Darul Ifta, Rahmania Madrasah Sirajganj

ভাষা নির্বাচন করুন বাংলা বাংলা English English
ফাতাওয়া খুঁজুন

Darul Ifta, Rahmania Madrasah Sirajganj, Bangladesh.

সিসিটিভির মাধ্যমে ছবি উঠানো সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম!

ফতওয়া কোডঃ 179-হাহা-04-05-1444

প্রশ্নঃ

সিসিটিভির মাধ্যমে ছবি উঠানো জায়েজ আছে কি?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

ক্যামেরা, ডিজিটাল ক্যামেরা, স্মার্টফোন, ওয়েব ক্যামেরা ও সিসিটিভি বা এর সংশ্লিষ্ট যেকোনো যন্ত্রের মাধ্যমে ছবি উঠানো একই কথা, ইসলামী শরীয়তে তা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম।

নিঃসন্দেহে সিসিটিভি প্রয়োজনের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়, তবে এই ধরনের প্রয়োজনকে দারুল উলুম দেওবন্দসহ বিশ্বের গ্রহণযোগ্য দারুল ইফতা ও ইসলামী আইনবিদগণ শরীয়ত সম্মত প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত করেননি।

বিধায় সিসিটিভির মাধ্যমে ২৪ ঘন্টা যেভাবে প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় ছবি উঠানো হচ্ছে, এটা কখনো জায়েজ হতে পারে না।

সুত্রসমূহ

فتاوی شامی, حاشية ابن عابدين: 1/647 قال في البحر: وفي الخلاصة وتكره التصاوير على الثوب صلى فيه أو لا، انتهى، وهذه الكراهة تحريمية. وظاهر كلام النووي في شرح مسلم: الإجماع على تحريم تصوير الحيوان، وقال: وسواء صنعه لما يمتهن أو لغيره، فصنعته حرام بكل حال؛ لأن فيه مضاهاة لخلق الله تعالى، وسواء كان في ثوب أو بساط أو درهم وإناء وحائط وغيرها اهـ.

غمز عیون البصائر شرح الأشباہ والنظائر لابن نجیم: 1/277 فالضرورة بلوغہ حداً إن لم یتناول الممنوع ھلک أو قارب وھذا یبیح تناول الحرام، والحاجة کالجائع الذي لو لم یجد ما یأکلہ لم یھلک غیر أنہ یکون في جھد ومشقة، وھذا لا یبیح الحرام ویبیح الفطر فی الصوم 

درر الحکام شرح مجلة الأحکام: 1/38 الضرورة ھي الحالة الملجئة لتناول الممنوع شرعاً، والحاجة: أما الحاجة فإنھا وإن کانت حالة جھد ومشقة فھي دون الضرورة ولا یتأتی معھا الھلاک فلذا لا یستباح بھا الممنوع شرعاً، مثال ذلک: الصائم المسافر بقاوٴہ صائماً یحملہ جھداً ومشقة فیرخص لہ الإفطار لحاجتہ للقوة علی السفر 

صحيح البخاري: 1/160  الضرورة ھي خوف الضرر بترک الأکل إما علی نفسہ أو علی عضو من أعضائہ 

أصول الإفتا وآدابہ: 268-269 وإن ھذا التعریف وإن کان مختصاً بضرورة أکل المحرم ولکنہ یشمل تعاطي کل محظور بشرط أن یکون ھناک خوف علی النفس أو العضو کارتکاب الکذب أو المحظورات الأخری في حالة الإکراہ الملجیٴ، ویجب لتحقق الضرورة أمور: الأول أن یکون ھناک خوف علی النفس أو علی العضو، الثاني: أن تکون الضرورة قائمة لا منتظرة بمعنی أن یقع خوف الھلاک أو التلف بغلبة الظن حسب التجارب لا مجرد وھم بذلک، الثالث: أن لا یکون لدفع الضرر وسیلة أخری من المباحات ویغلب علی ظن المبتلی بہ أن دفع الضرر متوقع بارتکاب بعض المحرمات الخ

شرح القواعد الفقھیة: 159  وأما المنھیات التي تباح عند الضرورة کإتلاف مال الغیر وشرب المسکر فإنھا تحل بل تجب بالملجیٴ لا بغیر الملجیٴ 

شرح القواعد الفقھیة: 210 والظاھر أن ما یجوز للحاجة إنما یجوز فیما ورد فیہ نص یجوزہ أو تعامل أو لم یرد فیہ شیٴ منھما ولکن لم یرد فیہ نص یمنعہ بخصوصہ وکان لہ نظیر فی الشرع یمکن إلحاقہ بہ وجعل ما ورد في نظیرہ وارداً فیہ 

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 218 জন।

জুমুআর খুতবায় সম্মিলিত দুআ করা জায়েজ আছে কি?

ফতওয়া কোডঃ 178-জুই-28-04-1444

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম, জুমুআর খুতবায় দুআর সময় খতিব সাহেবসহ মুসল্লিরা সম্মিলিত ভাবে হাত তুলে দুআ করা জায়েজ আছে কি? আর যদি জায়েজ না হয় তাহলে এটা কি বিদআত হবে?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

খুতবায় হাত তুলে দুআ করার অনুমতি নেই, ইমাম-মুসল্লী দুই জনের জন্যই, বরং এ সময় কেবল তৰ্জনীর ইশারায় দুআ করার অনুমতি আছে, খতীবকে হাত তুলে দুআ করতে দেখে বহু সলফ বদ দুআ করতেন।

বিশর বিন মারওয়ানকে খুতবায় হাত তুলে দুআ করতে দেখে হযরত উমারাহ বিন রুআইবান রহ. বললেনঃ ঐ হাত দুটিকে আল্লাহ তাআলা বিকৃত করুন।

হযরত মাসরুক রহ. বলেনঃ জুমুআর দিন ইমাম-মুক্তাদি মিলে যারা হাত তুলে দুআ করে আল্লাহ তাআলা তাদের হাত কেটে নিন।

অনুরুপ ভাবে শরিয়তে অনুমতি নাই মুক্তাদীদের হাত তুলে দোআ করা, বরং ইমাম খুতবায় হাত না তুলে দুআ করলে মুক্তাদী হাত না তুলেই একাকী নিন্মস্বরে বা চুপে চুপে আমীন বলবে।

হা, খুতবায় বৃষ্টি প্ৰাৰ্থনা বা বৃষ্টি বন্ধ করার জন্য দুআ করার সময় ইমাম-মুক্তাদী সকলে হাত তুলে দুআ করবেন। এবং মুক্তাদীরা আমীন আমীন বলবেন।

সুত্রসমূহ

صحيح المسلم: رقم 874

سنن ابي داؤد: رقم 04

مصنف ابن ابي شيبة: رقم 5491-5493

صحيح البخاري: رقم 932-933, 1013-1029

سنن الترمذي: كتاب الجمعة

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 48 জন।

নির্বাচনকে জিহাদ বলা কেমন?

ফতওয়া কোডঃ 177-সিজি-18-03-1444

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম, নির্বাচনকে জিহাদ বলা যাবে কি?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

গণতন্ত্র ইসলাম সম্মত নয়। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কখনোই পরিপূর্ণ ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। কেননা গণতন্ত্র একটি মানব রচিত মতবাদ। এর মানে জনগণ নিজেই নিজেকে শাসন করা। তাই এটি ইসলাম বিরোধী মতবাদ। শাসনের অধিকার সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহর অধিকার। কোন মানুষকে আইন প্রণয়ন করার অধিকার দেয়া জায়েয নেই; সে মানুষ যেই হোক না কেন।

তাই নির্বাচনকে দুই দিক দিয়ে লক্ষ করে জিহাদ বলা নাজায়েয। ১. নির্বাচনকে শ্রেষ্ঠ জিহাদ বলা, ২. হালালকে হারাম মনে করা। যে ব্যক্তি গণতান্ত্রিক সরকার পদ্ধতির প্রকৃত অবস্থা জানে, ইসলামে গণতন্ত্রের হুকুম কি সেটা জানে, তারপরও এ পদ্ধতিকে স্বীকৃতি দিয়ে নিজেকে কিংবা অন্য কাউকে নির্বাচিত করে সে ব্যক্তি ভয়াবহ শংকার মধ্যে আছে।

কারণ, গণতান্ত্রিক পদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে ইসলাম বিরোধী। তবে যে ব্যক্তি এ পদ্ধতির অধীনে নিজেকে কিংবা অন্য কাউকে এ জন্য নির্বাচিত করে যাতে করে এ আইনসভাতে ঢুকে এর বিরোধিতা করা যায়, এ পদ্ধতির বিপক্ষে দলিল প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়, সাধ্যানুযায়ী অকল্যাণ ও দুর্নীতি রোধ করা যায় এবং যেন গোটা ময়দান দুর্নীতিবাজ ও নাস্তিকদের হাতে চলে না যায়, যারা জমিনে দুর্নীতি ছড়িয়ে দেয়, মানুষের দ্বীন ও দুনিয়ার সমূহ কল্যাণ নস্যাৎ করে দেয়।

তবে এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কল্যাণের দিক বিবেচনা করে ইজতিহাদ করার তথা বিবেক-বিবেচনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ রয়েছে। কেননা আমাদের দেশের অবস্থা এমন দাঁড়িয়ে গেছে যে, হুট করেই এ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়, তাই এ ব্যাপারে চেষ্টা ও ফিকির সর্বদা করা উচিত। কিন্তু সেই সাথে গণতন্ত্র ইসলাম সম্মত নয় বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকার দ্বারা যদি ইসলাম বিরোধী শক্তি ক্ষমতায় আসবে, আর ইসলামের আরো বেশি ক্ষতি করতে শুরু করে দিবে, তাই সামর্থবান ব্যক্তি হাত গুটিয়ে বসে থাকা জন্য অনুচিত। যেমন- وَإِنَّا سَمِعْنَا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوُا الظَّالِمَ فَلَمْ يَأْخُذُوا عَلَى يَدَيْهِ، أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابٍ হযরত আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন। যদি লোকেরা জালিম ব্যক্তিকে দেখেও তাকে বাঁধা না দেয়, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাদের সবার উপর আযাব নাজিল করে দিতে পারেন।

নিজের চোখের সামনে জালিম ও ইসলাম বিদ্বেষী নির্বাচিত হয়ে এসে জুলুমের ষ্টীমরোলার মুসলমানদের উপর চালালে, ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে, যে ব্যক্তি নির্বিকার বসে থাকে, মাজলুমের সহায়তা করে জালিমের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ না করে থাকে, উক্ত ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে লাঞ্ছিত হবে। হাদীসে ইরশাদ হচ্ছে- عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ أُذِلَّ عِنْدَهُ مُؤْمِنٌ فَلَمْ يَنْصُرْهُ، وَهُوَ يقَدِرُ عَلَى أَنْ يَنْصُرَهُ أَذَلَّهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ রসূলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তির সামনে কোন মুমিনকে অপমান করা হয়, অথচ তাকে সহায়তা করার ক্ষমতা উক্ত ব্যক্তির থাকা সত্বেও সে তাকে যদি সাহায্য না করে, তাহলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে সবার সামনে লাঞ্ছিত করবেন।

ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো সম্পর্কে যতটুকু জানাশোনা আছে তা থেকে বলছি, কেউই প্রচলিত গণতন্ত্রকে হালাল মনে করেনা, হারাম মনে করেই অপারগতার কারণে অংশগ্রহণ করে মাত্র। আর এতদসংশ্লিষ্ট কাজকে জিহাদ আখ্যা দেন শাব্দিক অর্থে। হাকিকী অর্থে নয়। আর জিহাদের শাব্দিক অর্থ হল, ন্যায়ের জন্য সংগ্রাম, প্রচেষ্টা, সাধনা করা। হাকিকী অর্থে বললে অবশ্যই ভুল ও নাজায়েয হবে।

সুত্রসমূহ

سنن أبي داود: رقم 4338  وإنَّا سمِعنا النَّبيَّ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم يقولُ : إنَّ النَّاسَ إذا رأَوُا الظَّالمَ فلم يأخُذوا على يدَيْه أوشك أن يعُمَّهم اللهُ بعقابٍ وإنِّي سمِعتُ رسولَ اللهِ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم يقولُ : ما من قومٍ يُعمَلُ فيهم بالمعاصي ، ثمَّ يقدِرون على أن يُغيِّروا ، ثمَّ لا يُغيِّروا إلَّا يوشِكُ أن يعُمَّهم اللهُ منه بعقابٍ

واخرجه مسند احمد و سنن الترمذي و الصحيح ابن حبان

مسند أحمد: رقم 15985 عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ أُذِلَّ عِنْدَهُ مُؤْمِنٌ فَلَمْ يَنْصُرْهُ، وَهُوَ يقَدِرُ عَلَى أَنْ يَنْصُرَهُ أَذَلَّهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

المعجم الكبير للطبراني: رقم 5554 عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ أُذِلَّ عِنْدَهُ مُؤْمِنٌ فَلَمْ يَنْصُرْهُ، وَهُوَ يقَدِرُ عَلَى أَنْ يَنْصُرَهُ أَذَلَّهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 172 জন।

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এর স্থলে বিসমিহি তাআলা লেখা কি বৈধ?

ফতওয়া কোডঃ 176-আআ-12-02-1444

প্রশ্নঃ

কওমী আলেমরা তাদের বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন এবং বিভিন্ন জায়গায় শুরুতে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এর স্থলে বিসমিহি তাআলা লিখতেছেন। প্রথম বাক্যটির অর্থ হলোঃ আমি আল্লাহর নামে শুরু করছি যিনি পরম দাতা ও দয়ালু। আর ২য় বাক্যের অর্থ হলোঃ তার নামের সাথে শুরু করছি যিনি মহান। আরবি গ্রামার অনুযায়ী যিনি মহান বলতে যে কারোর দিকে ইংগিত করা যায়। সুতরাং সেটা কি করে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম এর বিকল্প হতে পারে?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

চিঠি-পত্ৰ ও গুরুত্ত্বপুৰ্ন লিখনীর শুরুতে পুরো বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম লেখা সুন্নত, আল্লাহর রসুল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আমল দ্ধারা এটি প্ৰমানিত, পবিত্র কুরআন শরীফে হযরত সুলাইমান আঃ এর চিঠির আলোচনা এসেছে, যাতে বিসমিল্লাহ দ্ধারা শুরু করার কথা উল্লেখ আছে।

সহীহ হাদীসে এসেছে, হযরত মিস‌ওয়ার ইবনে মাখরাসা রা. ও হযরত মারওয়ান ইবনে হাকাম রা. থেকে বৰ্নিতঃ হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় হযরত রসুল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সন্ধিপত্ৰের শুরুতে মুশরিকদের মুখপাত্ৰ সুহাইল ইবনে আমর আপত্তি করে বললোঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম কি? আমরা তা জানিনা, আরবের প্ৰথা অনুযায়ী বিসমীকাল্লাহুম্মা লেখো। তদূত্তরে সাহাবায়ে কিরাম রা. বললেনঃ আল্লাহর শপথ আমরা বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম ছাড়া সন্ধিপত্ৰ লিখবোনা। উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় শরহুল মুসলিমে বৰ্নিত আছে যে, পরবৰ্তিতে আল্লাহর রসুল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এর পরিবৰ্তে অন্য কিছু লিখেন।

সুতরাং চিঠি পত্ৰ ও গুরুত্ত্বপুৰ্ন লিখনীর শুরুতে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম লেখা সুন্নত, এবং এর পরিবৰ্তে অন্য কোন শব্দ লিখলে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম লেখার সুন্নত আদায় হবেনা, বিসমিল্লাহ এর সাওয়াবও পাওয়া যাবেনা। আর বিসমিহি তাআলা লিখলে আল্লাহর নামে শুরু করার ফজিলত তো পাওয়া যাবে, কিন্তু বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম লেখার সুন্নাত আদায় হবেনা।

প্ৰকাশ থাকে যে, লিফলেট-পোষ্টার, প্ৰচারপত্ৰ-ব্যানার এ ধরনের কাগজ যেগুলো সাধারনতো সংরক্ষন করা হয়না, সেসব কাগজে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম লিখবেনা বরং আরম্ভ করার সময় মুখে বিসমিল্লাহ পাঠ করে নিলেই চলবে বা বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এর পরিবৰ্তে বিসমিহি তাআলা লেখা যাবে।

কেননা যেকোন ভাবে যদি বিসমিল্লাহ লেখার পর এ আয়াতের সাথে বেআদবী হওয়ার সম্ভানা থাকে, তাহলে এমন স্থলে বিসমিল্লাহ লেখা জয়েয নেই। বরং যে কাগজগুলো সাধারনতো সংরক্ষন করা হয় না তাতে কোন ভাবেই বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম লেখা যাবে না, তার পরিবৰ্তে এমন কিছু লিখবে যাতে পাঠকবৰ্গ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এর প্ৰতি ইংগিত বুঝতে পারে, আর এ জন্যই কওমী আলেমরা তাদের বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন এবং বিভিন্ন জায়গায় শুরুতে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এর স্থলে বিসমিহি তাআলা লিখছেন।

আরবি গ্রামার অনুযায়ী বিসমিহীর হা দ্বারা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই উদ্দেশ্য, কেননা এর পর তাআলা শব্দ স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, আর উক্ত শব্দ একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্যই পবিত্র কুরআনে কারীমে ব্যবহার হয়েছে।

সুত্রসমূহ

سورة النمل: 30  اِنَّهٗ مِنۡ سُلَیۡمٰنَ وَ اِنَّهٗ بِسۡمِ اللّٰهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

سورة الۡمُؤۡمِنُوۡنَ: 16 فَتَعٰلَی اللّٰهُ الۡمَلِکُ الۡحَقُّ ۚ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ رَبُّ الۡعَرۡشِ الۡکَرِیۡمِ

صحيح المسلم: 4736 كتاب الجهاد و السيار. باب الصلح الحديبية

شرح المسلم للنبوي: 3337 كتاب الجهاد و السيار. باب الصلح الحديبية

صحيح المسلم: 13/15

الدر المختار: 4/130

فتاوى الهندية: 5/323

فتاوى محمودية: 5/535

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 134 জন।

তাবলীগ কি নবীওয়ালা কাজ? হাদিসে কি এর কোন প্রমান আছে?

ফতওয়া কোডঃ 175-দাতা-12-02-1444

প্রশ্নঃ

হযরত মাওলানা ইলইয়াস রহ. এর তাবলীগ কি নবীওয়ালা কাজ? হাদিসে কি এর কোন প্রমান আছে?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

হযরত মাওলানা ইলইয়াস রহ. এর তাবলীগকে নবীওয়ালা কাজ বলা যায়, হযরত আনস রা. ও আরেকজন সাহাবীর হাদিসে এর স্পষ্ট প্রমান আছে। কুরআন ও হাদিসের অনেক নির্দেশনা দ্বারাও প্রমানিত।

সুত্রসমূহ

سنن الترمذي: 2/156 عن أنس بن مالک رضی اللہ عنہ أن رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم کان یمر بباب فاطمة لستة أشہر إذا خرج لصلاة المفجر یقول: الصلاة! یا أہل البیت! إنما یرید اللہ لیذہب عنکم الرجل أہل البیت ویطہرکم تطہیرًا

سنن ابی داؤد: 1/179 عن مسلم بن أبي بکرة عن أبیہ قال: خرجت مع النپی صلی اللہ علیہ وسلم لصلاة الصبح، فکان لا یمر برجل إلا ناداہ بالصلاة أو حرّکہ برجلہ

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 118 জন।

জুমুআর নামাজের কবলাল জুমুআর চার রাকাআত সুন্নত নামাজ সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমানিত

ফতওয়া কোডঃ 174-হাসু-12-02-1444

প্রশ্নঃ

আমাদের এখানে কিছু সহিহ হাদিস নামধারী বলছেন, জুমুআর নামাজের আগে (কবলাল জুমুআর) যে চার রাকাআত সুন্নত নামাজ আমরা পড়ি, তা নাকি কুরআন হাদিসে নাই। এলাকায় সমস্যা হচ্ছে, এটার দ্রুত সমাধান আশা করি।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

জুমুআর নামাজের আগের চার রাকাআত সুন্নত সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমানিত। যারা এলাকায় সমস্যা করছে তাদের হয়তো জানা নাই, একাধিক সহিহ হাদিসে এর প্রমান রয়েছে।

সুত্রসমূহ

مصنف عبد الرزاق کذا في نصب الرایة: 1/318 أخبرنا الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال: کان عبد اللہ یأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعًا وبعدہا أربعًا

 الدرایة: 133 ورجالہ ثقات

 آثار السنن: 2/96  إسنادہ صحیح

 إعلاء السنن: 7/9-10 وہو موقوف في حکم المرفوع

 إعلاء السنن: 7/12 روی علی وابن عباس عن النبی صلی اللہ علیہ وسلم أنہ کان یصلي قبلہا أربعًا مرفوعًا وسندہما حسن

 کنز العمال: 4/315 روی البزار عن أبي ہریرة بلفظ کان علیہ الصلاة والسلام یصلی قبل الجمعة رکعتین وبعدہا أربعًا․ وروی ابن النجار عنہ بلفظ: من کان مصلّیا فلیصلّ قبلہا أربعا وبعدہا أربعًا

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 87 জন।

ইল্লাল্লাহ যিকর করা কি বিদআত?

ফতওয়া কোডঃ 173-তাসুত-12-02-1444

প্রশ্নঃ

ইল্লাল্লাহ যিকর করা কি বিদআত?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

এটি একটি মিমাংসিত বিষয়, ইল্লাল্লাহ যিকর করা জায়েয, কখনো কখনো আরবী গ্রামারের ব্যাপারে কেউ কেউ পরিপূর্ন ইলম না রাখার কারনে এমন প্রশ্ন করে থাকেন। কেননা অনেক সময় মুস্তাসনা মিনহু এবং আমেল, ইত্যাদি উহ্য রাখা আরবি ভাষায় প্রচলন রয়েছে, এমনকি আরব অনারবের সেরা বিশুদ্ধভাষী রসুুলুল্লাহ ﷺ এবং হযরাত সাহাবা রা. এর কথা-বার্তার মাঝে নির্ধারিত “করিনা” পাওয়া যাওয়ায় মুস্তাসনা মিনহুকে উহ্য রাখা প্রমাণিত রয়েছে।

সুত্রসমূহ

صحيح البخاري: 2433 حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَمَّا فَتَحَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم مَكَّةَ قَامَ فِي النَّاسِ، فَحَمِدَ اللَّهَ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ ‏”‏ إِنَّ اللَّهَ حَبَسَ عَنْ مَكَّةَ الْفِيلَ، وَسَلَّطَ عَلَيْهَا رَسُولَهُ وَالْمُؤْمِنِينَ، فَإِنَّهَا لاَ تَحِلُّ لأَحَدٍ كَانَ قَبْلِي، وَإِنَّهَا أُحِلَّتْ لِي سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ، وَإِنَّهَا لاَ تَحِلُّ لأَحَدٍ بَعْدِي، فَلاَ يُنَفَّرُ صَيْدُهَا وَلاَ يُخْتَلَى شَوْكُهَا، وَلاَ تَحِلُّ سَاقِطَتُهَا إِلاَّ لِمُنْشِدٍ، وَمَنْ قُتِلَ لَهُ قَتِيلٌ فَهْوَ بِخَيْرِ النَّظَرَيْنِ، إِمَّا أَنْ يُفْدَى، وَإِمَّا أَنْ يُقِيدَ ‏”‏‏.‏ فَقَالَ الْعَبَّاسُ إِلاَّ الإِذْخِرَ، فَإِنَّا نَجْعَلُهُ لِقُبُورِنَا وَبُيُوتِنَا‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ إِلاَّ الإِذْخِرَ ‏”‏‏.‏ فَقَامَ أَبُو شَاهٍ ـ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ ـ فَقَالَ اكْتُبُوا لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ اكْتُبُوا لأَبِي شَاهٍ ‏”‏‏.‏ قُلْتُ لِلأَوْزَاعِيِّ مَا قَوْلُهُ اكْتُبُوا لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ هَذِهِ الْخُطْبَةَ الَّتِي سَمِعَهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‏.‏

 امداد الفتاوی: 5/224 مستثنی منہ کا قرینہ کی وجہ سے حذف منقول ہے: مثلاً فقا ل العباس: یا رسول اللہ -صلی اللہ علیہ وسلم- إلا الإذخر؛ فإنہ لقینہم ولبیوتہم․ فقال: إلا الإذخر․ اور الا اللہ میں قرینہ مومن کی دلالت حال ہے

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 96 জন।

কওমী আলেমরা তাদের উস্তাদদেরকে আকাবির বলছেন, এটা কি ঠিক?

ফতওয়া কোডঃ 172-আআ-09-02-1444

প্রশ্নঃ

এক আলেম প্রশ্ন করেছেন “কওমী আলেমরা তাদের উস্তাদদেরকে আকাবির বলছেন। আরবিতে আকাবির শব্দটি আকবার শব্দের বহুবচন। আকবার শব্দের অর্থ হলো সবচেয়ে বড়। যা শুধুমাত্র মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। আকাবির শব্দটি যেখানে কোন নবী, রাসুল এবং সাহাবিদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলো না সেখানে কওমি আলেমরা তাদের উস্তাদদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করছেন কেন?” আমি এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই!

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

মূলত اكبر শব্দটি الكبر থেকে اسم تفضيل এর সীগা (শব্দ)। যা আধিক্যতা বোঝায়। আর এই শব্দটি আল্লাহ তাআলার সত্ত্বাগত নাম বা গুন বাচক নাম হিসেবে গন্য করা হয়না। শরীয়ত কৰ্তৃক যে ধরনের নাম বা গুনবাচক শব্দ বান্দাদের জন্য রাখা নিষেধ অথবা একমাত্ৰ আল্লাহ তাআলার জন্য বিশেষিত হিসাবে গন্য করা হয়, যা বান্দাদের জন্য রাখা নিষেধ তার অন্তৰ্ভুক্তও নয়।

اكبر শব্দটি যেমন মহান আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্ৰে ব্যবহার হয়, তদ্রুপ অন্য ক্ষেত্ৰেও ব্যবহার হয়ে থাকে। যেমন বুখারী শরীফের এক হাদীসে রসুলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ الا اخبركم باكبر الكباءر,قالوا بلي يا رسول الله. উক্ত হাদীসে রসুলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম اكبر শব্দটি গুনাহ এর একটি প্ৰকার বুঝানোর জন্য ব্যবহার করেছেন। অনুরুপ ভাবে একটি মাসনুন দুআতে বৰ্নিত আছেঃ اللهم لا تجعل الدنيا اكبر همنا উক্ত দুআতে اكبر শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে هم. শব্দ এর সিফাত (গুণ) হিসাবে। তেমনি ভাবে ফিকহের কিতাবাদিতে হদস এৱ ক্ষেত্ৰেও اكبر শব্দটি ব্যবহার হয়ে থাকে যেমন حدث اكبر (বড় নাপাক)।

সুতরাং اكبر শব্দটি শুধুমাত্ৰ মহান আল্লাহ তাআলার জন্য খাস নয়, অন্য ক্ষেত্ৰেও ব্যবহার করা যাবে। আর اكبر শব্দের বহুবচন হলো আকাবির। সুতরাং বড় বড় আলেমদের ক্ষেত্ৰে তাদের মান-মৰ্যদা ও গুরুত্ব বুঝানোর জন্য আকাবির বলা কোন দোষনীয় কাজ নয়।

উল্লেখ্য যে, নবী-রসুলদের মর্যাদা অনেক উপরের হওয়ায় তাদের শানে আকাবির শব্দ ব্যবহারে প্রয়োজন নেই, তবে সাহাবায়ে কিরামগনের সম্মানে আকাবির শব্দের ব্যবহার কিতাবে উল্লেখ রয়েছে।

সুত্রসমূহ

صحيح البخاري: 6273 قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ألا أخبركم بأكبر الكبائر . قالوا : بلى يا رسول الله ، قال الإشراك بالله ، وعقوق الوالدين ، وكان متكئا فجلس

السنن الترمذي: 3502 اللهمَّ اقسِمْ لنا مِنْ خشيَتِكَ ما تحولُ بِهِ بينَنَا وبينَ معاصيكَ ، ومِنْ طاعَتِكَ ما تُبَلِّغُنَا بِهِ جنتَكَ ، ومِنَ اليقينِ ما تُهَوِّنُ بِهِ علَيْنَا مصائِبَ الدُّنيا ، اللهمَّ متِّعْنَا بأسماعِنا ، وأبصارِنا ، وقوَّتِنا ما أحْيَيْتَنا ، واجعلْهُ الوارِثَ مِنَّا ، واجعَلْ ثَأْرَنا عَلَى مَنْ ظلَمَنا ، وانصرْنا عَلَى مَنْ عادَانا ، ولا تَجْعَلِ مُصِيبَتَنا في دينِنِا ، ولَا تَجْعَلْ الدنيا أكبرَ هَمِّنَا ، ولَا مَبْلَغَ عِلْمِنا ولَا تُسَلِّطْ عَلَيْنا مَنْ لَا يرْحَمُنا

فتاویٰ شامی: 5/532 قال فی الدر ویستحب الترضی للصحابة والترحم للتابعین و من بعدہم من العلماء ․․․․․․․وکذا یجوز عکسہ

الهداية: مكمل

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 149 জন।

অভিভাবক ছাড়াও বিবাহ শুদ্ধ হয়!

ফতওয়া কোডঃ 171-বি-26-01-1444

প্রশ্নঃ

যদি বিয়ের জন্য ছেলের ফ্যামিলি রাজি থাকে, কিন্তু মেয়ের ফ্যামিলি রাজি না থাকে, তবে বিয়ের জন্য যদি ছেলে মেয়ে উভয় জনই রাজি থাকে এবং মেয়ের ফ্যামিলির যদি বাবা মা বা বড় ভাই কেহ রাজী যদি না থাকে, তারা যদি উভয় জনই নিজেরা নিজেরা বিয়ে করে নেয় তাহলে কি বিয়েটা হালাল হবে?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

যদি দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক বুঝদার সাক্ষীর সামনে প্রাপ্ত বয়স্ক পাত্র ও পাত্রি যদি প্রস্তাব দেয় এবং অপরপক্ষ তা গ্রহণ করে নেয়, তাহলে ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যায়। অভিভাবকের সম্মতি থাকুক বা না থাকুক। অভিভাবক জানুক বা না জানুক। তবে যদি কুফু ছাড়া বিবাহ করে, তথা এমন পাত্রকে বিবাহ করে, যার কারণে মেয়ের পারিবারিক সম্মান বিনষ্ট হয়, তাহলে পিতা সে বিয়ে আদালতের মাধ্যমে ভেঙ্গে দিতে পারবে। যদি কুফুতে বিবাহ করে, তাহলে পিতা এ অধিকারও পাবে না।

হযরত আয়শা রা. থেকে বর্ণিতঃ রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে মহিলাকে তার অভিভাবক বিয়ে দেয়নি, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল। অভিভাবক ছাড়া মহিলা কর্তৃক বিয়ে সম্পন্ন না হওয়ার হাদীসটি হযরত আয়শা সিদ্দিকা রাঃ এর। অথচ খোদ আয়শা রাঃ তার ভাই আব্দুর রহমানের মেয়ে হাফসাকে তার অভিভাবক আব্দুর রহমানকে ছাড়াই নিজে বিয়ে দিয়েছিলেন মুনজির বিন যুবায়েরের সাথে।

সুতরাং বুঝা গেল যে, উক্ত হাদীস দ্বারা খোদ বর্ণনাকারী হযরত আয়শা রাঃ নিজেই বিবাহ শুদ্ধ হয় না একথা বুঝাননি। বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, বিয়ে অসম্পূর্ণ হয় অভিভাবক ছাড়া। কারণ, যে অভিভাবক মেয়েকে লালন পালন করল, তাকে না জানিয়ে বিয়ে করাটাতো অসম্পূর্ণই। তাই বলা হয়েছে তা বাতিল। বাতিল মানে অসম্পূর্ণ।

সুতরাং উপরে প্রশ্নের বর্ননা মতে তারা যদি প্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ের প্রস্তাব ও প্রস্তাব গ্রহণ সম্পন্ন করে থাকেন, তাহলে তাদের বিয়ে ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক শুদ্ধ হয়ে গেছে। যদিও তাদের পরিবার কিছুই জানে না। কিংবা যদি তারা অনুমতি নাও দিয়ে থাকে।

সুত্রসমূহ

صحيح مسلم: 1421 عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ؛ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «الْأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا.

المصنف لابن أبي شيبة: 15953 عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: ” جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أَبِي وَنِعْمَ الْأَبُ هُوَ، خَطَبَنِي إِلَيْهِ عَمُّ وَلَدِي فَرَدَّهُ، وَأَنْكَحَنِي رَجُلًا وَأَنَا كَارِهَةٌ. فَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أَبِيهَا، فَسَأَلَهُ عَنْ قَوْلِهَا، فَقَالَ: صَدَقَتْ، أَنْكَحْتُهَا وَلَمْ آلُهَا خَيْرًا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا نِكَاحَ لَكِ، اذْهَبِي فَانْكِحِي مَنْ شِئْتِ

سنن ابن ماجه: 1874 عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: جَاءَتْ فَتَاةٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: ” إِنَّ أَبِي زَوَّجَنِي ابْنَ أَخِيهِ، لِيَرْفَعَ بِي خَسِيسَتَهُ، قَالَ: فَجَعَلَ الْأَمْرَ إِلَيْهَا، فَقَالَتْ: قَدْ أَجَزْتُ مَا صَنَعَ أَبِي، وَلَكِنْ أَرَدْتُ أَنْ تَعْلَمَ النِّسَاءُ أَنْ لَيْسَ إِلَى الْآبَاءِ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ “

سنن أبي داود: 2096 حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: ” أَنَّ جَارِيَةً بِكْرًا أَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَذَكَرَتْ أَنَّ أَبَاهَا زَوَّجَهَا وَهِيَ كَارِهَةٌ فَخَيَّرَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ”

سنن أبي داود: 1879 عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا، فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ»، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ «فَإِنْ دَخَلَ بِهَا فَالْمَهْرُ لَهَا بِمَا أَصَابَ مِنْهَا، فَإِنْ تَشَاجَرُوا فَالسُّلْطَانُ وَلِيُّ مَنْ لَا وَلِيَّ لَهُ»

المصنف لابن أبي شيبة: 15955 أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، زَوَّجَتْ حَفْصَةَ بِنْتَ عَبْدِ الرَّحْمنِ، الْمُنْذِرَ بْنَ الزُّبَيْرِ. وَعَبْدُ الرَّحْمنِ غَائِبٌ بِالشَّأْمِ.

إعلاء السنن: 11/65-70

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 138 জন।

যে জাতী যেমন আল্লাহ তাআলা সেই জাতীর উপর তেমন শাসক চাপিয়ে দেন?

ফতওয়া কোডঃ 170-হাসু-22-01-1444

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, মুহতারম! আমাদের সমাজে একটি কথা হাদিস হিসেবে প্রসিদ্ধ আছে যে, “যে জাতি যেমন আমল করে আল্লাহ তাআলা সেই জাতির উপর সেই রকম শাসক চাপিয়ে দেন”। তো আমার জানার বিষয় হল হুবাহু এই শব্দে বা কাছাকাছি অর্থে এরকম কোন কথা হাদিসে আছে কিনা৷ থাকলে তাহকিক সহ বিষয়টি জানিয়ে বাধিত করবেন। যদি জালও হয় সেটিরও তাহকিক জানালে ভাল হয়।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

আমাদের সমাজে একটি কথা হাদিস হিসেবে প্রসিদ্ধ আছে যে, “যে জাতি যেমন আমল করে আল্লাহ তাআলা সেই জাতির উপর সেই রকম শাসক চাপিয়ে দেন”। হুবাহু এই শব্দে বা কাছাকাছি অর্থে এরকম অনেক হাদিসে আছে। তবে হাদীসগুলো দূর্বল।

সুত্রসমূহ

سورة الروم: 41 ظَهر الْفَسَادُ فِی الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا کَسَبَتْ أَیْدِیْ النَّاسِ لِیُذِیْقَهم بَعْضَ الَّذِیْ عَمِلُوْا لَعَلَّهم یَرْجِعُوْنَ

سورة الشوریٰ: 30 وَمَآ أَصَابَکُمْ مِّنْ مُّصِیْبَةٍ فَبِمَا کَسَبَتْ أَیْدِیْکُمْ وَیَعْفُوْا عَنْ کَثِیْرٍ

مشكاة المصابيح: وعن أبي الدرداء قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : ” إن الله تعالى يقول : أنا الله لا إله إلا أنا مالك الملوك وملك الملوك، قلوب الملوك في يدي، وإن العباد إذا أطاعوني حولت قلوب ملوكهم عليهم بالرحمة والرأفة، وإن العباد إذا عصوني حولت قلوبهم بالسخطة والنقمة، فساموهم سوء العذاب فلا تشغلوا أنفسكم بالدعاء على الملوك، ولكن اشغلوا أنفسكم بالذكر والتضرع كي أكفيكم ملوككم ” . رواه أبو نعيم في ” الحلية

كشف الخفاءت هنداوي: 2/149 حضرت حسن بصری رح سے منقول ہے : “أعمالكم عمالكم، وكما تكونوا يولى عليكم”. یعنی تمہارے حکم راں تمہارے اعمال کا عکس ہیں ۔ اگر تمہارے اعمال درست ہوں گے تو تمہارے حکم راں بھی درست ہوں گے ، اگر تمہارے اعمال خراب ہوں گے تو تمہارے حکام بھی خراب ہوں گے۔

منصور ابن الاسود رحمہ اللہ کہتے ہیں کہ میں نے امام اعمش رحمہ سے اس آیت ﴿وَكَذَلِكَ نُوَلِّي بَعْضَ الظّٰلِمِينَ بَعْضاً﴾کے بارے میں کیا سنا ہے؟ آپ نے فرمایا کہ میں نے صحابہ رضوان اللہ علیہم سے اس بارے میں سنا کہ : جب لوگ خراب ہوجائیں گے تو ان پر بدترین حکم ران مسلط ہوجائیں گے”۔

امام بیہقی نے حضرت کعب رضی اللہ تعالیٰ سے ایک روایت نقل کی ہے کہ : اللہ تعالیٰ ہر زمانہ کا بادشاہ اس زمانہ والوں کے دلوں کے حالات کے مطابق بھیجتے ہیں۔

خلاصہ یہ ہے کہ رعایا کے ساتھ حکم رانوں کے رویہ کا تعلق باطنی طور پر لوگوں کے اعمال وکردار سے ہوتا ہے کہ اگر رعایا کے لوگ اللہ کی اطاعت و فرمان برداری کرتے ہیں اور ان کے اعمال ومعاملات بالعموم راست بازی ونیک کرداری کے پابند ہوتے ہیں تو ان کا ظالم حکم ران بھی ان کے حق میں عادل نرم خو اور شفیق بن جاتا ہے اور اگر رعایا کے لوگ اللہ کی سرکشی وطغیانی میں مبتلا ہو جاتے ہیں اور ان کے اعمال ومعاملات عام طور پر بد کر داری کے سانچے میں ڈھل جاتے ہیں تو پھر ان کا عادل ونرم خو حکم ران بھی ان کے حق میں غضب ناک اور سخت گیر ہو جاتا ہے؛ لہٰذا حکم ران کے ظلم وستم اور اس کی سخت گیری وانصافی پر اس کو برا بھلا کہنے اور اس کے لیے بدعا کرنے کی بجائے اللہ کی طرف رجوع کرنا چاہیے ، ایسے حالات میں اپنی بداعمالیوں پر ندامت کے ساتھ توبہ استغفار کیا جائے ، اللہ تعالیٰ کے دربار میں عاجزی وزاری کے ساتھ التجا و فریاد کی جائے اور اپنے اعمال و اپنے معاملات کو مکمل طور پر اللہ اور اس کے رسول کے حکم کے تابع کر دیا جائے تاکہ رحمتِ الٰہی متوجہ ہو اور ظالم حکم ران کے دل کو عدل وانصاف اور نرمی وشفقت کی طرف پھیر دے ۔’

“كما تكونوا يولى عليكم، أو يؤمر عليكم. قال في الأصل: رواه الحاكم، ومن طريقه الديلمي عن أبي بكرة مرفوعًا، وأخرجه البيهقي بلفظ “يؤمر عليكم” بدون شك، وبحذف أبي بكرة؛ فهو منقطع. وأخرجه ابن جميع في معجمه، والقضاعي عن أبي بكرة بلفظ: “يولى عليكم” بدون شك، وفي سنده مجاهيل. ورواه الطبراني بمعناه عن الحسن: “أنه سمع رجلًا يدعو على الحجاج؛ فقال له: لا تفعل إنكم من أنفسكم أتيتم، إنا نخاف إن عزل الحجاج أو مات أن يتولى عليكم القردة والخنازير؛ فقد روي أن أعمالكم عمالكم، وكما تكونوا يولى عليكم.

فتاوى ابن حجر: وقال النجم: روى ابن أبي شيبة عن منصور بن أبي الأسود قال: “سألت الأعمش عن قوله تعالى ﴿وَكَذَلِكَ نُوَلِّي بَعْضَ الظّٰلِمِينَ بَعْضاً﴾ ما سمعتهم يقولون فيه؟ قال: سمعتهم: إذا فسد الناس أمر عليهم شرارهم”. وروى البيهقي عن كعب قال: “إن لكل زمان ملكًا يبعثه الله على نحو قلوب أهله؛ فإذا أراد صلاحهم؛ بعث عليهم مصلحًا، وإذا أراد هلاكهم؛ بعث عليهم مترفيهم”.

مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح: 6/198

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 146 জন।