Darul Ifta, Rahmania Madrasah Sirajganj

ভাষা নির্বাচন করুন বাংলা বাংলা English English
ফাতাওয়া খুঁজুন

দাওয়াত ও তাবলিগ

তাবলীগ কি নবীওয়ালা কাজ? হাদিসে কি এর কোন প্রমান আছে?

ফতওয়া কোডঃ 175-দাতা-12-02-1444

প্রশ্নঃ

হযরত মাওলানা ইলইয়াস রহ. এর তাবলীগ কি নবীওয়ালা কাজ? হাদিসে কি এর কোন প্রমান আছে?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

হযরত মাওলানা ইলইয়াস রহ. এর তাবলীগকে নবীওয়ালা কাজ বলা যায়, হযরত আনস রা. ও আরেকজন সাহাবীর হাদিসে এর স্পষ্ট প্রমান আছে। কুরআন ও হাদিসের অনেক নির্দেশনা দ্বারাও প্রমানিত।

সুত্রসমূহ

سنن الترمذي: 2/156 عن أنس بن مالک رضی اللہ عنہ أن رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کان یمر بباب فاطمة لستة أشہر إذا خرج لصلاة المفجر یقول: الصلاة! یا أہل البیت! إنما یرید اللہ لیذہب عنکم الرجل أہل البیت ویطہرکم تطہیرًا

سنن ابی داؤد: 1/179 عن مسلم بن أبي بکرة عن أبیہ قال: خرجت مع النپی صلی اللہ علیہ وسلم لصلاة الصبح، فکان لا یمر برجل إلا ناداہ بالصلاة أو حرّکہ برجلہ

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 38 জন।

মাসতুরাত জামাআত নাজায়েয কেনো?

ফতওয়া কোডঃ 100-তাত,দাতা-14-04-1443

প্রশ্নঃ মাসতুরাত জামাআত বা নারীদের দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ করা কেমন? জানতে চাই!

উত্তরঃ بسم الله الرحمن الرحيم

মাসতুরাত জামাআত নাজায়েয সম্বন্ধে বিশ্ব বিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দ এর প্রকাশিত একটি ফতওয়া নিচে দেয়া হলো। উল্লেখ্য যে, নিম্নক্ত ফতওয়ার সাথে রহমানিয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় ফাতওয়া বিভাগের মুফতি সাহেবগন একাত্বতা পোষন করছেন।

“প্রশ্ন সম্মানিত মুফতি সাহেব, আমাকে একটি কথা বুঝিয়ে দিন যে, নারীদের জন্য ৩ দিনের জন্য, ৪০ দিনের জন্য বা ১০ দিনের জন্য নিজের মাহরামের সাথে জামাতে যাওয়া কেমন? শরিয়ত কি ইহার অনুমতি দিয়েছে? পবিত্র হাদীস এবং সাহাবায়ে কেরাম রাঃগনের আমল দ্বারা প্রমাণিত কি? বিস্তারিত জানালে ভাল হয়!

উত্তরঃ নারীদের দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করা সম্পর্কে দারুল উলুম দেওবন্দ ও মাজাহিরুল উলুম সাহারানপুরের সর্বসম্মতিক্রমে, সম্মিলিত ফতওয়া নিচে দেয়া হল৷

নারীদের দাওয়াত ও তাবলীগের সফর করা সম্পর্কে হযরত মাওলানা মুফতি সায়্যিদ মাহাদী হাসান রহঃ (সদর মুফতি, দারুল উলুম দেওবন্দ) এর ফতওয়া, হযরত মাওলানা মুফতি সাঈদ আহমদ রহঃ (মুফতিয়ে আজম, মাজাহিরুল উলুম সাহরানপুর) ও হযরত মাওলানা আব্দুল লতিফ রহঃ (নাযিমে আ’লা, মাজাহিরুল উলুম সাহরানপুর) এর পরিপুর্ন সমর্থন ও সত্যায়ন৷

প্রশ্ন : উলামায়ে দ্বীন এবং শরীয়তের যোগ্য মুফতি সাহেবগণ, নারীদের মাহরামের সাথে দাওয়াত ও তাবলীগের সফর করার ব্যাপারে কি বলেন?

নিবেদক : হাফেজ আব্দুর রহিম, কোঠেওয়ালী মসজিদ, সদর বাজার, দিল্লি৷ তারিখ : ১৭/০২/১৩৭১ হিঃ

উত্তর : بسم اللہ الرحمن الرحیم

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম রাঃ এবং তাবেঈন রহঃগনের জামানায় নারীরা তবলিগের জন্য সফর করতেন না, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম রাঃ নারীদেরকে তাবলীগের জন্য কোথাও সফর করার নির্দেশ দেননি, এবং নিজেরাও নারীদেরকে তাবলিগের জন্য সফরে পাঠাননি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম রাঃগনের এই আমল থেকে প্রমাণিত হয় যে, নারীদের দাওয়াত ও তাবলীগের জন্য সফর করা জায়েয নেই৷ খইরুল কুরুনে যখন নারীদের কোন মাসআলা-মাসাইল জানার প্রয়োজন হতো, তখন তারা রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মানিতা স্ত্রীগণ ও সাহাবায়ে কিরাম রাঃগনের স্ত্রীদের থেকে জেনে নিতেন, ওই জামানায় তাবলীগ শুধু পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট-নির্ধারিত ছিল, নারীরা পর্দার সাথে শরীয়তের আহকাম সমূহ জেনে, দ্বীনী বিষয় সমূহ শিক্ষা করতো, পুরুষদের কাজ ছিল, নিজে দ্বীনী বিষয়ে যতটুকু জ্ঞানী, তা স্ত্রীগণকে জানাতেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম রাঃগণ তাবলীগের জন্য সফর করতেন, জিহাদে যেতেন, কিন্ত ব্যাপকভাবে নারীদেরকে নিজেদের সাথে সফরে নিয়ে যেতেন না, খইরুল কুরুনেই যদি এই অবস্থা! তাহলে এই ক্ষতিকর ও ফিতনার যামানায় তাবলিগের জন্য সফর করা, যদিও তা মাহরামের সাথেই হোকনা কেন? কি ভাবে যায়েজ হতে পারে? এ ধারনা মনে আনা যে, তাহলে নারীদের জন্য তাবলিগ কিভাবে করতে হবে? এই ভিত্তিতে তাদের জন্য তাবলিগ শুদ্ধ নয় যে, তাদের পুরুষেরা তাদের তাবলিগ করবে, তাদেরকে দ্বীনের আহকাম সমূহ শিক্ষা দিবে, এবং পুরুষ নিজে দ্বীনি বিষয় সমূহ যারা জানেন তাদের থেকে শিখবে, এবং নিজে শিক্ষা করা ও অন্যকে শিক্ষা দেয়ার জন্য সফর করবে, অন্যথায় নারীদের তাবলিগের জন্য ব্যাপকভাবে সফর করা, ফেতনার দরওয়াজা সমূহ খুলে দেয়ার মতো, যা বর্তমানে দুনিয়াব্যাপি সুদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যাক্তিরা প্রত্যক্ষ্য দেখতে পারছেন৷

و اللہ تعالی اعلم

মুফতি সায়্যিদ মাহাদী হাসান রহঃ, সদর মুফতি দারুল উলুম দেওবন্দ৷ তারিখ : ২৫/০২/১৩৭১ হিঃ

উপরক্ত ফতওয়া সঠিক : পরিপুর্ন সমর্থন ও সত্যায়নে : হযরত মাওলানা মুফতি সাঈদ আহমদ রহঃ (মুফতিয়ে আজম, মাজাহিরুল উলুম সাহরানপুর), ও হযরত মাওলানা আব্দুল লতিফ রহঃ (নাযিমে আ’লা, মাজাহিরুল উলুম সাহরানপুর)

নোটঃ উপরোক্ত দুই হযরাতের সমর্থন ও সত্যায়ন, মাজাহিরুল উলুম সাহারানপুর এর দারুল ইফতায় সংরক্ষিত!

—মুফতি হাবিবুর রহমান খয়রাবাদী দাঃ বাঃ, তারিখ : ২৩/০৩/১৪৩২ হিঃ

ফতওয়াটি যেভাবে নকল করা হয়েছে তা সম্পুর্ন সঠিক, সত্যায়নেঃ মুফতি জয়নুল ইসলাম কাসেমী দাঃ বাঃ, নায়েবে মুফতি, দারুল উলুম দেওবন্দ৷ তারিখ : ২৮/১১/৩২ হিঃ

প্রশ্ন : আমি কি আমার স্ত্রীকে নিয়ে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজে যেতে পারব? নারীদেরকে দাওয়াত ও তাবলীগে নিয়ে যাওয়া উচিত কিনা? এ ব্যাপারে উলামায়ে দ্বীন কি বলেন?

উত্তর : حامدا و مصليا و مسلما, নারীদেরকে জামায়াতে নিয়ে যাওয়া দাওয়াত ও তাবলীগের উদ্দেশ্য এবং পছন্দনীয় নয়, এবং و اثمهما اكبر من نفعهما (সুরা বাকারা, আয়াত ২১৯) এর মতো, আর নারীরা অনেক ক্ষেত্রে বেপরোয়া হয়ে থাকে৷ فقط

و الله تعالي اعلم بالصواب

※ ফতওয়ায়ে রহিমিয়া : ১৩৬/২-১৩৭, বাবুদ দাওয়াতি ওয়াত তাবলিগ৷
※ ফতওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ : ২০৮/১৬-২০১০, ফতওয়া কোডঃ 62-51/N=2/1434

و اللہ تعالی اعلم

دار الافتاء، دار العلوم دیوبند

উপরে উল্লেখিত ফতওয়া ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দারুল ইফতার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নারীদের তাবলীগের নাম দিয়ে ঘরের বাইরে ছেড়ে দেওয়া শরীয়ত সম্মত হবে না৷ নিজ ঘরে মহিলাদের তা’লিম করাই মহিলাদের জন্য দাওয়াতের কাজ৷ ঘরের বাইরে গিয়ে তা’লিম করাকেও শরীয়ত সমর্থন করেনা বিধায় তা বর্জনীয়৷

সুত্রঃ সুরা আহযাবঃ আয়াত ৩৩, আহকামুল কুরআনঃ ৩/৪৭১, তিরমিজি শরীফঃ ৩/৩১০, বাদাইয়ুস সানায়ীঃ ১/৬৬৮, আদ্দুররুল মুখতারঃ ১/৫৬৬, আহসানুস ফতওয়াঃ ৮/৫৫, ৮/৬১, ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত : ২/৪১৬-৪৪৪, তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিমঃ ৩/৩২৩, ইমদাদুল মুফতিনঃ পৃ:- ৪৭১

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 583 জন।

ইসলাম বিরোধী কাজের প্রতিবাদে জিহাদ করা যাবে?

ফতওয়া কোডঃ 77-দুই-07-02-1443

প্রশ্নঃ দেশে কোন ইসলাম বিরোধী কাজের প্রতিবাদে জিহাদ করা যাবে না?

উত্তরঃ بسم الله الرحمن الرحيم

কোন ইসলাম বিরোধী কাজের প্রতিবাদে সাধ্যমতো শরীয়তসম্মত উপায়ে প্রতিবাদ করা জরুরী, শরীয়ত বিরোধী উপায়ে নয়।

সূত্রঃ ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াঃ ৫/৩৫২, ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাতঃ ২/৩৮২

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 325 জন।