Darul Ifta, Rahmania Madrasah Sirajganj

ভাষা নির্বাচন করুন বাংলা বাংলা English English
ফাতাওয়া খুঁজুন

সওম (রোজা)

ওমরায় সফররত ব্যক্তিদের রোজার বিধান!

ফতওয়া কোডঃ 158-স-03-10-1443

প্রশ্নঃ

১. বাংলাদেশ থেকে এক ব্যক্তি ৩০ শাবান দুপুরের খাবার খেয়ে ৩টার ফ্লাইটে  ওমরার উদ্দেশ্যে  রওনা হয়ে স্থানীয় সময় বিকেল ৬টায় জেদ্দা পৌঁছে দেখলো ১ম রোজার ইফতারের প্রস্তুতি  চলছে।

২. অন্য ব্যাক্তি ওমরাহ শেষ করে ৩০ রমজানের পরদিন ১ শওয়াল ঈদের সলাত পরে সকাল ৯ টার ফ্লাইটে স্থানীয়  সময় বিকেল ৬টায় ঢাকায় পৌঁছে দেখলো সবাই ৩০তম রোজার ইফতারের প্রস্তুতি  নিচ্ছে।

উপরোক্ত দুই ব্যক্তির করনীয় কী? শরয়ী দলিল সহ জানতে চাই।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

১. ১ম ব্যক্তির জন্য কৰ্তব্য হলো সে পরবৰ্তিতে ঐ দিনের রোজাটা কাযা করবে। তবে কাফফারা দিতে হবেনা।

২. ২য় ব্যক্তির জন্য করনীয় হলো তার যদি ২৯ দিন পূৰ্ন না হয়। তাহলে সে ঐ রোজাটা কাযা করবে। আর যদি ২৯ দিন পুৰ্ন হয় তাহলে তাকে উক্ত দিনের রোজা কাযা করতে হবেনা। তবে দিনের বাকিটা সময় অন্য রোজাদারদের সম্মানে খানাপিনা থেকে বিরত থাকা থাকবে।

সুত্রসমূহ

سنن الترمذي و ابو داود: الصوم يوم تصومون و الفطر يوم تفطرون

در المختار: 2/408

حاشية ابن عابدين: 3/44 فيهم.االاصل في هذه المساءل ان كل من صار في اخر الانهار بصفة لو كان في اول النهار عليها للزمه الصوم فعليه المساك

بدائع الصنائع: كتاب الصوم فصل في حكم الصوم المقت اذا فات عن وقته

حاشية ابن عابدين: 3/386

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 34 জন।

সৌদির সাথে মিল রেখে রোজা-ঈদ উদযাপনের সুযোগ নেই

ফতওয়া কোডঃ 17-সই-27-08-1442

প্রশ্নঃ

সৌদির সাথে মিল রেখে রোজা-ঈদ উদযাপন করা যাবে?

সমাধানঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

রোজা রাখা ও ঈদ উদযাপন চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে, ইসলামে সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশে রোজা রাখা ও ঈদ উদযাপনের সুযোগ নেই। সহীহ মুসলিমের একটি বর্ণনার সারাংশ হলো: ইবনে আব্বাস রাঃ বলেন, সিরিয়ায় চাঁদ দেখা মদীনাবাসীদের জন্য যথেষ্ট নয়। আমরা সিরিয়ার একদিন পর চাঁদ দেখেছি অতএব আমরা আমাদের হিসাব মতে পূর্ণ ৩০ দিন রোজা রেখে যাবো অথবা চাঁদ দেখে রোজা সমাপ্ত করবো। পনেরশত বছর যাবত মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধভাবে এভাবেই রোজা এবং ঈদ উদযাপন করে আসছে। সৌদি আরবের বিন বায, ইবনে উসাইমীন ,সালেহ আল ফাওযান, ইবনে তাইমিয়া এবং হানাফী মাযহাবের শ্রেষ্ঠ হাদীস বিশারদ ইমাম জামাল উদ্দিন যায়লায়ী, আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী, আল্লামা মুফতি তাকি উসমানী সহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বের‌ বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম এবং সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক ইফতা বোর্ড এভাবেই ফাতওয়া দিয়েছেন।

সূত্রসমূহ

صحيح المسلم: 1/384 رقم 1087

سنن النسائي: 1/300 رقم 2110

سنن ابي داود: 1/319 رقم 2332

سنن الترمذي: 3/418 رقم 693

فتاوى اسلامية لابن عثيمين: 2/113

فتاوى علماء البلد الحرام: 285

تبيين الحقائق: 1/321

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 236 জন।

রোজা রেখে গোশতে যদি খাদ্য জাতিয় কোন ইঞ্জেক্শন নেওয়া হয়, তাহলে রোজা নষ্ট হবে না!

ফতওয়া কোডঃ 16-স-23-08-1442

প্রশ্নঃ

রোজা রেখে গোশতে যদি খাদ্য জাতিয় কোন ইঞ্জেক্শন নেওয়া হয়, তাহলে কি রোজা ভেঙ্গে যাবে?

সমাধানঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

রোজা রেখে গোশতে যদি খাদ্য জাতিয় কোন ইঞ্জেক্শন নেওয়া হয়, তাহলে রোজা ভাঙ্গবে না, তবে অতি বিনা প্রয়োজনে এমন ইঞ্জেক্শন নিলে রোজা মাকরুহ হবে।

সূত্রসমূহ

فتاوى رحيمية: 2/38

فتح القدير: 2/257

فتاوى فقيه الملت: 5/442-443

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 200 জন।

নামাযে কুরআনে কারিম দেখে পড়া জায়েয নয়, গরমেও রোজা রাখতেই হবে; মিজানুর রহমান আজহারীর উক্ত ফতওয়া শুধুই গোমরাহী!

ফতওয়া কোডঃ 12-স,সা-14-08-1442

প্রশ্নঃ

মুহতারাম, হযরত মুফতি সাহেব হুজুর, আমার প্রশ্ন হলো যে,

১. আমরা লক্ষ করছি মিজানুর রহমান আজহারী যেই ফতওয়া দিচ্ছেন যে, তারাবিহের সালাতে কুরআন হাতে নিয়ে দেখে পড়া জায়েজ আছে। তাই আমি আপনার কাছে জানতে চাই তার ফতওয়া কতোটুকু ইসলামি শরিয়াত সাপোর্ট করে?

২. তিনি গতকাল ০১/০৫/২০২০ইং তে আবারও লাইভে এসে একটি নতুন ফতওয়া দিলেন যে, রিকশা ওয়ালারা রমজানের সিয়াম এই গরম কালে না রাখে তারা শীতের দিনে রাখবে, চাইলে তারা গরমের দিনে সিয়াম ছেড়ে দিতে পারবে, জায়েজ আছে। তাই হুজুরের নিকট আমার আকুল আবেদন এই যে দুটি ফতওয়া তা শরিয়তের ভাষায় কতটুকো ঠিক তা জানালে উপকৃত হবো।

সমাধানঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

১. মিজানুর রহমান আজহারী মুফতি নন, তার এই ফতওয়া শুধুই গোমরাহী। ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নতসহ সকল নামাযে পবিত্র কুরআনে কারিম দেখে পড়া জায়েয নয়, দেখে পড়লে নামাজ হবে না, আর নামাজে কুরআনের পৃষ্ঠা উল্টালে আমালে কাছিরা হওয়ার কারনে নামাজ হবে না।

২. যারা রিক্সাওয়ালা বা মজদুরীর কঠিন কাজ করে, তাদের উচিত হবে পবিত্র মাহে রমাযানে তারা বিরতি দিয়ে দিয়ে কাজ করবে, কাজের ফাকে একটু আরাম করে নিবে, কারো অধিনস্ত হলে মালিক কর্মচারিকে আরামের সুযোগ দিবে, যদি মালিক এ সুযোগ না দেয় তবুও রোজা রাখতে হবে, মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর গরমের অযুহাতে রোজা ভেঙ্গে শীতকালে রোজা রাখার কথা বলা শরীয়তের ফরজ বিধানের সাথে তামাশার নমান্তর ও গোমরাহী।

তবে পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে, পিপাসার কারনে মৃত্য হয়ে যাবে, তাহলে রোজা ভাঙ্গা যাবে, এবং পরে কাজা করে নিতে হবে।

সুত্রসমূহ

الدر المختار: 2/383-384 لا يجوز أن يعمل عملاً يصل به إلى الضعف، فيخبز نصف النهار ويستريح الباقي، فإن قال: لا يكفيني، كذب بأقصر أيام الشتاء، فإن أجهد الحر نفسه بالعمل حتى مرض فأفطر ففي كفارته قولان، قنية

فتاوی شامی: 2/420 ”(قوله: لا يجوز إلخ) عزاه في البحر إلى القنية. وقال في التا تارخانية: وفي الفتاوى سئل علي بن أحمد عن المحترف إذا كان يعلم أنه لو اشتغل بحرفته يلحقه مرض يبيح الفطر، وهو محتاج للنفقة هل يباح له الأكل قبل أن يمرض؟ فمنع من ذلك أشد المنع، وهكذا حكاه عن أستاذه الوبري، وفيها: سألت أبا حامد عن خباز يضعف في آخر النهار هل له أن يعمل هذا العمل؟ قال: لا ولكن يخبز نصف النهار ويستريح في الباقي، فإن قال: لا يكفيه، كذب بأيام الشتاء؛ فإنها أقصر فما يفعله اليوم اهـ ملخصاً.

(قوله: فإن أجهد الحر إلخ) قال في الوهبانية: فإن أجهد الإنسان بالشغل نفسه فأفطر في التكفير قولين سطروا، قال الشرنبلالي: صورته: صائم أتعب نفسه في عمل حتى أجهده العطش فأفطر لزمته الكفارة، وقيل: لا، وبه أفتى البقالي”۔ (২/ ৪২০، کتاب الصوم، ط: سعید)

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 202 জন।