Darul Ifta, Rahmania Madrasah Sirajganj

ভাষা নির্বাচন করুন বাংলা বাংলা English English
ফাতাওয়া খুঁজুন

কুরআনুল কারিম

তিলাওয়াতের মজলিসে আয়াতে সিজদা পড়লে কে কে সিজদায়ে তিলাওয়াত করবে?

ফতওয়া কোডঃ 118-কুকা-14-05-1443

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম। হযরত, দয়া করে আমাকে এই বিষয় সম্পর্কে জানাবেন। যাতে করি সঠিক নিয়ম অনুসরণ করতে পারি। প্রশ হলোঃ সকলে যার যার কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করছেন, এমন সময় তাদের মধ্যে থেকে বা বাহির থেকে কেউ সিজদার আয়াত পাঠ করল, কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি, তারা তাদের পড়া নিয়ে মশগুল। তবে এক্ষেত্রে যিনি পড়াইতে ছিলেন তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, এই আয়াতটি সিজদার আয়াত। এমতাবস্থায় সিজদা কি সকলকে দিতে হবে? নাকি যে তিলাওয়াত করেছে, আর যে বুঝতে পারছে ও শুনেছে এই দুইজনই দিবে? বিস্তারিত জানাবেন।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

সিজদায়ে তিলাওয়াত যিনি সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করবেন বা যারা শুনবেন সকলের উপরেই ওয়াজীব। তাই প্রশ্নে উল্লেখিত বর্ননা অনুযায়ী যিনি সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করেছেন, যারা শুনেছেন ও বুঝেছেন যে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করা হয়েছে, সকলের উপর সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজীব হয়েছে।

যারা সিজদার আয়াত শোনেন নাই বা তিলাওয়াতে সিজদা হয়েছে এটা বোঝেন নাই, তাদের উপর সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজীব হবে না।

সুত্রসমূহ

صحیح البخاری: 1/146 رقم 1064 عن ابن عمر قال: کان النبي صلی الله علیه وسلم: یقرأ علینا السورۃ فیها السجدۃ، فیسجد و نسجد حتی ما یجد أحدنا موضع جبهته

الھدایة: 1/171 والسجدۃ واجبة في ہذہ المواضع علی التالي والسامع سواء قصد سماع القرآن أولم یقصد لقوله علیه السلام السجدۃ علی من سمعها وعلی من تلاہا

بدائع الصنائع: 1/180 فیجب علی التالي الأصم، والسامع الذي لم یتل، أما التلاوۃ فلا یشکل، وکذا السماع لما بینا أن الله تعالی ألحق الأئمۃ بالکفار لترکہم السجود، إذا قرئ علیہم القرآن بقولہ تعالی فمالہم لا یؤمنون وإذا قرئ علیہم القرآن لایسجدون۔ [سورۃ الانشقاق:۲۱] وقال الله تعالیٰ: اِنَّمَا یُؤْمِنُ بِآَیَاتِنَا الَّذِیْنَ اِذَا ذُکِّرُوْا بِہَا خَرُّوْا سُجَّدًا وَسَبَّحُوْا بِحَمْدِ رَبِّہِمْ وَہُمْ لَا یَسْتَکْبِرُوْنًَ۔ [سورۃ السجدۃ:۱۵] من غیر فصل في الآیتین بین التالي والسامع، وروینا عن کبار الصحابۃ رضي الله عنہم السجدۃ علی من سمعہا، ولأن حجۃ الله تعالیٰ تلزمہ بالسماع کما تلزمہ بالتلاوۃ، فیجب أن یخضع لحاجۃ الله تعالیٰ بالسماع کما یخضع بالقرأۃ, بخلاف السماع من الببغاء والصدى فإن ذلك ليس بتلاوة وكذا إذا سمع من المجنون ؛ لأن ذلك ليس بتلاوة صحيحة؛ لعدم أهليته لانعدام التمييز

الدر المختار: 2/105 التلاوة شرط في حق غير التالي ولو بالفارسية

رد المحتار: 2/105 والمراد من قوله إن علم السماع… أما لو كانت بالعربية فإنه يجب بالإتفاق، فهم أو لم يفهم

مجمع الأنهر: 1/156 تجب على من سمع ولا غير قاصد سواء كانت القراء بالعربية او الفارسية فهم أو لا

مراقي الفلاح: 479 سببه التلاوة على التالي إتفاقا وعلى السامع في الصحيح، والسماع شرط عمل التلاوة في حقه

حاشية الطحطاوي: 489 (ويجب السجود على من تلا آية ولو تلاها بالفارسية إتفاقا فهم أو لم يفهم) قال في الجوهرة؛ أما في حق السامع فإن كانت القراءة بالعربية وجب على السامع، فهم أو لم يفهم إجماعا

البحر الرائق: 2/128

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 688 জন।

পবিত্র কুরআনে কারিমের কাব্যানুবাদ করা জয়েয নয়!

ফতওয়া কোডঃ 96-কুকা-28-03-1443

প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কারিমের কাব্যানুবাদ করা কতটুকো শরীয়ত সম্মত? এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো।

উত্তরঃ بسم الله الرحمن الرحيم

পবিত্র কুরআনে কারিমের কাব্যানুবাদ করা শরীয়ত সম্মত নয়, ইতিপূর্বে এ সংক্রান্ত অনেক ফাতাওয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফতওয়ার কিতাবে অতিবাহিত হয়েছে।

জামিআতুল উলুম আল ইসলামিয়া আল্লামা ইউসুফ বানুরী টাউন করাচী থেকেও স্পষ্ট নাজায়েয বলা হয়েছে।

দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে শর্ত-সাপেক্ষে জায়েয বলা হলেও, এমন জায়েয কাজ না করা উত্তম বলে উক্ত ফতওয়ার মাধ্যমেই প্রমানিত হয়। কেননা লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, যে সকল শর্তের ভিত্তিতে জায়েজ বলা হয়েছে সেগুলো খুবই সহজলভ্য নয়।

হাকীমুল উম্মত, মুজাদ্দিদে মিল্লাত, হজরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. বলেনঃ কুরআনে কারিমের কাব্যানুবাদ করা সম্পূর্ণ না জায়েজ।

আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের গ্রহনযোগ্য মুফতিদের মতে কুরআনে কারিমের কাব্যানুবাদ করা পবিত্র কুরআনে কারিমের সাথে চরম বেআদবী, তাই এ কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

সুত্রঃ তাফসীরে ইবনে কাসীরঃ ৩/২৯৯, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াঃ ২/২৬৭, ইমদাদুল ফাতাওয়াঃ ৪/৫১, মাজমাউল আনহুরঃ ১/৬৯৩

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 218 জন।

পবিত্র কুরআন মাজিদ পড়ে বিনিময় নেওয়া কেমন?

ফতওয়া কোডঃ 63-কুকা,বিপ্র-23-12-1442

প্রশ্নঃ ইসালে সওয়াবের জন্য পবিত্র কুরআন মাজিদ পড়ে বিনিময় নেওয়া কেমন?

উত্তরঃ بسم الله الرحمن الرحيم

ঈসালে সওয়াবের জন্য যদি পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, তাহলে তার বিনিময় দেওয়া-নেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ।

সুত্রঃ মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ১৫৫৩৫, শুআবুল ঈমানঃ ২৬২৫, রদ্দুল মুহতারঃ ৬/৫৬

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 275 জন।