Darul Ifta, Rahmania Madrasah Sirajganj

ভাষা নির্বাচন করুন বাংলা বাংলা English English
ফাতাওয়া খুঁজুন

আহকামে মায়্যিত

ভুল ও শরিয়ত সম্মত, সুন্নতী কবর কেমন হবে? মায়্যিতকে কবরে কিভাবে রাখতে হবে?

ফতওয়া কোডঃ 144-আমা-18-07-1443

প্রশ্নঃ

মুফতি সাহেব, ভুল ও শরিয়ত সম্মত, সুন্নতী কবর কেমন হবে? মায়্যিতকে কবরে কিভাবে রাখতে হবে? বিস্তারিত জানতে চাই

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

ইসলামী শরিয়তে দুই ধরনের কবরের বিবরন নির্ভরযোগ্য কিতাবে উল্লেখ আছে।

১. লাহাদ বা বগলী কবর। লাহাদ বা বগলী কবর বলা হয়ঃ মায়্যিত যতটুকো লম্বা হবে তার মাপ অনুযায়ী অর্ধেক বা আরেকটু বেশি কবর খনন করা। এরপর মায়্যিতের মাপ অনুযায়ী পশ্চিম দিকে শুধু মায়্যিতকে রাখা যায় মতো মূল কবরের সিমানার বাহিরে অতিরিক্ত আরো একটি বাক্স এর মতো স্থান খনন করা। এই অতিরিক্ত স্থানে মায়্যিতকে রাখার পর কাচা ইট বা বাশঁ দিয়ে পুরোটা বন্ধ করে দিতে হবে। এবং পুরো কবরকে মাটি দ্বারা পূর্ন করে দেয়া। এটাকে লাহাদ বা বগলী কবর বলা হয়।

লাহাদ বা বগলী কবরের নমুনা

২. শাক্ব বা সিন্দুকী কবর। শাক্ব বা সিন্দুকী কবর বলা হয়ঃ মায়্যিত যতটুকো লম্বা হবে তার সিনা বা কাঁধ বরাবর বা আরো বেশি কবর খনন করা। এরপর মায়্যিতের মাপ অনুযায়ী পশ্চিম দিকে বা মাঝখানে পূর্ন মায়্যিতকে রাখা যায় মতো কবরের নিচের দিকে অতিরিক্ত আরো একটি গর্তের মতো স্থান খনন করা। এই অতিরিক্ত স্থানে পূর্ন মায়্যিতকে পরিপূর্ন কিবলামুখি করে ঢুকিয়ে রাখার পর উপরের দিকে কাচা ইট বা বাশঁ দিয়ে পুরোটা বন্ধ করে দিতে হবে। এবং পুরো কবরকে মাটি দ্বারা পূর্ন করে দেয়া। শাক্ব বা সিন্দুকী কবর বলা হয়।

শাক্ব বা সিন্দুকী কবরের ১ম নমুনা

শাক্ব বা সিন্দুকী কবরের ২য় নমুনা

উপরক্ত দুই ধরনের কবরের মধ্যে লাহাদ কবর অতি উত্তম, মাটি নরম হওয়ার কারনে বা অন্য কোন শরিয়ত সম্মত কারনে যদি লাহাদ কবর খনন করা সম্ভব না হয়, তাহলে উযরের কারনে শাক্ব কবরও খনন করা জয়েয আছে। উল্লেখ্য যে, রসুলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লাহাদ কবরে দাফন করা হয়েছে।

উপরক্ত দুই পদ্ধতি ছাড়া বর্তমান সমাজে প্রচলিত কবর খননের বিবিধ পদ্ধতি শরীয়ত সম্মত নয়। তাই সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতি পালনের সামর্থ থাকা সত্যেও নাজায়েয পদ্ধতিতে কবর খনন ও দাফন জায়েয নয় বরং তা পরিত্যাজ্য।

ভুল ও নাজায়েয কবরের নমুনা

ইসলামী শরিয়তে নির্ভরযোগ্য তথ্যমতে মায়্যিতকে কবরে রাখার পদ্ধতি হলোঃ ‘বিসমিল্লাহি ওয়ালা মিল্লাতি রসুলিল্লাহ’ বলে কবরে নামাতে হবে, কবরে ‍পূর্ন মায়্যিতকে (তার মুখ, সিনা ও পা সহো) কিবলার দিকে রাখা সুন্নত। কবরে মায়্যিতকে চিৎ করে রাখা বা চিৎ করে রেখে শুধু মাথা কিবলার দিকে করে দেয়া সম্পূর্ন নাজায়েয। িএ পদ্ধতি পরিহার করা অতি আবশ্যক।

মায়্যিত, দাফন ও কাফন সক্রান্ত যাবতীয় মাসআলা-মাসাইল একজন নির্ভরযোগ্য মুফতির তত্বাবধানে মশকে আমলী (প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং) এর মাধ্যমে জেনে নেয়া জরুরী।

সুত্রসমূহ

فتاوي الشامي: 3/139

البحر الرائق: 28/2008

بدائع الصنائع: 2/358

احسن الفتاوي: 4/224

المرقات: 4/174

سنن ابي داود: رقم 3208، 2177

سنن ابن ماجة: رقم 1554-1557

الدر المختار: 2/235-236

فتاوي عالمغيري: 1/166

احكام ميت: رقم 236

فتاوي رحيمية: 8/175

فتاوي محمودية: 9/57

احكام النجائز: رقم المسئلة 100

امداد الفتاوي: 1/485

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 427 জন।

মৃত ব্যক্তি নিজ যিয়ারতকারীর কথা শুনতে পায় ও তাকে চিনতে পারে!

ফতওয়া কোডঃ 109-আমা,ইআ-29-04-1443

প্রশ্নঃ

শুনেছি একজন মৃত ব্যক্তি তার জিয়ারতকারীর কথা শুনতে পায়, জিয়ারতকারীকে চিনতে পারে! এটা কি ঠিক?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

একজন মৃত ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় যাদের সাথে পরিচয় রাখতেন, যাদের চিনতেন, ইন্তেকালের পরও তিনি তাদের যিয়ারত করা অবস্থায় চেনেন ও তাদের তথা শুনতে পান। এব্যাপারে মতভেদ থাকলেও নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী মৃত ব্যক্তি নিজ কবর যিয়ারতকারীর কথা-বার্তা শুনতে পায় এবং নিজ পরিচিতজনকেও চিনতে পারে।

সুত্রসমূহ

مسند الإمام أحمد بن حنبل: 20/114 قال النبي صلى الله عليه وسلم إن أعمالكم تعرض على أقاربكم وعشائركم من الأموات فإن كان خيرا استبشروا به وإن كان غير ذلك قالوا: اللهم لا تمتهم حتى تهديهم كما هديتنا

الاستذکار: 1/185 ما من مسلم يمر بقبر أخيه كان يعرفه في الدنيا فَيُسَلم عليه، إلا رد الله عليه روحه، حتى يرد عليه السلام

شرح الصدور بشرح حال الموتى والقبور لليسيوطى: 201 أخرج إبن أبي الدنيا في كتاب القبور عن عائشة رضي الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من رجل يزور قبر أخيه ويجلس عنده إلا إستأنس ورد عليه حتى يقوم. وأخرج أيضا والبيهقي في الشعب عن أبي هريرة رضي الله عنه قال إذا مر الرجل بقبر يعرفه فسلم عليه رد عليه السلام وعرفه وإذا مر بقبر لا يعرفه فسلم عليه رد عليه السلام. وأخرج إبن عبد البر في الإستذكار والتمهيد عن إبن عباس رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من أحد يمر بقبر أخيه المؤمن كان يعرفه في الدنيا فيسلم عليه إلا عرفه ورد عليه السلام صححه عبد الحق. وأخرج إبن أبي الدنيا في القبور والصابوني في المائتين عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ما من عبد يمر على قبر رجل يعرفه في الدنيا فيسلم عليه إلا عرفه ورد عليه السلام

كتاب الروح لابن القيم: 10 قال ابن عبد البر: ثبت عن النبی انه قال مامن مسلم يمر علی قبر اخيه کان يعرفه فی الدنيا فيسلم عليه الا رد ﷲ عليه روحه حتی يرد عليه السلام فهذا نص انه يعرفه بعينه ويرد عليه السلام

حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح: 620 قال ابن القيم الأحاديث والآثار تدل على أن الزائر متى جاء علم به المزور وسمع سلامه وأنس به ورد عليه وهذ عام في حق الشهداء وغيرهم وأنه لا توقيت في ذلك قال وهو أصح من أثر الضحاك الدال على التوقيت 

الفوائد لتمام بن محمد البجلى الرازى: 139 مَا مِنْ رَجُلٍ يَمُرُّ بِقَبْرِ رَجُلٍ كَانَ يَعْرِفُهُ فِي الدُّنْيَا، فَيُسَلِّمُ عَلَيْهِ إِلَّا عَرَفَهُ وَرَدَّ عَلَيْهِ

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 369 জন।

মৃত ব্যক্তির চোখে সুরমা লাগানো কেমন?

ফতওয়া কোডঃ 107-আমা,বিপ্র-23-04-1443

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম। মৃত ব্যক্তির চোখে সুরমা লাগানো কেমন?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

মৃত ব্যাক্তিকে সুন্নত তরিকায় কর্পূর সুগন্ধি লাগানো উচিত, সুরমা লাগানো উচিত নয়। সুরমা মুলত সৌন্দর্য্যতার জন্য লাগানো হয়, যা ব্যাক্তির মৃত্যুর পর আর প্রয়োজন নেই। এজন্য ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন মৃত ব্যাক্তিকে সুরমা লাগানো যাবে না।

সুত্রসমূহ

البحرالرائق: 5/278 ( قوله : ولايسرح شعره ولحيته ، ولايقص ظفره وشعره ) ؛ لأنها للزينة ، وقد استغنى عنها، والظاهر أن هذا الصنيع لايجوز. قال في القنية: أما التزين بعد موتها والامتشاط وقطع الشعر لايجوز، والطيب يجوز

الدر المختار: 3/89 ويجعل الحنوط العطر المركب من الأشباه الطيبة غير زعفران وورس على رأسه ولحيته والكافور على مساجده كرامة لها

الفتاوى التاتارخانية: 3\20، رقم-3653 ويوضع الحنوط فى رأسه ولحيته وسائر جسده، وفى السغناقى: الحنوط عطر مركب من أشياء طيبة، وفى القدورى: ولا بأس بسائر الطيب غير الزعفران وغير الورس فى حق الرجل

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 301 জন।

মৃত ব্যক্তির নামায ও রোজা এর কাফফারা কি?

ফতওয়া কোডঃ 01-আমা,সা-01-05-1441

প্রশ্নঃ

মৃত ব্যক্তির নামায ও রোজা এর কাফফারা সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে চাই

সমাধানঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

নামাযঃ যদি মৃত ব্যক্তি তার সম্পদ থেকে তার নামাযের কাফফারা আদায়ের জন্য অসিয়ত করে যায়, আর তার নিজের মালও ছিল। তাহলে তার এক তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে কাফফারা আদায় করতে হবে, আর যদি তার কোন সম্পদ না থাকে, বা সে মাল রেখে গেছে কিন্তু কোন কাফফারা আদায়ের অসিয়ত করে যায়নি। তাহলে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কাফফারা আদায় করা আত্মীয়দের উপর জরুরী নয়। তবে স্বজনদের কাফফারা আদায় করে দেয়াই উত্তম। এর দ্বারা মৃত ব্যক্তি শান্তি পায়। কাফফারার পরিমাণ হল, প্রতিদিন বিতর নামাযসহ ৬ ওয়াক্ত নামায হিসেব করে প্রত্যেক ওয়াক্তের জন্য পৌনে দুই সের গম বা আটা অথবা এর বাজার মূল্য গরীব মিসকিনকে মালিক বানিয়ে দিতে হবে। অথবা প্রতি ওয়াক্তের বদলে একজন গরীবকে দুই বেলা তৃপ্তি সহকারে খানা খাওয়াতে হবে বা খানার মুল্য সদকা করতে হবে।

রোজাঃ মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার কাজাকৃত রোজার কাফফারা হিসেবে অন্য কারো রোজা রাখার বিধান নেই। তবে মৃত্যুকালে সে ব্যক্তি ফিদইয়া প্রদানের অসিয়ত করলে (যা পূর্ণ করা ওয়াজিব) তার রেখে যাওয়া সম্পদের এক তৃতীয়াংশ মাল থেকে অসিয়ত পূর্ণ করা জরুরি। অসিয়ত না করলে ফিদইয়া দেয়া জরুরি নয়। তবে বালেগ ওয়ারিসরা নিজ নিজ অংশ হতে তা আদায় করলে আদায় হওয়ার আশা করা যায়।

সুত্রসমূহ

الدر المختار: 2/72 وَلَوْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صَلَوَاتٌ فَائِتَةٌ وَأَوْصَى بِالْكَفَّارَةِ يُعْطَى لِكُلِّ صَلَاةٍ نِصْفَ صَاعٍ مِنْ بُرٍّ كَالْفِطْرَةِ وَكَذَا حُكْمُ الْوِتْرِ وَالصَّوْمِ، وَإِنَّمَا يُعْطِي مِنْ ثُلُثِ مَالِهِ

رد المحتار: 2-95-100 واما اذا لم يوص فتطوع بها الوارث فقد قال محمد في الزيادات انه يجزيه ان شاء الله تعالي

فتاوى فقيه الملت: 5/470

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 259 জন।