Darul Ifta, Rahmania Madrasah Sirajganj

ভাষা নির্বাচন করুন বাংলা বাংলা English English
ফাতাওয়া খুঁজুন

হাদিস ও সুন্নত

জুমুআর নামাজের কবলাল জুমুআর চার রাকাআত সুন্নত নামাজ সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমানিত

ফতওয়া কোডঃ 174-হাসু-12-02-1444

প্রশ্নঃ

আমাদের এখানে কিছু সহিহ হাদিস নামধারী বলছেন, জুমুআর নামাজের আগে (কবলাল জুমুআর) যে চার রাকাআত সুন্নত নামাজ আমরা পড়ি, তা নাকি কুরআন হাদিসে নাই। এলাকায় সমস্যা হচ্ছে, এটার দ্রুত সমাধান আশা করি।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

জুমুআর নামাজের আগের চার রাকাআত সুন্নত সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমানিত। যারা এলাকায় সমস্যা করছে তাদের হয়তো জানা নাই, একাধিক সহিহ হাদিসে এর প্রমান রয়েছে।

সুত্রসমূহ

مصنف عبد الرزاق کذا في نصب الرایة: 1/318 أخبرنا الثوري عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي قال: کان عبد اللہ یأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعًا وبعدہا أربعًا

 الدرایة: 133 ورجالہ ثقات

 آثار السنن: 2/96  إسنادہ صحیح

 إعلاء السنن: 7/9-10 وہو موقوف في حکم المرفوع

 إعلاء السنن: 7/12 روی علی وابن عباس عن النبی صلی اللہ علیہ وسلم أنہ کان یصلي قبلہا أربعًا مرفوعًا وسندہما حسن

 کنز العمال: 4/315 روی البزار عن أبي ہریرة بلفظ کان علیہ الصلاة والسلام یصلی قبل الجمعة رکعتین وبعدہا أربعًا․ وروی ابن النجار عنہ بلفظ: من کان مصلّیا فلیصلّ قبلہا أربعا وبعدہا أربعًا

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 28 জন।

যে জাতী যেমন আল্লাহ তাআলা সেই জাতীর উপর তেমন শাসক চাপিয়ে দেন?

ফতওয়া কোডঃ 170-হাসু-22-01-1444

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, মুহতারম! আমাদের সমাজে একটি কথা হাদিস হিসেবে প্রসিদ্ধ আছে যে, “যে জাতি যেমন আমল করে আল্লাহ তাআলা সেই জাতির উপর সেই রকম শাসক চাপিয়ে দেন”। তো আমার জানার বিষয় হল হুবাহু এই শব্দে বা কাছাকাছি অর্থে এরকম কোন কথা হাদিসে আছে কিনা৷ থাকলে তাহকিক সহ বিষয়টি জানিয়ে বাধিত করবেন। যদি জালও হয় সেটিরও তাহকিক জানালে ভাল হয়।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

আমাদের সমাজে একটি কথা হাদিস হিসেবে প্রসিদ্ধ আছে যে, “যে জাতি যেমন আমল করে আল্লাহ তাআলা সেই জাতির উপর সেই রকম শাসক চাপিয়ে দেন”। হুবাহু এই শব্দে বা কাছাকাছি অর্থে এরকম অনেক হাদিসে আছে। তবে হাদীসগুলো দূর্বল।

সুত্রসমূহ

سورة الروم: 41 ظَهر الْفَسَادُ فِی الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا کَسَبَتْ أَیْدِیْ النَّاسِ لِیُذِیْقَهم بَعْضَ الَّذِیْ عَمِلُوْا لَعَلَّهم یَرْجِعُوْنَ

سورة الشوریٰ: 30 وَمَآ أَصَابَکُمْ مِّنْ مُّصِیْبَةٍ فَبِمَا کَسَبَتْ أَیْدِیْکُمْ وَیَعْفُوْا عَنْ کَثِیْرٍ

مشكاة المصابيح: وعن أبي الدرداء قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : ” إن الله تعالى يقول : أنا الله لا إله إلا أنا مالك الملوك وملك الملوك، قلوب الملوك في يدي، وإن العباد إذا أطاعوني حولت قلوب ملوكهم عليهم بالرحمة والرأفة، وإن العباد إذا عصوني حولت قلوبهم بالسخطة والنقمة، فساموهم سوء العذاب فلا تشغلوا أنفسكم بالدعاء على الملوك، ولكن اشغلوا أنفسكم بالذكر والتضرع كي أكفيكم ملوككم ” . رواه أبو نعيم في ” الحلية

كشف الخفاءت هنداوي: 2/149 حضرت حسن بصری رح سے منقول ہے : “أعمالكم عمالكم، وكما تكونوا يولى عليكم”. یعنی تمہارے حکم راں تمہارے اعمال کا عکس ہیں ۔ اگر تمہارے اعمال درست ہوں گے تو تمہارے حکم راں بھی درست ہوں گے ، اگر تمہارے اعمال خراب ہوں گے تو تمہارے حکام بھی خراب ہوں گے۔

منصور ابن الاسود رحمہ اللہ کہتے ہیں کہ میں نے امام اعمش رحمہ سے اس آیت ﴿وَكَذَلِكَ نُوَلِّي بَعْضَ الظّٰلِمِينَ بَعْضاً﴾کے بارے میں کیا سنا ہے؟ آپ نے فرمایا کہ میں نے صحابہ رضوان اللہ علیہم سے اس بارے میں سنا کہ : جب لوگ خراب ہوجائیں گے تو ان پر بدترین حکم ران مسلط ہوجائیں گے”۔

امام بیہقی نے حضرت کعب رضی اللہ تعالیٰ سے ایک روایت نقل کی ہے کہ : اللہ تعالیٰ ہر زمانہ کا بادشاہ اس زمانہ والوں کے دلوں کے حالات کے مطابق بھیجتے ہیں۔

خلاصہ یہ ہے کہ رعایا کے ساتھ حکم رانوں کے رویہ کا تعلق باطنی طور پر لوگوں کے اعمال وکردار سے ہوتا ہے کہ اگر رعایا کے لوگ اللہ کی اطاعت و فرمان برداری کرتے ہیں اور ان کے اعمال ومعاملات بالعموم راست بازی ونیک کرداری کے پابند ہوتے ہیں تو ان کا ظالم حکم ران بھی ان کے حق میں عادل نرم خو اور شفیق بن جاتا ہے اور اگر رعایا کے لوگ اللہ کی سرکشی وطغیانی میں مبتلا ہو جاتے ہیں اور ان کے اعمال ومعاملات عام طور پر بد کر داری کے سانچے میں ڈھل جاتے ہیں تو پھر ان کا عادل ونرم خو حکم ران بھی ان کے حق میں غضب ناک اور سخت گیر ہو جاتا ہے؛ لہٰذا حکم ران کے ظلم وستم اور اس کی سخت گیری وانصافی پر اس کو برا بھلا کہنے اور اس کے لیے بدعا کرنے کی بجائے اللہ کی طرف رجوع کرنا چاہیے ، ایسے حالات میں اپنی بداعمالیوں پر ندامت کے ساتھ توبہ استغفار کیا جائے ، اللہ تعالیٰ کے دربار میں عاجزی وزاری کے ساتھ التجا و فریاد کی جائے اور اپنے اعمال و اپنے معاملات کو مکمل طور پر اللہ اور اس کے رسول کے حکم کے تابع کر دیا جائے تاکہ رحمتِ الٰہی متوجہ ہو اور ظالم حکم ران کے دل کو عدل وانصاف اور نرمی وشفقت کی طرف پھیر دے ۔’

“كما تكونوا يولى عليكم، أو يؤمر عليكم. قال في الأصل: رواه الحاكم، ومن طريقه الديلمي عن أبي بكرة مرفوعًا، وأخرجه البيهقي بلفظ “يؤمر عليكم” بدون شك، وبحذف أبي بكرة؛ فهو منقطع. وأخرجه ابن جميع في معجمه، والقضاعي عن أبي بكرة بلفظ: “يولى عليكم” بدون شك، وفي سنده مجاهيل. ورواه الطبراني بمعناه عن الحسن: “أنه سمع رجلًا يدعو على الحجاج؛ فقال له: لا تفعل إنكم من أنفسكم أتيتم، إنا نخاف إن عزل الحجاج أو مات أن يتولى عليكم القردة والخنازير؛ فقد روي أن أعمالكم عمالكم، وكما تكونوا يولى عليكم.

فتاوى ابن حجر: وقال النجم: روى ابن أبي شيبة عن منصور بن أبي الأسود قال: “سألت الأعمش عن قوله تعالى ﴿وَكَذَلِكَ نُوَلِّي بَعْضَ الظّٰلِمِينَ بَعْضاً﴾ ما سمعتهم يقولون فيه؟ قال: سمعتهم: إذا فسد الناس أمر عليهم شرارهم”. وروى البيهقي عن كعب قال: “إن لكل زمان ملكًا يبعثه الله على نحو قلوب أهله؛ فإذا أراد صلاحهم؛ بعث عليهم مصلحًا، وإذا أراد هلاكهم؛ بعث عليهم مترفيهم”.

مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح: 6/198

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 70 জন।

আযান ও ইকামতে একই ব্যাক্তি হওয়া জরুরী কি?

ফতওয়া কোডঃ 164-হাসু-17-12-1443

প্রশ্নঃ

মুহতারাম! কোন একটি মাসজিদে দেখা যায় এক ব্যাক্তি আযান দেয় এবং অপর এক ব্যাক্তি ইকামত দেয়। উল্যেখ্য যে মাসজিদে নিয়মতান্ত্রিক কেন মুয়াজ্জিন নেই। মুসল্লিদের মাঝে আজানের পালি করা আছে তারাই আজান দেয়। তো সন্মানিত মুফতি সাহেবের নিকট এখন আমার জানার বিষয় হলঃ

ক. আজান এবং একামত একজনকেই দিতে হবে এর হুকুম কি? অর্থাৎ এটি ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত নাকি মুস্তাহাব? সুন্নাত হলে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা না যায়েদা?

খ. আজান একামত একজনকেই দিতে হবে এই মর্মে কোন হাদিস বর্ণিত আছে কিনা?

গ. একজন আজান এবং ভিন্ন আরেক জন একামত দিলে নামাজের কোন ক্ষতি বা ইকামত দাতার কোন গুনাহ হবে কি?

ঘ. “একজন আজান এবং ভিন্ন আরেক জন একামত দিলে” এটা কোন স্তরের শরয়ী বিরোধী কাজ হবে? এর বিরুদ্ধে কি পরিমান কঠরতা অবলম্বন করা উচিত ?

ঙ. ফরজ ওয়াজিব তরক করলে যেই পরিমান গুরুতের সাথে এর সমালোচনা করা হয় অনুরুপ “একজন আজান এবং ভিন্ন আরেক জন একামত দিলে” এই পরিমান সামালোচনা করা যাবে কি? হাদিস ও সুন্নাহর আলোকে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

যদি মুয়াজ্জিন (যিনি আজান দিয়েছেন) সাহেব উপস্থিত থাকেন, আর অন্য কেউ ইকামাত বললে তিনি অসন্তষ্ট হন, তাহলে অন্য কারো জন্য ইকামত দেওয়া উচিৎ নয়। এমতাবস্থায় ইকামত দেওয়া মাকরুহে তানযিহী হিসাবে গন্য হবে।

আর যদি সন্তষ্ট থাকে, তাহলে ইকামত দিতে কোন সমস্যা নেই। হাদীস শরিফে বৰ্নিত আছে যে, কখনো কখনো হযরত বিলাল রা. আজান দিয়েছেন, হযরত ইবনে উম্মে মাকতুম রা. ইকামত দিয়েছেন, আবার কখনো হযরত ইবনে উম্মে মাকতুম রা. আজান দিয়েছেন, হযরত বিলাল রা. ইকামত দিয়েছেন।

সুত্রসমূহ

بدائع الصنائع: كتاب الصلاة باب الاذان, فصل بيان سنن الاذان

مصنف ابن ابي شيبة: رقم 2257-2260

ردالمحتار: كتاب الصلاة باب الاذان

الفتاوي الهندية: كتاب الصلاة.باب الاذان

سنن ابي داود: رقم 512-514

البحر الرائق: كتاب الصلاة باب الاذان

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 152 জন।

ঘুমানোর সময় স্ত্রীর ডান পাশে স্বামী ঘুমাবে, কতটুকো ঠিক?

ফতওয়া কোডঃ 117-তাত,হাসু-10-05-1443

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম। হযরত, আমার একটি প্রশ্ন ছিল দয়া করে আমার প্রশ্ন এর উত্তর প্রদান করবেন যাতে করে সঠিক নিয়ম জানতে পারি। প্রশ্ন হলোঃ ঘুমানোর সময় স্ত্রীর ডান পাশে স্বামী ঘুমাবে, এরকম কোন বিধান শরীয়তে আছে কি?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

ঘুমানোর সময় স্ত্রীর ডান পাশে স্বামী বা স্বামীর ডান পাশে স্ত্রী ঘুমাবে, এ ধরনের কোন নিয়ম ইসলামী শরিয়তে নাই।

খুব সম্ভবত এটি হিন্দুয়ানী কোন প্রথা হতে পারে, ইসলাম কোন প্রথা সমর্থন করে না।

তবে একজন মুসলমান সে নারী হোক পুরুষ ঘুমানোর সময় অবশ্যই নিজ ডান কাতে শয়ন করবে, কেননা এটা রসুলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশ ও সুন্নত।

সুত্রসমূহ

صحیح البخاری: رقم 6311 وَعنِ البرَاءِ بنِ عازِبٍ رَضِيَ اللَّه عنْهمَا قَالَ قَالَ لي رسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا أَتَيتَ مَضْجَعَكَ فَتَوضَّأْ وضُوءَكَ لِلصَّلاةِ ثُمَّ اضْطَجِعْ عَلى شِقِّكَ الأَيمَن

صحیح المسلم: رقم 2710 وَعنِ البرَاءِ بنِ عازِبٍ رَضِيَ اللَّه عنْهمَا قَالَ قَالَ لي رسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا أَتَيتَ مَضْجَعَكَ فَتَوضَّأْ وضُوءَكَ لِلصَّلاةِ ثُمَّ اضْطَجِعْ عَلى شِقِّكَ الأَيمَن

سنن ابي داود: رقم 5046 وَعنِ البرَاءِ بنِ عازِبٍ رَضِيَ اللَّه عنْهمَا قَالَ قَالَ لي رسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا أَتَيتَ مَضْجَعَكَ فَتَوضَّأْ وضُوءَكَ لِلصَّلاةِ ثُمَّ اضْطَجِعْ عَلى شِقِّكَ الأَيمَن

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 766 জন।

জান্নাতে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী হিসেবে কারা থাকবেন? বিবি আছিয়া, বিবি মরিয়ম ও হযরত মূসা আ. এর বোন থাকবেন কি?

ফতওয়া কোডঃ 90-বি,হাসু-21-02-1443

প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম, আশাকরি আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছেন, আমার ২টি প্রশ্ন ছিল।

১.জান্নাতে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী হিসেবে কে থাকবেন?

২.আমি একটি হাদিস শুনেছি যে, জান্নাতে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী হিসেবে বিবি আছিয়া, বিবি মরিয়ম ও হযরত মূসা আ. এর বোনও থাকবেন।এই হাদিস কি সহিহ? উত্তর জানালে উপকৃত হব, জাযাকাল্লাহ।

উত্তরঃ بسم الله الرحمن الرحيم

১. জান্নাতে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী হিসেবে দুনিয়াতে যারা ছিলেন তারাই থাকবেন।

২. জান্নাতে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী হিসেবে বিবি আছিয়া, বিবি মরিয়ম ও হযরত মূসা আ. এর বোন থাকবেন বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, তবে এই হাদিসের রেওয়ায়াত দুর্বল।

সুত্রঃ তিরিমিযী শরিফঃ হাদিস নং ২৫৬৩, ইবনে মাজাহ শরিফঃ হাদিস নং ৪৩৩৮, মুসনাদে আহমাদঃ হাদিস নং ১১০৭৮, তাফসিরে কুরতুবীঃ ১৩/১৭০, রুহুল মাআনীঃ ২৮/৪৮১, আল মুজামুল কাবীরঃ ৮/২৫৮-২৫৯, মাজমাউয যাওয়ায়েদঃ ১৮/৬২৭

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 286 জন।

হযরত আইশা রা. ফজিলত সম্পর্কে উভয় হাদিসই সহিহ

ফতওয়া কোডঃ 62-হাসু-29-11-1442

প্রশ্নঃ আসসালামুয়ালাইকুম, আশাকরি আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছেন। আমার প্রশ্নটি হল,

১. عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ جِبْرِيلَ، جَاءَ بِصُورَتِهَا فِي خِرْقَةِ حَرِيرٍ خَضْرَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ “‏ إِنَّ هَذِهِ زَوْجَتُكَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ ‏”‏ ‏.‏

হযরত আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: হযরত জিবরীল (‘আঃ) একখানা সবুজ রংয়ের রেশমী কাপড়ে তার (‘আয়িশাহ্‌র) প্রতিচ্ছবি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে নিয়ে এসে বলেন, ইনি দুনিয়া ও আখিরাতে আপনার স্ত্রী।

২. أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لعائشة -رضي الله عنها-: «أَمَا تَرْضَيْنَ أَنْ تَكُونِي زَوْجَتِي فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ؟» قُلْتُ: بَلَى وَاللَّهِ، قَالَ: «فَأَنْتِ زَوْجَتِي فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ»
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আয়িশাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি দুনিয়া ও আখিরাতে আমার স্ত্রী হবে? আমি বললাম, আল্লাহর কসম! অবশ্যই। তিনি বললেন, তুমি দুনিয়া ও আখিরাতে আমার স্ত্রী।

উত্তরঃ بسم الله الرحمن الرحيم

হযরত আইশা রা. এর ফজিলত সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহর অনেক উক্তি রয়েছে, উপরোক্ত উভয় হাদিস সহিহ, এছাড়া এ হাদিসগুলো কিছু ভিন্ন ভাবে সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফে উল্লেখ আছে।

সুত্রঃ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫১২৫, ৭০১১, ৭০১২, মুসলিম শরীফঃ ৭/১৩৪, তিরমিজি শরীফ, হাদিস নং ৩৮৮০, সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ৭০৯৪, মুস্তাদরাক হাকিম, ৪/১০, সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ৭০৯৫

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 293 জন।

বিতরের নামাযে দুআয়ে কুনুতের পূর্বে হাত উঠানো কেমন?

ফতওয়া কোডঃ 07-সা,হাসু-09-08-1442

প্রশ্নঃ

আসসলামু আলাইকুম কেমন আছেন হযরত। এক লা-মাযহাবী ভাই বিতরের নামাজের শেষ রাক’আতে দুআয়ে কুনুত এর পূর্বে হাত উঠানোর কোন প্রমাণ নাই বলে দাবি করেছেন, তাই আমি জানতে চাই বিতরের নামাজের শেষ রাক’আতে দুআয়ে কুনুত এর পূর্বে হাত উঠানোর কোন প্রমাণ আছে কি না?

সমাধানঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

বিতরের নামাজের শেষ রাক’আতে দুআয়ে কুনুত পাঠ করার পূর্বে হাত উঠানো হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। এটি সুন্নত ও আমলযোগ্য। এটা কিরআত শেষ হওয়ার ইঙ্গিত স্বরূপ অর্থাৎ এর দ্বারা কিরআত ও দূআর মাঝে পার্থক্যকরণ হয়। অতএব যারা বলে হাদিসে এর কোন প্রমাণ নাই তাদের কথা ঠিক নয়।

সুত্রসমূহ

جزء رفع اليدين: 82

مصنف ابن ابي شيبة: 7020-7021

شرح معاني الاثار: 2/178 رقم 3825

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 264 জন।