Darul Ifta, Rahmania Madrasah Sirajganj

ভাষা নির্বাচন করুন বাংলা বাংলা English English
ফাতাওয়া খুঁজুন

আওকাফ, মাসাজিদ ও মাদারিস

মাদরাসার উস্তাদদের যাকাত ফান্ড থেকে বেতন দেয়া ও কোন ফান্ডের খিয়ানতে করনীয়

ফতওয়া কোডঃ 151-আমামা-10-08-1443

প্রশ্নঃ

১. মাদ্রাসার মুহতামিম যাকাত খাওয়ার যোগ্য হলে মাদ্রাসার যাকাত ফান্ড থেকে বেতন/ভাতা/খরচ নিতে পারবেন?

২. আমাদের এলাকার এক মাদ্রাসার মুহতামিম মাদ্রাসার বিবিধ ফান্ড (সাধারণ ফান্ড, মেহমান ফান্ড, নির্মাণ ফান্ড ইত্যাদি) থেকে নিজের প্রয়োজনে অতিরিক্ত টাকা খরচ করেছেন, নির্ধারিত ভাবে কোন ফান্ড থেকে কত টাকা খরচ করেছেন নিজের জন্য সেটা জানা নাই। এখন সে যে পরিমাণ টাকা নিয়েছিলেন সে পরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি টাকা মাদ্রাসায় দিয়ে দিতে চাচ্ছেন, এখন কি এই টাকা নির্ধারিত ফান্ডেই নিতে হবে? নাকি যেকোনো ফান্ডে নিলেই হবে?

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

১. মাদরাসার মুহতামিম, অন্য কোন শিক্ষক বা কর্মচারীদেরকে যাকাত ফান্ড থেকে বেতন/ভাতা দেওয়া জায়েয নেই, চাই তারা যাকাত খাওয়ার উপযুক্ত হোক বা না হোক। তবে এ ক্ষেত্ৰে আসলে যদি কোন শিক্ষক বা কর্মচারী যাকাত খাওয়ার উপযুক্ত হয় তাহলে তাদের নিৰ্ধারিত বেতন ভাতা ছাড়া যাকাত ফান্ড থেকে সহযোগিতা করা যেতে পারে, বেতন ভাতা হিসাবে যাকাত দেওয়া জায়েয নেই।

২. মাদরাসার যাবতীয় ফান্ডের টাকা মুহতামিম সাহেব এবং অন্যান্য শিক্ষক কর্মচারীদের কাছে আমানত স্বরুপ, সুতরাং উক্ত টাকাগুলো যথাযথ হেফাজত করতে হবে এবং মাদরাসার প্ৰয়োজনেই খরচ করতে হবে। নিজের প্ৰয়োজনে মাদরাসার অতিরিক্ত টাকা খরচ করা জায়েজ নয়।

সুতরাং প্ৰশ্নে উল্লেখিত মুহতামিম সাহেব এর জন্য মাদরাসার ফান্ডের টাকা নিজ প্ৰয়োজনে খরচ করা বৈধ হয়নি, তবুও যেহেতু খরচ করেছে এবং কোন ফান্ড থেকে কত টাকা নিয়ে খরচ করেছে তার নিৰ্ধারিত পরিমান জানা নাই, অত‌এব মোট টাকা যে পরিমান খরচ করেছে তা সাধারন ফান্ডে জমা দিবে এবং এ ধরনের কাজ থেকে তাওবাহ করবে। অদূর ভবিষ্যতে যেন এমনটি না হয় সেই দিকে খেয়াল রাখবে।

সুত্রসমূহ

الدر المختار: كتاب الزكاة, ولو دفعها المعلم لخليفته ان كان بحيث يعمل له لو لم يعطه والا فلا وفي ردالمحتار ( قوله والا فلا ) لان المدفوع يكون بمنزلة العوض

الفتاوي الهندية: كتاب الزكاة الباب السابع المصارف

احسن الفتاوي: 4/252

الموسوعة الفقهية: ( تحقيق لفظ الوديعة ) وقد نبه الفقهاء الي تمييز عقد الوديعة واختصاصه من بين ساءر عقود الامانة بان موضوعه و مقصده الاساسي الاءتمان علي الحفظ دون اي غرض اخ كالتصرف او الانتفاع او غير ذلك وذلك لتمضه وتجرده للحفظ فقط

الدرالمختار: 4/494

البحر الرايق: 7/273

الفتاوى الهندية: في كتاب الوديعة

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 114 জন।

শরীয়ত সম্মত উজর না থাকলে মসজিদের জায়গা থেকে প্রতিষ্ঠাকালীন দাতার নাম পরিবর্তন করা যাবে না

ফতওয়া কোডঃ 145-আমামা-26-07-1443

প্রশ্নঃ

১. মসজিদ প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৮৮ সালে, দাতাঃ হাজী আলি আজ্জম
২. জায়গা ওয়াকফ করেছেে এই নামেঃ ‘পূর্ব কালীদাস বেলা কাজীবাড়ি দরজা জামে মসজিদ’
৩. উপরক্ত নামে আরো দুইজন ব্যক্তি জায়গা ওয়াকফ করেছেন।
৪. জায়গাদাতা ১ম ও ২য় ব্যক্তি মারা গেছেন।
৫. কিছু লোক হিংসাত্বক ভাবে আগের দাতাদের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দিতে চায়, এখন দুই পক্ষ হয়ে গেছে।
৬. এখন কি উপরক্ত কিছু লোকের জন্য প্রতিষ্ঠাকালীন নাম পরিবর্তন করা যাবে?

দ্রুত বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

কোন জমিন মসজিদের নামে ওয়াকফ করে হস্তান্তর করার পর এতে ওয়াকফকালীন বৈধ শর্ত ব্যতীত অন্য কোনোরূপ হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারো থাকে না। তবে ওয়াকফকালীন বৈধ কোনো শর্ত থাকলে ভিন্ন কথা। সুতরাং প্রশ্নোক্ত সুরতে শরীয়ত সম্মত কোন ওজর না থাকায় প্রতিষ্ঠাকালীন দাতার নাম পরিবর্তন করা যাবে না।

সুত্রসমূহ

فتاوى الهندية: 2/350 و عندهما: حبس العين على حكم ملك الله تعالى على وجه تعود منفعته إلى العباد؛ فيلزم، و لايباع و لايوهب و لايورث، كذا في الهداية. و في العيون و اليتيمة: إن الفتوى على قولهما، كذا في شرح أبي المكارم للنقاية

البحر الرائق: 5/44 لا يجوز لأحد من المسلمين أخذ مال أحد بغير سبب شرعي

الفقه الاسلامی وادلته: 10/6717 إذا صحّ الوقف خرج عن ملک الواقف ، وصار حبیسًا علی حکم ملک الله تعالی ، ولم یدخل في ملک الموقوف علیه ، بدلیل انتقاله عنه بشرط الواقف (المالک الأول) کسائر أملاکه ، وإذا صحّ الوقف لم یجز بیعه ولا تملیکه ولا قسمته

فتح القدير: 6/203 و عندهما: حبس العين على حكم ملك الله تعالى؛ فيزول ملك الواقف عنه إلى الله تعالى على وجه تعود منفعته إلى العباد؛ فيلزم، و لايباع و لايوهب و لايورث

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 417 জন।

অবুঝ বাচ্চাদের মসজিদে না আনাই উত্তম!

ফতওয়া কোডঃ 125-আমামা,আআ-20-05-1443

প্রশ্নঃ

অবুঝ ছেলেদের নামাজের জন্য মসজিদে নিয়ে যাওয়া কেমন? আল্লামা আজহারীর বয়ান শুনলাম, তিনি নিয়ে যেতে গুরুত্ব দিয়েছেন। আবার হযরত হাসানাইন রা. নামাজের সময় রসুলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাধে উঠতেন, তাই এই বিষরটি বিস্তারিত আমি জানতে আগ্রহী।

সমাধানঃ

بسم اللہ الرحمن الرحیم

বাচ্চা ছেলেদের মসজিদে নামাজের জন্য নিয়ে আসা বা না নিয়ে আসা উভয় ব্যাপরে হাদিসে নির্দেশনা এসেছে। তবে নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী অবুঝ ও ছোট বাচ্চাদের মসজিদে না নিয়ে আসাই উত্তম। বরং প্রথমে তাদেরকে মসজিদের আদব ও শিষ্টাচার, নামাজের মাসাইল সমূহ হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া জরুরী। পাক-নাপাক এর মাসাইল সমূহ গুরুত্বের সাথে শিক্ষা দিয়ে যখন বাচ্চার দ্বারা মসজিদের আদবের খিলাফ কোন কাজ না হবে, বাচ্চার দ্বারা অন্য কোন মুসল্লির নামাজের ক্ষতি না হবে, তখন মসজিদে আনতে কোন সমস্যা নেই।

কোন আলেম কোন মাসআলা বর্ননা করলে পূর্ন ব্যাখ্যার সাথে বর্ননা করা অতিজরুরী, অন্যথায় সাধারন মুসলমানরা বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মিষ্টার আজহারী সাহেব কোন মুফতি নন, আমরা তাকে ভালভাবে কুরআন-হাদিস অধ্যায়ন করে মাসআলা-মাসাইল বর্ননা করার অনুরোধ করবো।

সুত্রসমূহ

سنن ابن ماجة: 1/247 عن واثلة بن الأسقع، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «جنبوا مساجدكم صبيانكم، ومجانينكم، وشراءكم، وبيعكم، وخصوماتكم، ورفع أصواتكم، وإقامة حدودكم، وسل سيوفكم، واتخذوا على أبوابها المطاهر، وجمروها في الجمع

الدر المختار: 1/93 ویحرم إدخال صبیان ومجانین حیث غلب تنجیسهم وإلا فیکرہ قوله یحرم إلخ لما أخرجه المنذري مرفوعًا جَنّبُوا مساجدَکم صِبیَانَکم ومجانینَکم

فتوی الشامیة: 1/486 یحرم …الخ) لما أخرجه المنذري مرفوعاً: جنّبوا مساجد کم صبیانکم… الخ والمراد بالحرمة کراهة التحریم

فيض القدير: 3/351 (جنبوا مساجدنا) وفي رواية مساجدكم (صبيانكم) أراد به هنا ما يشمل الذكور والإناث (ومجانينكم) فيكره إدخالهما تنزيها إن أمن تنجيسهم للمسجد وتحريما إن لم يؤمن

نيل الأوطار: 2/144 (وعن أبي هريرة قال: «كنا نصلي مع النبي صلى الله عليه وسلم العشاء، فإذا سجد وثب الحسن والحسين على ظهره فإذا رفع رأسه أخذهما من خلفه أخذا رفيقا ووضعهما على الأرض، فإذا عاد عادا حتى قضى صلاته، ثم أقعد أحدهما على فخذيه، قال: فقمت إليه، فقلت: يا رسول الله أردهما فبرقت برقة، فقال لهما: الحقا بأمكما فمكث ضوؤها حتى دخلا» . رواه أحمد) . الحديث أخرجه أيضا ابن عساكر وفي إسناد أحمد كامل بن العلاء وفيه مقال معروف، وهو يدل على أن مثل هذا الفعل الذي وقع منه صلى الله عليه وسلم غير مفسد للصلاة.
وفيه التصريح بأن ذلك كان في الفريضة، وقد تقدم الكلام في شرح الحديث الذي قبل هذا.
وفيه جواز إدخال الصبيان المساجد. وقد أخرج الطبراني من حديث معاذ بن جبل قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «جنبوا مساجدكم صبيانكم وخصوماتكم وحدودكم وشراءكم وبيعكم وجمروها يوم جمعكم واجعلوا على أبوابها مطاهركم» ولكن الراوي له عن معاذ مكحول وهو لم يسمع منه، وأخرج ابن ماجه من حديث واثلة بن الأسقع أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «جنبوا مساجدكم صبيانكم ومجانينكم وشراءكم وبيعكم وخصوماتكم ورفع أصواتكم وإقامة حدودكم وسل سيوفكم واتخذوا على أبوابها المطاهر وجمروها في الجمع» وفي إسناده الحارث بن شهاب وهو ضعيف. وقد عارض هذين الحديثين الضعيفين حديث أمامة المتقدم وهو متفق عليه. وحديث الباب وحديث أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إني لأسمع بكاء الصبي وأنا في الصلاة فأخفف، مخافة أن تفتتن أمه» وهو متفق عليه فيجمع بين الأحاديث بحمل الأمر بالتجنيب على الندب كما قال العراقي في شرح الترمذي، أو بأنها تنزه المساجد عمن لا يؤمن حدثه فيها

فتاوی رحیمیة: (سوال  ۱۳۴) ہمارے  یہاں  بعض مصلی اپنے ساتھ چھوٹے بچوں  کو مسجد میں  لاتے ہیں  اور جماعت خانہ میں  بٹھاتے ہیں ، وہ بچے کبھی روتے ہیں ، کبھی شرارت کرتے ہیں  اور گاہے پیشاب بھی کردیتے ہیں ، ان کو کہا جاتا ہے کہ بچوں  کو اپنے ساتھ نہ لاؤ،  اس سے مسجد کی بے حرمتی ہوتی ہے، مگر وہ نہیں  مانتے، ان کی سمجھ میں  آجائے ایسا جواب تحریر فرمائیں ۔ بینواتوجرو ا! (الجواب)مسجد میں  چھوٹے بچوں  کو لانے کی اجازت نہیں  ، مسجد کاادب و احترام باقی نہ رہے گا اور لانے والے کو بھی اطمینانِ  قلب نہ رہے گا ،نماز میں  کھڑے ہوں  گے مگر خشوع وخضوع نہ ہوگا، بچوں  کی طرف دل لگارہے گا ،حضور صلی  اللہ علیہ وآلہ وسلم کا ارشاد ہے: “جنبوا مساجد کم صبیانکم و مجانینکم  …”الخ  اپنی مسجدوں  کوبچوں  اور پاگلوں  سے بچاؤ

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 398 জন।

মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা, মহিলা মাদরাসায় পড়া বা সমর্থন করা কেমন?

ফতওয়া কোডঃ 97-আমামা,তাত-12-04-1443

প্রশ্নঃ মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা, মহিলা মাদরাসায় পড়া বা সমর্থন করা সম্বন্ধে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো!

উত্তরঃ بسم الله الرحمن الرحيم

দৈনন্দিন জীবন যাপন করার মত ইসলামী শিক্ষা অর্জন করা প্রত্যেক নর-নারীর উপর ফরজে আঈন৷ তবে কুরআন-হাদীসের গভীর জ্ঞান তথা শরীয়তের উপর অভিজ্ঞতা অর্জন মুসলিম মিল্লাতের যেকোন সমস্যার সমাধান দেওয়ার মতো উচ্চশিক্ষা গ্রহণ প্রত্যেক যুগে একদল মুসলমানের ওপর ফরজে কিফায়া৷ এ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের দায়িত্ব চৌদ্দশত বছর যাবত পুরুষগনই আঞ্জাম দিয়ে আসছেন৷ শরীয়তের আলোকে এ দায়িত্ব কোন মহিলাকে দেওয়া হয়নি৷ এ কারণে ইসলামের সোনালী যুগ থেকে হাজার বছর পর্যন্ত ইসলামী শিক্ষা অর্জনের জন্য পুরুষদের অসংখ্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হলেও মহিলাদের কোন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়নি৷

আকাবিরগন দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছেন, কিন্ত শুধু নারীদের জন্য আলাদা কোন শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেননি। সত্যই এটার প্রয়োজন হলে অবশ্যই তারা মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করতেন। অনেকে শর্ত-সাপেক্ষে জায়েয বললেও এই ফিৎনার যুগে সকল শর্ত মানা সম্ভব নয় বলে আকাবিরে উলামা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

সুতরাং নারীদের জন্য ইসলামী শিক্ষা ঐ পদ্ধতিতেই হওয়া উচিত, যেটা ইসলামী সোনালী যুগ থেকে এ পর্যন্ত চলে আসছে৷ অপ্রাপ্ত বয়সে পিতার বাড়িতে ফোরকানিয়া মক্তবে শিখবে আর বিবাহের পর স্বামীর দায়িত্বেই তার প্রয়োজনীয় ইলম হাসিল করবে৷

প্রয়োজনে নারীর কোন মাহরাম ব্যক্তি অন্য কোন মাহরাম যিনি আলেম হবেন, অথবা দ্বীনি ইলম সম্বন্ধে অভিজ্ঞ নারী থেকে বর্তমানে ইচ্ছা করলেই খুব সহজে প্রয়োজনীয় ইলম হাসিল করতে পারবে। এজন্য সর্বচ্চ অনাবাসিক বালিকা মাদরাসা প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেয়া যেতে পারে যেখানে নারীরা সকালে এসে বিকালে চলে যাবে।

বর্তমানে সাবালিকা মহিলাদের জন্য পুরুষ শিক্ষকের মাধ্যমে আবাসিক মাহরাম বিহীন বসবাসের মাধ্যমে মহিলা মাদ্রাসার যে প্রচলন ঘটেছে, তা কোন পর্দানশীন ইসলামিক আদর্শবান নারীর কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না৷ যার কারণে দারুল উলুম দেওবন্দসহ পুরো বিশ্বের বিচক্ষণ, অভিজ্ঞ মুফতিগণ প্রচলিত মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, সেথায় অধ্যয়ন করা ও এর সাথে সম্প্রিক্ত থাকাকে দ্বীনী খিদমাত বলে ফতওয়া দেননি৷ এজন্য ফিৎনার এই যুগে মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা, মহিলা মাদরাসায় পড়া বা সমর্থন করা শরীয়ত সমর্থন করে না বিধায় তা পরিত্যাজ্য।

সুত্রঃ খুলাসাতুল ফাতাওয়াঃ ২/৫৩, আল বেনায়াহঃ ২/৪২০, আল কেফায়া মাআ ফাতহুল কাদিরঃ ১/৩১৮, বেশেতী যিওরঃ ১/৯১, জাওয়াহিরুল ফিকাহঃ ৪/১৪৫, ফাতহুল কাদিরঃ ৪/২০৮, তিরমিযি শরিফঃ ৩/৩১০, বাদাইয়ুস সানায়েঃ ১/৬৬৮, তাবয়ীনুল হাকাইকঃ ১/১৪০, আহসানুল ফাতাওয়াঃ ৮/৫৫; ৮/৩২, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়াঃ ৫/৮৯, রদ্দুল মুহতারঃ ১/৫৬৬; ১/৪২, আল বাহরুর রাইকঃ ১/৩৮৫, ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাতঃ ২/৬০-৬৬

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 386 জন।

প্রয়োজনে ব্যক্তিগত জায়নামাজ বা চেয়ার মসজিদে রাখা কেমন?

ফতওয়া কোডঃ 88-আমামা-12-02-1443

প্রশ্নঃ প্রয়োজনে ব্যক্তিগত কোন সামগ্রী মসজিদে রাখা কেমন? মনে করেন আমার ব্যক্তিগত জায়নামাজ বা চেয়ার আমি মসজিদে রেখে দিলাম, এবং প্রয়োজন মতো মসজিদে এসে ব্যবহার করলাম, শরীয়ত এ ব্যাপারে কি বলে?

উত্তরঃ بسم الله الرحمن الرحيم

মসজিদ পবিত্র স্থান, এবং ইবাদতের স্থান, তাই মসজিদকে ইবাদত-বন্দেগী ছাড়া অন্য কোন কাজে ব্যবহারের অনুমতি শরীয়ত দেয়নি, মসজিদে আসার সময় জায়নামাজ নিয়ে আসা যায়, তবে জায়নামাজের উপর নামাজ আদায় শেষে আবার নিয়ে যেতে হবে, যদি চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করতে হয় তাহলে আসার সময় চেয়ার নিয়ে আসবেন নামাজ আদায় শেষে আবার নিয়ে যেতে হবে, মসজিদে রাখার অনুমতি নেই, এগুলো মসজিদে রাখতে হলে মসজিদে ওয়াকফ করে দিতে হবে, আর ওয়াকফ করার সাথে সাথে উক্ত বস্তুর উপর আপনার মালিকানা বাতিল হয়ে যাবে, যে কেউ সুবিধা মত ব্যবহার করতে পারবে, ব্যবহার করার সময় আপনি ব্যবহারকারী ব্যক্তিকে উক্ত বস্তুর জন্য নিজের প্রভাব বিস্তার করা শরীয়ত সম্মত নয়।

সুত্রঃ ফাতহুল কাদীরঃ ৫/৪৪৪, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াঃ ৫/৩২১, ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাতঃ ৯/৩৫

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 210 জন।

মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ফি নেওয়ার হুকুম কি?

ফতওয়া কোডঃ 68-আমামা-4-2-1443

প্রশ্নঃ মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ফি নেওয়া কি বৈধ?

উত্তরঃ بسم الله الرحمن الرحيم

ভর্তি সংক্রান্ত কর্যক্রম পরিচালনার জন্য ছাত্রদের থেকে ভর্তি ফি বাবদ অর্থ গ্রহণ করা বৈধ, কেননা শরয়িতের পরিভাষায় এটাকে তাবাররু বলা হয়ে থাকে যা বৈধ।

সুত্রঃ আদদুররুল মুখতারঃ ৬/৯২, ইমদাদুল ফাতাওয়াঃ ৩/৩৯৪, ইমদাদুল আহকামঃ ৩/৬২৩, ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাতঃ ৯/১৮৪-১৮৫

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 193 জন।

নিযুক্ত ইমামের অজান্তে অন্য ইমাম নিয়োগ অবৈধ!

ফতওয়া কোডঃ 67-আমামা-29-1-1443

প্রশ্নঃ কোন মসজিদের জন্য কমিটি কর্তৃক ইমাম নির্ধারণ করা হলেও, নিযুক্ত ইমামের অজান্তে অন্য ইমাম নিয়োগ করা বৈধ কি? প্রথম ইমাম পূর্বের মাসের বেতন-ভাতা পাবেন কি? যদি কমিটি তা আদায়ে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আদায় না করে, তাতে কমিটির সবার গুনাহ হবে কি?

উত্তরঃ بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়ত সম্মত কোনো কারণ ছাড়া কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত ইমামের অজান্তে অন্য ইমাম নিয়োগ করা বৈধ নয়। আগের ইমাম অবশ্যই তাঁর নির্ধারিত বেতন-ভাতা পাবেন। কমিটি তা আদায় করতে অবশ্যই বাধ্য। অন্যথায় কমিটি গুনাহগার হবে।

সুত্রঃ রদ্দুল মুহতারঃ ৪/৪২৮, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়াঃ ৬/১৭৮, ১২/৪০২ ১/১৩

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 195 জন।

হিন্দু বা ভিন্ন ধর্মের ব্যাক্তির দান মসজিদে গ্রহণ করা যাবে কি না?

ফতওয়া কোডঃ 18-আমামা-05-09-1442

প্রশ্নঃ

কোন হিন্দু বা ভিন্ন ধর্মের ব্যাক্তির দান মসজিদে গ্রহণ করা যাবে কি না?

সমাধানঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

ইসলাম ও মুসলমানদের কোন প্রকার ক্ষতির আশংকা না থাকলে এবং অমুসলিম ব্যাক্তি মসজিদকে পবিত্র মনে করে দান করলে তা গ্রহন করা ও মসজিদে ব্যয় করা যাবে।

সূত্রসমূহ

امداد الفتاوى: 2/664

فتح القدير: 5/417

فتاوى فقيه في الملت: 9/106

والله اعلم بالصواب

দারুল ইফতা, রহমানিয়া মাদরাসা সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।

আপনিসহ এই ফতওয়াটি পড়েছেন মোট 200 জন।