রাচুয়িটি, জিপি ফান্ড, ছুটি নগদায়ন ইত্যদি পেনশনের মিরাস জারী হবে কি?

ফতওয়া কোডঃ 132-ওও-08-06-1443

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। মরহুম সিনিয়র অফিসার হিসেবে সোনালী ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন, মারা গেছেন অক্টোবর ২০১৬ ইং তে। তিনি ১ জন স্ত্রী, ১ জন ছেলে, ১ জন মেয়ে, ২ জন ভাই, ৩ জন ভাতিজা ও ২ জন ভাতিজি রেখে যান।
অসিয়তঃ উল্লেখযোগ্য কোন অসিয়ত করে যাননি, বেঁচে থাকতে বলতেন টাকা পেলে সেখান থেকে তার একজন ভাইকে কিছু টাকা দিবেন। টাকা পাওয়ার পর সেই ভাইকে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়।
ঋণঃ জমি বন্ধক/কট রাখা ছিল ৬০ হাজার টাকা দিয়ে, টাকা পাওয়ার পর ৬০ হাজার টাকা দিয়ে সেটা বের করা হয়েছে।

মরহুমের মৃত্যুর প্রায় দুই বছর পর নিম্নোক্ত খাতে টাকাগুলো তার স্ত্রীর একাউন্টে জমা হয়।
সময়ঃ ১২ জুন ২০১৮ ইং

গ্রাচুয়িটি/এককালীন পেনশনঃ ৪২২৬৯৪০/-

জিপি ফান্ড (বেতন থেকে বাধ্যতামূলক কর্তনঃ) ১৮০৮১১/-
সর্বমোটঃ ৪৪০৭৭৫১/-

এই টাকা পাওয়ার পরঃ
১. মরহুমের ভাই এর জন্য ৫ লক্ষ টাকা,
২. মরহুমের জন্য সাদাকাহ ৫০,০০০ টাকা,
৩. জমি বন্ধক থেকে মুক্ত করতেঃ ৬০ হাজার টাকা,
খরচ হয়। অবশিষ্ট টাকাঃ ৩৭৯৭৭৫১/- বেঁচে থাকে।

১. এই টাকার বন্টন কিভাবে হবে?

২. ১৫ মার্চ ২০২০ ইং হতে ছুটি নগদায়ন এর প্রাপ্য অর্থ হিসেবে কিছু টাকা মরহুমের স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে জমা হয়, যার পরিমাণঃ ৪৬৬৬৮০/- (চার লক্ষ ৬৬ হাজার ৬৮০ টাকা) এই টাকার বন্টন কিভাবে হবে?

৩. প্রতিমাসে মরহুমের স্ত্রী পেনশনের যে ভাতা পেয়ে থাকেন সেটা কি বন্টনযোগ্য? নাকি সেটার মালিকানা সম্পূর্ণ মরহুমের স্ত্রী?

উল্লেখ্য যে, স্ত্রীর একাউন্টে ব্যাংক যে টাকা পাঠিয়েছে সেটা পরিবারের সকলকে মালিক বানিয়ে পাঠিয়েছে, স্ত্রীকে এককভাবে মালিক বানিয়ে পাঠায় নাই।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদের সাথে চারটি হক সম্পৃক্ত যথাঃ ১. সর্বপ্রথম তার সম্পদ থেকে তার কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করতে হবে। ২. অতঃপর সামষ্টিক সম্পদ থেকে তার ঋণ পরিশোধ করতে হবে (যদি মরহুমের জীবদ্দশায় কোন ঋণ থাকে) ৩. অতঃপর অবশিষ্ট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ দ্বারা বৈধ ওসিয়ত পূরণ করা হবে। ৪. অবশিষ্ট সম্পদ কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ওয়ারিশদের মাঝে বন্টিত হবে।

১. প্ৰশ্নে উল্লেখিত বিবরন অনুযায়ী মরহুমের মৃত্যুর দুই বছর পরে তার স্ত্রীর এ‌কাউন্টে গ্ৰাচুয়াটি বা এককালীন পেনশন এবং জিপি ফান্ড থেকে মোট ৪৪০৭৭৫১ টাকা জমা হয়েছে। আবার তা থেকে মরহুমের ভাইকে ৫ লক্ষ টাকা, মরহুমের জন্য সাদকা ৫০ হাজার টাকা, জমি বন্ধক মুক্ত‍‍‍ করতে ৬০ হাজার টাকা খরচ করার পরে মোট বাকি ৩৭৯৭৭৫১ টাকাকে তার নিকটতম আত্বীয়দের মাঝে কি ভাবে বন্টন করা হবে, কে কতটুকু অংশ পাবে তা শরিয়ত স্পষ্ট ভাবে কুরআন ও হাদীসে বর্ননা করা হয়েছে। সুতরাং প্ৰশ্নের বিবরন অনুযায়ী মরহুম তার মৃত্যুর সময় ওয়ারিশ হিসাবে একজন স্ত্রী, একজন মেয়ে, একজন ছেলে, আর দুই ভাই, এবং তিনজন ভাতিজা , দুই জন ভাতিজী রেখে গেছেন। শরিয়তের দৃষ্টিতে মৃত ব্যাক্তির ছেলে জিবীত থাকতে মৃত ব্যক্তির ভাই এবং তাদের সন্তানেরা মৃত ব্যাক্তি থেকে কিছুই পাবেনা। আর বাকি একজন স্ত্রী, এক ছেলে এবং এক মেয়ের মাঝে মোক টাকা এই ভাবে ভাগ করা হবে যে, প্ৰথমে স্ত্রী মোট টাকার আট শতাংশ অর্থাৎ আট ভাগেৱ এক ভাগ। এরপর বাকি যে টাকা থাকবে তা তিন ভাগে ভাগ হবে। সেই তিন ভাগের দুই ভাগ পাবে ছেলে, আর একভাগ পাবে মেয়ে। সুতরাং সেই হিসাব অনুযায়ী স্ত্রী মোট টাকা থেকে ৪৭৪৭১৮.৮ টাকা পাবে, মেয়ে পাবে ১১০৭৬৭৭.৪ টাকা, বাকি ২২১৫৩৫৪.৭ টাকা ছেলে পাবে।

২. প্ৰথমে জানতে হবে ছুটি নগদায়ন এর অর্থ কি? বা কাকে বলে? লাম্প গ্ৰান্ট/ছুটি নগদায়ন হলো একজন সরকারি কর্মচারী পেনশন এর উদ্দেশ্যে পি আর এল (অবসর) গমনের পর যদি অর্জিত ছুটি পাওনা থাকে তবে তাকে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মূল বেতনেৱ পরিমান অর্থ প্ৰদান করা হয়ে থাকে, যাকে লাম্প গ্ৰ্যান্ট বা ছুটি নবায়ন বলে। সরকারি চাকরীজীবিদের চাকরী কালিন অর্থ গড় বেতনে প্ৰায় ৪/৫ বছর ছুটি জমা হয়। পেনশন গ্ৰহন কালিন এ ছুটি সরকারের নিকট শেষ মূল বেতন হিসাবে বিক্ৰি করা যায়। চাকরীর ২৫ বছর পুর্ন হওয়ার পরই ছুটি প্ৰাপ্যতা অনুসারে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের ছুটি নগদায়ন (বিক্ৰি) করে টাকা নেওয়া যায়। অনুরুপ ভাবে অর্থ বিভাগের ২২-৪-১৯৮৫ ইং তাৱিখের অম/অবিপ্ৰবি ২/ছুটি_১৬_৮৪_৭৬ নম্বর পত্ৰ অনুযায়ি ১-৬-৮৪ ইং তারিখ বা উহার পরে চাকরীরত অবস্থায় কোন সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারী মৃত্যুবরন করিলে অর্থ বিভাগের ২১-১-৮৫ তারিখের অম/অবি/প্ৰবি২/ছুটি_১৬_৮৪_৯ নম্বর স্মারকের আওতায় মৃত্যবরনের তারিখে অবসর গ্ৰ্‌হন ধরিয়া পাওনা সাপেক্ষে ছুটির বদলে তাহার প্ৰাপ্য নগদ অর্থ তাহার পরিবারকে প্ৰদান করা যাইতে পারে।এই ক্ষেত্ৰে ”পরিবার” বুঝাইতে পারিবারিক পেনশন প্ৰদান নিমিত্তে পেনশন বিধিতে প্ৰদত্ত সংজ্ঞানুযায়ী পরিবার বুঝাইবে। সুতরাং উপরোক্ত‍‍‍ আলোচনা থেকে জানা গেলো যে ছুটি নগদায়ন বাবদ যে টাকা পাওয়া যায় তা মূলত ঐ চাকরীজিবীর অর্জিত সম্পদ যা তার মৃত্যুর পরে তার ওয়ারিশদের (পরিবারের) মাঝে শরিয়ত মুতাবিক বন্টন যোগ্য। অত‌এব প্ৰশ্নে উল্লেখিত মরহুমের স্ত্রীর একাউন্টে ছুটি নগদায়ন বাবধ যে টাকা জমা হয়েছে তা মরহুমের ওয়ারিশদের মাঝে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী বন্টন করতে হবে। আর এখানে মরহুম এর ওয়ারিশ বলতে তার একজন স্ত্রী, একজন ছেলে, একজন মেয়ে, (আৱ তার দুই ভাই এবং তাদের সন্তানেরা মৃত ব্যাক্তির ছেলে জিবীত থাকার কারনে মাহরুম হবে। কিছুই পাবেনা) সুতরাং স্ত্রী উক্ত টাকার আট শতাংশ অর্থাৎ আট ভাগেৱ এক ভাগ পাবে। তারপর যে টাকা বাকি থাকবে তা তিন ভাগ করতে হবে। সেই তিন ভাগের দুই ভাগ ছেলে পাবে। আর একভাগ মেয়ে পাবে। সুতরাং উক্ত হিসাব অনুযায়ি স্ত্রী পাবে ৫৮৩৩৫ টাকা‌। আর মেয়ে পাবে ১৩৬১১৫ টাকা , আর বাকী ২৭২২৩০ টাকা ছেলে পাবে।

৩. শরিয়তের দৃষ্টিতে মৃত ব্যক্তির সম্পদের মাঝে ব্যবসায়িক সমপত্তি স্থাবর-অস্থাবর, নগদ অর্থ, ব্যাংক ব্যালেন্স, এবং পেনশন সবই শামিল। সুতরাং পেনশন হিসাবে মরহুমের স্ত্রীর একাউন্টে প্ৰতিমাসে যে টাকা জমা হয় তা শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী মরহুমের ওয়ারিশদের মাঝে বন্টনযোগ্য। শুধু স্ত্রী এর মালিক এমনটি নয়। আর পারিবারিক পেনশন প্ৰাপ্তির যোগ্য ব্যাক্তি এবং প্ৰাপ্তির শর্তাদি স্মাৱক নং ২৫৬৬(৪০) এফ তারিখ ১৬ই এপ্ৰিল ১৯৫৯ সেকশন ২ এর অনুচ্ছেদ ৫ তে বিধানে যারা পেনশনের উত্তোরাধীকারী হতে পারে তার মধ্যে কর্মচারির স্বামী বা স্ত্রী, এবং তাদের সন্তানাদী উল্লেখযোগ্য।অত‌এব বোঝা গেলো যে, পেনশনের টাকাও ওয়ারিশদেৱ মাঝে বন্টনযোগ্য, স্ত্রীর একা মালিকানাধীন নয়।

সুত্রসমূহ

سورة النساء: 11 يوصيكم الله في اولادكم للذكر مثل حظ الانثيين

سورة النساء: 12 ولهن الربع مما تركتم ان لم يكن لكم ولد.فان كان لكم ولد فلهن الثمن مما تركتم مم بعد وصيية توصون بها او دين

السراجي: 17 بنوا الاعيان والعلات كلهم يسقطون بالابن وابن الابن وان سفل

رد المحتار علی الدر المختار: 10/493 الترکۃ في الاصطلاح ما ترکہ المیت من الأموال صافیا عن تعلق الغیر بعین من الأموال

الموسوعة الفقهية الكويتية: 30/254 اختلف الفقهاء في الوصية بالزائد على الثلث للأجنبي على قولين : القول الأول : إن الوصية للأجنبي في القدر الزائد على الثلث تصح وتنعقد ، ولكنها تكون موقوفة على إجازة الورثة ، فإن لم يكن له ورثة نفذت دون حاجة إلى إجازة أحد ، وهذا هو مذهب الحنفية

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 622 জন।

পিতার পুর্বে পুত্র ইন্তেকাল করলে নাতি-নাত্নি দাদার সম্পদের ওয়ারিশ হবে না!

ফতওয়া কোডঃ 98-ওও-14-04-1443

প্রশ্নঃ ইসলামের মিরাস আইনে যদি পিতার পুর্বে পুত্র ইন্তেকাল করেন, তাহলে কি নাতি-নাত্নি দাদার সম্পদের ওয়ারিশ হবে?

উত্তরঃ بسم الله الرحمن الرحيم

ইসলামের মিরাস আইনে নিকটতম আত্বীয়তার ভিত্তিতেই সম্পদ বন্টন করা হয়েছে, দরিদ্রতা বা দুঃখ-দুর্দশা বিমচনের ভিত্তিতে নয়। সুতরাং দাদা-নাতির চেয়ে পিতা-পুত্র অধিকতর নিকটতম হওয়ায় তারাই সম্পদ পাওয়ার অধিক হকদার। পিতার পুর্বে পুত্র ইন্তেকাল করলে শরিয়ত নাতি-নাত্নিদের বঞ্চিত করেনি, বরং দাদা চাইলেই নিজ নাতি-নাত্নিদের নিজ সম্পদ থেকে দান করে মানবতা স্থাপন করতে পারেন বরং এটি অধিকতর অতিউত্তম ও উচিত বলে বিবেচিত হবে।

উল্লেখ্য যে, ১৯৬১ সালে তৎকালিন পাকিস্তান আমলে নাতি-নাত্নিদের সন্তানের স্তরে রেখে দাদার ওয়ারিস নাতি-নাত্নিরা হবে সুত্রে এক অনিসলামিক আইন করা হয়, যা এখনও বাংলাদেশে বিদ্যমান রয়েছে, যা সংশোধন করে পবিত্র কুরআনের আইন চালু করা সকল ধর্মপ্রান মুসলমানদের ইমানী দাইত্ব।

সুত্রঃ সুরা নিসাঃ আয়াত ৭-৮, তাফসিরে কাবিরঃ ৯/৫০৩, মাবসুতুস সুরুখসীঃ ২৯/১৪১, মাআরিফুল কুরআনঃ ২/৩১৩, কেফায়াতুল মুফতিঃ ৮/৩২৪, ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাতঃ ১২/৪৯৩-৪৯৫

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 303 জন।

নানার বাড়ীর যে সম্পত্তির মালিক মা, মায়ের ইন্তেকালের পরে ওই সম্পত্তির মালিক কি শুধু তার মেয়েরা হবে?

ফতওয়া কোডঃ 84-ওও-09-02-1443

প্রশ্নঃ আমার মা তার বাবার বাড়ি অর্থাৎ আমার নানার বাড়ি থেকে মিরাসী সম্পত্তি পেয়েছে, শুনেছি আমার মায়ের এই সম্পত্তির মালিক শুধু বোনেরা হবে ভাইয়েরা হবে না, এটা কতটুকু শরীয়ত সম্মত?

উত্তরঃ بسم الله الرحمن الرحيم

আপনি ভুল শুনেছেন, ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুযায়ী আপনার মা আপনার নানার বাড়ি থেকে যে সম্পত্তির মালিক হয়েছেন, আপনার মা এর ইন্তেকালের পর তা ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী সকলের মধ্যে ভাগ হবে, ছেলে পাবে মেয়ে পাবে না বা মেয়ে পাবে ছেলে পাবে না এমন কোনো নিয়মনীতি ইসলামী শরীয়তে নেই।

সূত্রঃ সুরা নিসাঃ ১১, আদ্দুররুল মুখতারঃ ৬/৭৬২, ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাতঃ ১২/৪৫১

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 458 জন।

কোন ওয়ারিশকে ঠকানোর উদ্দেশ্যে একক ভাবে কাউকে সম্পদের মালিক বানানো!

ফতওয়া কোডঃ 64-ওও-8-1-1443

প্রশ্নঃ কোন মানুষের যদি ছেলে না থাকে, কেবল মাত্র মেয়ে থাকে এবং সে যদি তার সমস্ত সম্পদ মেয়েদের নামে লিখে দেয় এবং তা যদি হয় এ জন্য যে, বাকি ওয়ারিশরা যেন সেই সম্পদ না পায়, তাহলে সেই ব্যাপারে শরিয়ত কি বলে? তা করা জায়েজ হবে কি?

উত্তরঃ بسم الله الرحمن الرحيم

মালিক তার সম্পদ নিজ জীবদ্দশায় যাকে যেভাবে ইচ্ছা দিতে পারেন, তবে কেউ যদি তার সমস্ত সম্পদ মেয়েদের নামে লিখে দেয় এবং তা যদি হয় এ জন্য যে, বাকি ওয়ারিশরা যেন সেই সম্পদ না পায়, তাহলে তা কার্যকর হলেও শরীয়তের দৃষ্টিতে মালিক তার অসৎ নিয়তের কারনে মারাত্বক গুনাহগার বলে বিবেচিত হবেন।

সুত্রঃ সুরা নিসাঃ ১২, সুরা মাইদাঃ ১১৯, তিরমিজী শরীফঃ ৪/১৮৬, ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়াহঃ ৬/৪৭৫, ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাতঃ ১২/৪৭৫

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 286 জন।